দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে শাসকগোষ্ঠীর অপেশাদারিত্ব, অদক্ষতা, অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি এবং অদূরদর্শিতার কারণে বাংলাদেশ আজ এক অন্ধকারের যুগে প্রবেশ করেছে। তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে সমগ্র দেশের জনজীবন স্তব্ধ ও অর্থনীতি ধ্বসে পড়ার উপক্রম হয়েছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর চরম ব্যর্থতা ও তাদের দুঃশাসনে সৃষ্ট জনভোগান্তির তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাচ্ছে।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সবসময় জনকল্যাণমুখী নীতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেশ পরিচালনা করেছে। এরই ফলে ২০০৯ সাল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্রমেই বাড়িয়েছিল এবং শতভাগ বিদ্যুতায়ন করেছিল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার সর্বদা জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছে। আওয়ামী লীগ দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে সফলতার সঙ্গে নিরবচ্ছিন্নভাবে জনগণকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছিল। আওয়ামী লীগের সময় গ্যাস,বিদ্যুৎ ও সারের দাবিতে মানুষকে রাস্তায় নামতে হয় নাই। অথচ সারের দাবিতে আন্দোলনরত কৃষক ও বিদ্যুতের দাবিতে আন্দোলনরত মানুষের বুকে গুলি চালানোর ইতিহাস বিএনপির আছে। ২০০১ সালে পরিসংখ্যান অনুযায়ী আওয়ামী লীগ বিদ্যুৎ উৎপাদন ৪২০০ মেগাওয়াটে উত্তীর্ণ করেছিল। এরপর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে খালেদা জিয়ার বিএনপি সরকারের সীমাহীন লুটপাট ও দুর্নীতির কারণে ২০০৬ সালে তা ৩২০০ মেগাওয়াটে নেমে আসে। মানুষকে বিদ্যুৎ না দিতে পারলে খাম্বা বসিয়ে জনগণের টাকা আত্মসাত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এসে যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট দূর হয় এবং উৎপাদন সক্ষমতা ২৫০০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়।
আজ বিএনপি সরকারের কাঁধে ইতিহাসের ভূত চেপে বসেছে। তাদের অদক্ষতা, অব্যবস্থাপনা ও লুটপাটের কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে চরম সংকট দেখা দিয়েছে। অতীতের মতোই তারা বাংলাদেশকে পেছনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। মানুষের বাসাবাড়িতে ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিল। চরম লোডশেডিং। একদিকে গ্যাসের সংকট, অন্যদিকে সেটার মূল্যবৃদ্ধি। এ যেনো জনগণের সঙ্গে এক প্রহসন। আবার গ্যাস সংকটকে পুঁজি করে চলছে লুটপাট ও ঘুষ বাণিজ্য। গ্যাস পেতে দিতে হচ্ছে প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণ ঘুষ। এসব সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে সরকারি দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা। কলকারখানায় বিদ্যুৎ সরবরাহ দিতে না পারায় উৎপাদন বন্ধ। ইতিমধ্যে লাখ লাখ শ্রমিক চাকরি হারিয়েছে এবং আরও অসংখ্য মানুষ চাকরি হারানোর শঙ্কায়। কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না, বরং সংকুচিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ব্যাহত। সর্বোপরি জনজীবন বিপর্যস্ত এবং অর্থনীতিতে ধ্বস।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনে করে, একটি গণতান্ত্রিক সরকার কখনোই জনগণকে সংকটে রেখে বিনাকারণে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি দমনে নিয়োজিত হতে পারে না। সরকার জ্বালানি নিরাপত্তায় ব্যর্থ হয়ে ও সংকট সৃষ্টি করে, তার দায় বিগত মহাজোট সরকারের ওপর চাপানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। কিন্তু আমরা মনে করি, জনগণ তাদের অভিজ্ঞতা দিয়ে পার্থক্য নিরূপণে সক্ষম। আজকের সংকট বিগত ২ বছরের প্রশাসনিক অক্ষমতা ও দুর্নীতিগ্রস্ত নীতির কুফল।
আমরা মনে করি, একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান দায়িত্ব জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং জনমানুষের জীবন-যাত্রা সহজকরণ ও মানোন্নয়ন নিশ্চিত করা। অবিলম্বে এই সরকারকে মানুষের বাসাবাড়িতে, শিল্প কারখানায়, সেবা প্রতিষ্ঠানসহ সব জায়গায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ করতে হবে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ভূতুড়ে বিল করে জনগণের পকেট কাটার ফন্দি-ফিকির বন্ধ করতে হবে। সংকটকে পুঁজি করে সরকারের ছত্রছায়ায় ঘুষ বাণিজ্য করে জনগণকে ‘মড়ার উপর খাড়ার ঘা’ দেওয়া বন্ধ করতে হবে। নতুবা ব্যর্থতার দায় নিয়ে দায়িত্ব ত্যাগ করতে হবে।
একই সাথে আমরা দাবি করছি, সকল রাজবন্দির মুক্তি দিতে হবে – সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে, বেআইনি আইসিটি আদালতে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অবৈধ রায় প্রত্যাহার করতে হবে, আওয়ামী লীগ ও সকল সহযোগী সংগঠনের কার্যক্রমের ওপর অবৈধ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।
জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।
