গোপালগঞ্জে আদালত চলাকালে নারী শিক্ষানবিশ আইনজীবীকে পেপারওয়েট ছুড়ে আহত করার ঘটনায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. সুজন মিয়াকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাঁকে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের বিচার শাখা-১-এ যোগ দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (প্রশাসন-১) এ এফ এম গোলজার রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বিচারক সুজন মিয়াকে প্রত্যাহারের প্রতিক্রিয়ায় জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম জুলকদর রহমান বলেন, বিচারক সুজন মিয়া সঠিক শাস্তি পেয়েছেন। তবে তাঁকে শুধু প্রত্যাহারই নয়, এই ন্যক্কারজনক ঘটনার জন্য তাঁকে বিভাগীয় শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
গোপালগঞ্জে বিচারকের অপসারণ দাবিতে আইনজীবীদের বিক্ষোভগোপালগঞ্জে বিচারকের অপসারণ দাবিতে আইনজীবীদের বিক্ষোভ
এর আগে সকালে বিচারক মো. সুজন মিয়াকে প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন আইনজীবীদের একাংশ। মিছিলটি বেলা পৌনে ১১টার দিকে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের নিচ থেকে শুরু হয়ে জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
গোপালগঞ্জে শিক্ষানবিশ নারী আইনজীবীর মাথা ফাটালেন বিচারকগোপালগঞ্জে শিক্ষানবিশ নারী আইনজীবীর মাথা ফাটালেন বিচারক
প্রসঙ্গত, গতকাল বুধবার আদালত চলাকালে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের কথা বলতে দেখে কাচের পেপারওয়েট ছুড়ে মারেন বিচারক মো. সুজন মিয়া। পেপারওয়েটটি শিক্ষানবিশ নারী আইনজীবী সাবিহা সুলতানার মাথায় গিয়ে লাগে। এতে তাঁর মাথা ফেটে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
নারী আইনজীবীর মাথা ফাটালেন বিচারক
গোপালগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচার চলাকালে এক বিচারকের ছুড়ে মারা কাচের পেপারওয়েটের আঘাতে সাবিহা সুলতানা নামে এক শিক্ষানবিশ নারী আইনজীবী গুরুতর আহত হয়েছেন। গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. সুজন মিয়ার এজলাসে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় আইনজীবী মহলে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।
পেপারওয়েটটি সরাসরি সেখানে অবস্থানরত শিক্ষানবিশ আইনজীবী সাবিহা সুলতানার মাথায় গিয়ে আঘাত করে
পেপারওয়েটটি সরাসরি সেখানে অবস্থানরত শিক্ষানবিশ আইনজীবী সাবিহা সুলতানার মাথায় গিয়ে আঘাত করে
আদালত সূত্রে ও আইনজীবীদের দেওয়া তথ্যমতে, বুধবার দুপুরে গোপালগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এ বিচার কার্যক্রম চলছিল। ওই সময় আদালত কক্ষের পেছনের সারিতে বসা বিচারপ্রার্থীরা কথা বলছিলেন। একই সময়ে কয়েকজন আইনজীবীও কথা বলছিলেন। এতে অসন্তুষ্ট হয়ে আদালতের বিচারক সুজন মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং নিজের টেবিল থেকে কাচের পেপারওয়েট ছুড়ে মারেন। পেপারওয়েটটি সরাসরি সেখানে অবস্থানরত শিক্ষানবিশ আইনজীবী সাবিহা সুলতানার মাথায় গিয়ে আঘাত করে। এতে তার মাথা ফেটে যায়। ঘটনার পরপরই এ নিয়ে আদালত কক্ষে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। উপস্থিত অন্যান্য আইনজীবী দ্রুত সাবিহা সুলতানাকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সেখান থেকে তাকে গোপালগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও নজিরবিহীন ঘটনা উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ। জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও জিপি এম এ আলম সেলিম এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুলকদর রহমান অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্ত বিচারকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
