একটা এক্সপ্রেসওয়ে বানাতে গিয়ে পুরো পদ্মা সেতু বানানোর খরচ প্রায় ছুঁই ছুঁই, এর চেয়ে বড় তামাশা আর কী হতে পারে। ট্যাক্সপেয়ারের টাকায় বিএনপি-জামাত জোট আবারও সেই চেনা দুঃস্বপ্ন ফিরিয়ে এনেছে, ঠিক ২০০১-০৬ মডেলের লুটপাট আর অযোগ্যতার মহড়া।
মাত্র ২৪ কিলোমিটার সড়কের পেছনে ২৭ হাজার কোটি টাকা গলে পানি হয়ে যাচ্ছে, খোদ পদ্মা সেতুর খরচ ৩২ হাজার কোটি। অথচ এই প্রকল্পের প্রথম দফার বাজেট ছিল ১৬ হাজার কোটি। ৫৪ শতাংশ ব্যয়বৃদ্ধি কোনো দুর্ঘটনা না, এটা পরিকল্পিত দুর্নীতির সফল রূপায়ণ।
টাকার অবমূল্যায়নের দোহাই দিয়ে ৩ হাজার ৭৩৬ কোটি টাকা উধাও। নকশা বদলের নামে আরও ১ হাজার ৭৬৯ কোটি পকেটস্থ। জমি আর ইউটিলিটির নামে ৩ হাজার ৯৮৮ কোটি গায়েব। চায়না এক্সিম ব্যাংকের ঋণের টাকা আর সাধারণ মানুষের করের টাকা যে অকাতরে বিদেশি কোম্পানি আর দালালদের পকেটে ঢালা হচ্ছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
যে প্রকল্প ২০২২ সালে শেষ হওয়ার কথা, সেটা ২০২৬ সালে এসে শেষ হবে ২০৩০ সালে। এর মধ্যে আবার দুই বছর ঠিকাদারের ‘ডিফেক্ট লাইয়াবিলিটি’ সময় ধরা আছে। নাগরিকেরা আকাশপথে উড়বে নাকি এই রাস্তার ওপর গাড়ি চালাবে, সেটাই এখন রহস্য।
বিআইডব্লিউটিএ নাব্যতা বাড়িয়েছে, সঙ্গে সঙ্গে প্রকল্পের খরচও বেড়েছে। রেলওয়ে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা দিয়েছে, তার জন্যও আলাদা টানাটানি। অথচ এই অতিরিক্ত কাজের কোনো স্বচ্ছ অডিট বা জনসমক্ষে জবাবদিহির নামগন্ধ নেই। কেবল অন্ধের মতো টাকা অনুমোদন আর ভায়াগ্রা সেবন পরবর্তী বেগে খরচের রেকর্ড!
বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে সংযোগ দিতে কাওলায় অতিরিক্ত র্যাম্প আর সাভারে যানজট কমাতে ট্রাম্পেট ইন্টারচেঞ্জের কথা বলা হচ্ছে। শুনতে ভালো লাগলেও বাস্তবতা হলো, এই ফালতু সংযোজনগুলোই চূড়ান্ত ব্যয় বাড়ানোর নিখুঁত অস্ত্র। প্রতিটা অজুহাত যেন বিলিয়ন টাকার বিনিময়ে সাজানো।
নিজস্ব অর্থায়ন বেড়েছে ৭৬ শতাংশ, বাইরের ঋণ বেড়েছে ৩৭ শতাংশ। তার মানে ঋণের বোঝা আর করের বোঝা দুটোই চাপবে জনগণের ওপর। বিমানবন্দর থেকে আব্দুল্লাহপুর, আশুলিয়া হয়ে সাভারগামী এই রাস্তা এখন জনগণের গলার ফাঁস হয়ে উঠেছে।
মাত্র ৬৩ শতাংশ ভৌত কাজ শেষ করতেই খরচ হয়ে গেছে প্রস্তাবিত বাজেটের ৫৩ শতাংশের বেশি। বাকি কাজ শেষের আগেই টাকা ফুরিয়ে যাওয়ার এই কীর্তি শুধু ২০০১-০৬ এর জোট সরকারের আমলেই দেখা যেত, যারা এখন ঘাড়ে চেপে বসেছে।
এখন চোখে আঙুল দিয়ে দেখার সময়, ট্যাক্সপেয়ারের ২৭ হাজার কোটি টাকার এই কফিনে চূড়ান্ত পেরেক ঠুকতে যাচ্ছে একনেক। প্রশ্ন একটাই, পদ্মা সেতুর সমান তদারকি আর সততা কি এই প্রকল্পে ছিল? উত্তরটা চারদিকের নিস্তব্ধতায় পরিষ্কার।
