দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দেশে ফেরার প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, প্রিয় দেশবাসী কষ্টে থাকা অবস্থায় তিনি দূরে থাকতে পারেন না।
তিনি জানান, গ্রেপ্তার বা কারাবরণের ঝুঁকি থাকলেও, এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া রায় কার্যকর করার চেষ্টা হলেও, ভয় তাঁর জনগণের প্রতি কর্তব্য নির্ধারণ করতে পারে না।
তিনি বলেন, বহু আগেই ব্যক্তিগত নিরাপত্তার হিসাব-নিকাশের ঊর্ধ্বে চলে গেছে আমার জীবন।
নিজের অতীত সংগ্রামের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা জানান, ১৯৭১ সালে তিনি মায়ের সঙ্গে কারাবন্দি ছিলেন এবং তাঁর ছেলে জয় বন্দি অবস্থায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালে পরিবার হারানোর পর ছয় বছর তিনি নির্বাসনে কাটান বলে জানান।
দেশে ফেরার পর সামরিক শাসন, স্বৈরাচার ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, তাঁর ওপর ১৯ বার হত্যা প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে এবং ২০০৪ সালের ২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলাও তাঁকে দমাতে পারেনি।
শেখ হাসিনা বলেন,
“আমি আমার নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত নই। আমি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত। আমি ফিরতে চাই কারণ বাংলাদেশের মানুষের নিরাপত্তা, উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও শান্তি প্রাপ্য। তারা এমন একটি রাষ্ট্রের যোগ্য যা তাদের রক্ষা করবে, এমন একটি অর্থনীতির যোগ্য যা তাদের সুযোগ দেবে এবং এমন একটি গণতন্ত্রের যোগ্য যা তাদের অধিকার দেবে।”
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তাঁর প্রত্যাবর্তন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয়, বরং এর উদ্দেশ্য বাংলাদেশকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা এবং দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি, ধর্মনিরপেক্ষতা ও স্থিতিশীলতার পথ পুনরুজ্জীবিত করা।
বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, “আমি একটি উদ্দেশ্যেই বাংলাদেশে ফিরতে চাই: জনগণের পাশে দাঁড়াতে এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়তা করতে। জনগণই সকল শক্তির উৎস। আমি তাদের বিশ্বাস করি, তাদের ওপর আস্থা রাখি, তাদের ভালোবাসি এবং আমি তাদের কাছেই ফিরব। জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।”
