মানিকগঞ্জে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কর্মী শিহাব হোসেনের মৃত্যুকে নৃশংস রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।
আজ ১০ই আগস্ট. সোমবার বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের সই করা এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার জাগীর মেঘশিমুল এলাকার পবিত্র শহিদ মিনারের বেদিতে শুয়ে থাকা ছাত্রলীগের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী, মাত্র ১৫ বছর বয়সী কিশোর শিহাব হোসেনের রক্তাক্ত দেহ জাতীয় বিবেককে স্তব্ধ, রক্তাক্ত ও অপমানিত করেছে।
ছাত্রলীগ জানিয়েছে, গণমাধ্যমের মাধ্যমে ‘কৃত্রিম চাদর’ দিয়ে ঘটনাটি ভিন্নভাবে উপস্থাপন কিংবা হত্যাকাণ্ডকে ‘আত্মহত্যা’ হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার যেকোনো প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক প্রচেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।
সংগঠনটি স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য ও শোকাহত পরিবারের বক্তব্যের বরাত দিয়ে ঘটনাটিকে পরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি মাংসের দোকানে শ্রমের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করা শিহাবকে রাজনৈতিক মতাদর্শ ও ছাত্রলীগের পতাকাতলে তার নির্দিষ্ট অবস্থানের কারণে উগ্রবাদীদের দানবিক হিংস্রতার শিকার হতে হয়েছে।
শহিদ মিনারের মতো পবিত্র স্থানে মরদেহ ফেলে রেখে সেটিকে আত্মহত্যা হিসেবে সাজানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে ছাত্রলীগ।
সংগঠনটির ভাষ্য, এতে ‘খুনিচক্রের ধৃষ্টতা ও পৃষ্ঠপোষকতা’ প্রকাশ পেয়েছে।
বিবৃতিতে গত দুই বছরে দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যা, ‘পৈশাচিক নির্যাতন’ ও ফ্যাসিবাদের উত্থানের অভিযোগ তুলে শিহাবের হত্যাকাণ্ডকে তারই পুনরাবৃত্তি হিসেবে দাবি করা হয়।
ছাত্রলীগ বলেছে, শিহাব হত্যার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত সত্য আড়াল করা কিংবা খুনিদের রক্ষার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে শিহাবের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বলা হয়, হত্যাকাণ্ডের মুখোশ উন্মোচন এবং প্রতিটি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাবে।
