২০০৪ সালের ২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলা বাংলাদেশের ইতিহাসের নৃশংস কলঙ্কিত অধ্যায়। এই হামলা আমাদের গণতান্ত্রিক রাজনীতিকে ধ্বংস করে সংঘাতের রাজনীতিকে আবারও মূলধারায় নিয়ে আসে, যার সূচনা হয়েছিল ১৫ই আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যার মাধ্যমে। আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়, বাংলাদেশে আমরা নাকি গণতন্ত্র হত্যা করেছি। নতুন প্রজন্মকে বলতে চাই, তোমরা নির্মোহভাবে ইতিহাস চর্চা কর; দেখ ১৫ই আগস্ট কারা করেছে? সুরক্ষিত কারাগারে কারা জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করেছে? কারা সামরিক শাসন কায়েম করে অবৈধভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছিল? কারা ইনডেমনিটি আইন করেছিল? কারা কিংস পার্টি গঠন করেছিল? কারা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে গ্রেনেড মেরে নির্মূল করে নিজেদের ক্ষমতা নিরঙ্কুশ করতে চেয়েছিল?
এই বিস্মরণযোগ্য দিনে আমি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২১শে আগস্টের ভয়াবহ হামলায় শহীদ হওয়া সকল নেতাকর্মী ও নিরীহ মানুষকে। একই সাথে, যারা হামলায় পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন এবং আজীবন যন্ত্রণা বহন করছেন, তাদের প্রতি রইল আমার গভীর সমবেদনা।
বাংলাদেশকে স্বাধীনতাপরিপন্থী রাজনৈতিক ধারায় যারা পরিচালিত করতে চেয়েছে বারবার, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর তারাই রাজনৈতিক মঞ্চে আবির্ভূত হয়। মানুষের চোখে ধুলো দিয়ে আমাকে হত্যা ও আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার চক্রান্তই হচ্ছে পাঁচই আগস্টের প্রধান উদ্দেশ্য। এর আরও প্রমাণ, ৫ই আগস্টের পর থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মী হত্যা; তারা শারীরিক হামলা ও ভিত্তিহীন মামলার শিকার হচ্ছেন।
অতীতের মতো সকল বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা এবং একটি অসাম্প্রদায়িক, আধুনিক ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে আমরা অবিচল।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
আঁধার কেটে ভোর হোক
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।
