আসাদুজ্জামান আসাদ
“ধর্মব্যবসা চুরি-ডাকাতির চেয়েও ক্ষতিকর। চোর ক্ষতি করে এক-দুইজনের, কিন্তু ধর্মব্যবসায়ী লুট করে পুরো সমাজ। চাঁদাবাজ একমুঠো টাকায় তৃপ্ত, ডাকাত খুশি সামান্য সম্পদে, কিন্তু ধর্মব্যবসায়ী খুলে নেয় মগজ। মাথায় বন্দুক ধরে একবার টাকা পাওয়া যায়, জেল-পুলিশও জুটতে পারে, কিন্তু আল্লাহর নামে মগজ খেয়ে নিলে সারাজীবন আসতে থাকে টাকা!
(খ)
ঘুণপোকা কী করে? প্রথমে কাঠের উপর ডিম পাড়ে। বের হয় বাচ্চা। সেই বাচ্চা তাজা কাঠ, দামী সোফা, ঘরের খুঁটি চুপচাপ খেতে থাকে। খালি চোখে বোঝা যায় না। হঠাৎ একদিন সবকিছু ফোকলা। ধর্মব্যবসায়ী তাই করে। সমাজকে ভেতর থেকে ফোকলা বানিয়ে ফেলে। নবীর নামে, ইসলামের নামে।
(গ)
ফ্যাসিবাদের জন্য যে-হুজুগে জনগোষ্ঠী দরকার, তার প্রধান উৎপাদক ধর্মব্যবসায়ীরা। দান-খয়রাত, ত্রাণ বিতরণ, এগুলো তাদের মুখোশ। আসল কাজ অন্য। ‘সমাজে ভালো বলে বিবেচিত’ জনপ্রিয় কাজ দ্বারা মূল খারাপ কাজগুলো তারা ঢেকে রাখে। স্প্যানিশ ইনকুইজিশন কী করতো? চার্চের মাধ্যমে গরিবদের সাহায্য দিতো, হাসপাতাল বানাতো। গৃহহীনকে গৃহ, কর্মহীনকে কর্ম। কিন্তু আড়ালে মুসলিম, ইহুদী, ও প্রোটেস্টান্টদের বিরুদ্ধে ঘৃণা-বিদ্বেষ উৎপাদন করতো। নিজ পক্ষের আবেগীদের সংঘবদ্ধ করতো। ধর্মব্যবসায়ীরা একই কাজ করছে। ভিন্নমত ও ভিন্ন বিশ্বাসের মানুষের প্রতি হোস্টালিটি নর্মালাইজ করছে।
তাদের অনুসারীরা উগ্র চরমপন্থি। মুখের ভাষা, আচরণ, হামলে পড়ার ধরণ, এগুলো সাক্ষ্য দেয়, ধর্মব্যবসা বাংলাদেশের জন্য গুরুতর নিরাপত্তা হুমকি। নানা ক্ষতিকর ধারণা ও বিশ্বাসের বাণিজ্যিক প্রচারণা ধর্মব্যবসায়ীর হাত ধরে ঘটে। ফাউন্ডেশন খুলে গরিবের ‘মন’ দখলের যে-কার্যক্রম, মানুষের টাকায়, সেটি ধর্মব্যবসার নতুন সংস্করণ। মুসলমানদের উচিত নয় এমন ফাউন্ডেশনে যকাত-ফিতরা দেওয়া।
