একবছর আগে পোস্টটি দিয়েছিলাম। কিছু কি ভুল লিখেছিলাম? বিদায় নিয়েছে প্রতারক ইউনুস, মঞ্চে এখন লন্ডন ষড়যন্ত্রের বোঝাপোড়াতেই গ্রেনেড হামলার কুশীলব মিস্টার টেন পার্সেন্ট জাঁকিয়ে বসেছে। কোনো পার্থক্য কি দেখা যায়?
আওয়ামী লীগকে বিএনপি-জামাত-ইউনূসের কেন এতো ভয়? ভয়ের প্রতিক্রিয়ার কিছু উদাহরণ –
– বেঈমান সেনাপ্রধান এবং জোর করে বসানো বিএনপির প্রধান বিচারপতির সলাপরামর্শ হলো, আর পরদিনই হাইকোর্ট তারেক সহ সকল *হত্যা*কারী, সহযোগী এবং নির্দেশদাতাকে বেকসুর খালাস করে দিলো। অর্থাৎ আওয়ামী লীগ দলটিকে নেতৃত্বশূন্য করে দেওয়ার চেষ্টা করা *খু*নি*দের কোনো শাস্তি পেতে হবে না।
– সাথে সাথেই পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলে দিলেন তারেক চাইলেই ট্র্যাভেল ডকুমেন্ট দেওয়া হবে।
– প্রতিদিনই দেশের সর্বত্র মব-সন্ত্রাস চলছে। এমন কি ইউনূসের ‘সোনার ডিম পাড়া রাজঁহাস’ জোবরা গ্রামটিও রেহাই পায় নি। (ইউনুস অবশ্য সামান্য দুঃখও প্রকাশ করে নি) তবে সব চাইতে ভয়ঙ্কর হলো জামাতি-বিএনপির উকিল নামের দুর্বৃত্তরা গ্রেফতারকৃত আসামিদের উপরে এজলাসে কিংবা এজলাসে নেওয়ার পথেই শারীরিক হামলা করছে। আজ এজলাসে গ্রেফতারকৃত সাংবাদিকের উপরেও হামলা হয়েছে, বিচারক খাসকামরায় পালিয়ে গিয়েছেন। দেশে লক্ষ লক্ষ আওয়ামী লীগ সমর্থকের উপরে মিথ্যা মামলা, বিশেষ করে হত্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কেউ পাগল না হলে আত্মসমর্পণ করার প্রশ্নই আসে না। কাজেই তাদের ফেরারী ঘোষণা করে দিতে অসুবিধা নেই।
– দল হিসেবে আওয়ামী লীগ নির্বাচন করতে পারবে না, তবুও ভয়। যদি স্বতন্ত্র নির্বাচন করে জয়ী হয়? কিংবা অন্য কোনো দল যেমন জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচন করে আসে? তেমনটি হলে ৪ ভাগ জনসমর্থন নিয়ে জামাত ও ১ ভাগেরও কম জনসমর্থন নিয়ে দুর্বৃত্তের দল এনসিপি হাওয়ায় উড়ে যাবে। বিএনপি এতটাই লুটতরাজ করছে যে তাদের ত্রিশভাগ ভোটও অক্ষুন্ন থাকার নয়। এই পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ ঠেকানোর একটাই পথ, তাদের কোনো অবস্থাতেই কোন ভাবে নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না। সেইজন্যই বশংবদ নির্বাচন কমিশন তাদের নিজেদের ফেলা থুতু নিজেরাই গিলে ফেলে ফরমান জারি করেছে পলাতক অবস্থায় নির্বাচন করতে পারবে না। ব্যাপারটাকে আরেকটু জোরদার করার জন্য আদালতে গ্রেফতারকৃতদের উপরে হামলা করে আবার মনে করিয়ে দেওয়া সারেন্ডার করলে ‘খবর আছে’।
– কেবল আওয়ামী লীগ নয়, ছাত্রলীগকেও ভয়। ছাত্রলীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেও ভয় যদি ছাত্রলীগ বামপন্থীদের উপরে ভর করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশদ্রোহী জামাতি ভিসি এর আগে দেশবরেণ্য চিত্রশিল্পী রফিকুন নবীকে অপমান করে সভাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য করেছে, অথচ চারুকলার সেই সভায় রফিকুন্নবীই ছিলেন প্রধান অতিথি। ভিসি নামের এই দুর্বৃত্ত বিভিন্ন কলাকৌশল করছে শিবিরকে ডাকসুতে বিজয়ী করার। এর মধ্যে একটি হলো পাঁচদিনের ছুটির মাঝে ডাকসু নির্বাচন করার, যখন ঢাকার বাইরের সব ছাত্রছাত্রীই বাড়ি চলে যাবে, দলের নির্দেশে থেকে যাবে ক্যাডারভিত্তিক সংগঠন শিবিরের সমর্থকরা।
– এর সবকিছুই ভয় থেকে, সেই ভয় ঢাকবার জন্যই ভয় ও ত্রাসের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
– জোবরা গ্রামে সন্ত্রাস সৃষ্টি করে লুটপাট করায়ও ইউনুস সামান্যতম দুঃখ প্রকাশ করে নি। নাসিরুদ্দিন হোজ্জার সেই গল্পটি মনে পড়ে গেলো। এই নিয়ে আমিও তৎসম শব্দবহুল একটি লেখা লিখেছিলাম। আমার লেখা একটি বাক্য, ‘মৎস্যই যখন ধৃত হইয়া গিয়াছে তখন জাল দিয়া আর কি হইবে’। কৈশোর থেকেই ধান্দাবাজ ইউনুস ‘জোবরা গ্রামের সুফিয়া বেগমকে’ বিক্রি করেই এতদূর এসেছে, আর কত?
– ১৯৮৮ সালের এবং ছিয়ানব্বুইয়ের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের কথা কি কারো মনে নেই?
– আওয়ামী লীগ শত প্রতিকূলতার মাঝে বারবার ফিরে এসেছে। আর কি আসবে না? চুয়ান্নর এক ধাক্কাতেই ধর্মভিত্তিক দল মুসলিম লীগ কুপোকাত হয়ে গিয়েছিলো। জাতীয়তাবাদী দল আওয়ামী লীগের ইতিহাস ভিন্ন। ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ ফিরে আসলে আওয়ামী লীগও ফিরে আসবে।
‘তোমরা ভয় দেখিয়ে করছো শাসন, জয় দেখিয়ে নয়,
সেই ভয়ের টুটি ধরবো টিপে, করবো তারে লয়।’
(আওয়ামীলীগ পেইজ)
