ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ায় আয়োজিত আন্তর্জাতিক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে সরকারের শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ঘৃণার রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করে আশার রাজনীতিকে আলিঙ্গন করার আহ্বান জানিয়েছেন।
নয়াদিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ার এক অনুষ্ঠানের ফাঁকে দেওয়া বক্তব্যে নওফেল জানান, নিষেধাজ্ঞা ও সরকারি বিধিনিষেধ সত্ত্বেও দল সক্রিয়ভাবে তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পুনরায় শুরু করবে।
তিনি বলেন, বিভক্তির পরিবর্তে ঐক্য, ভয়ের পরিবর্তে আত্মবিশ্বাস, বর্জনের পরিবর্তে অংশগ্রহণ এবং প্রতিশোধের পরিবর্তে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরাকে “হিইল অ্যান্ড হোপ”—নিরাময় ও আশার সুযোগ হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়ে নওফেল বলেন এই মুহূর্তকে লড়াই ও পতনের উপলক্ষ না বানিয়ে জাতি হিসেবে একত্র হয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর এবং অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
তিনি সতর্ক করে দেন, এখনই যদি এই পথে অগ্রসর না হওয়া যায়, তবে আরও ভয়াবহ ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে।
বাংলাদেশ যেন ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত না হয়—এই আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, চরমপন্থী ও উগ্রবাদীদের পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এর মাশুল দিতে হবে চিরকাল।
তিনি সবাইকে একসঙ্গে দাঁড়িয়ে অন্ধকার শক্তিকে পরাজিত করার আহ্বান জানিয়ে “জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু” স্লোগানের মাধ্যমে বক্তব্য শেষ করেন।
এই সংবাদ সম্মেলনের মূল আকর্ষণ ছিল শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল বক্তব্য, যেখানে তিনি তার দেশে ফেরার পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। এতে সাজেব ওয়াজেদ জয়, শাকিব আল হাসানসহ আরও কয়েকজন বক্তা অংশ নেন।
গত নভেম্বরে ঢাকার একটি আদালত শেখ হাসিনাকে ২০২৪ সালের সরকারবিরোধী দাঙ্গায় দমন-পীড়নের জন্য প্ররোচনা, হত্যার নির্দেশ এবং নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন।
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বর্তমানে স্থগিত রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটেই নওফেলের এই বক্তব্য গুরুত্ব বহন করছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
