কলকাতায় প্রায় দুই দশক পর ফিরে আসা বাংলাদেশি লেখক ও অধিকারকর্মী তসলিমা নাসরিন আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি এই নিষেধাজ্ঞাকে গণতন্ত্রবিরোধী পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন এবং শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
“কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হওয়া উচিত নয়”
নাসরিন বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলকেই নিষিদ্ধ করা উচিত নয়, এবং শেখ হাসিনাকে যেভাবে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল তা প্রশ্নবিদ্ধ। তার মতে, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল এবং এটি গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে একটি পদক্ষেপ। তিনি অবিলম্বে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বহু আওয়ামী লীগ কর্মীকে নির্যাতন ও হত্যা করা হয়েছে।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে নাসরিন জানান, হাসিনা নিজে দেশে ফিরতে চান, তবে তা আদৌ সম্ভব হবে কিনা তিনি নিশ্চিত নন। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, তার নিজের দেশে ফেরার ব্যাপারে কারও আগ্রহ নেই।
মাদ্রাসা বন্ধ করে সাধারণ শিক্ষার আহ্বান
কট্টরপন্থী ইসলামি মতাদর্শের কড়া সমালোচনা করে নাসরিন বলেন, মাদ্রাসাশিক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজন নেই, কারণ তার ভাষায় এটি জঙ্গিবাদ তৈরি করে। তিনি সব মাদ্রাসাকে সাধারণ (সেক্যুলার) স্কুলে রূপান্তরের আহ্বান জানান।
১৯ বছর পর পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাকে কলকাতায় আমন্ত্রণ জানানোয় তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং জানান, এই আমন্ত্রণকে তিনি রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন না। মুখ্যমন্ত্রীকে তিনি নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়ার জন্যও ধন্যবাদ জানান।
জয় গোস্বামীর ভাষণে বিঘ্ন নিয়ে উদ্বেগ
কলকাতায় তার প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে আয়োজিত একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট বাংলা কবি জয় গোস্বামীর বক্তব্যের সময় একদল দর্শক হট্টগোল করে ভাষণ ব্যাহত করেন। এই ঘটনায় নাসরিন মঞ্চে নীরব দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হন।
এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঘটনাটি শুধু জয় গোস্বামীর নয়, তারও অপমান বলে মনে হয়েছে তার কাছে। মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু প্রত্যেকের বক্তব্য রাখার অধিকার আছে বলে তিনি মন্তব্য করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর ঘটবে না।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে নিয়ে মন্তব্য
বাংলাদেশে সাবেক ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতার প্রসঙ্গে নাসরিন দাবি করেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়ানোর কারণেই তাকে টার্গেট করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিপদগ্রস্ত হিন্দুদের সাহায্য করার মূল্য তাকে চোকাতে হয়েছে এবং স্বাধীনচেতা ব্যক্তিরা ক্রমাগত নিশানা হচ্ছেন, যার ফলে অনেককে দেশ ছাড়তে বাধ্য হতে হয়েছে।
