বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের তহবিল আত্মসাত্ নিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা, শেখ রেহানাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে মেটিকুলাস ডিজাইনের মাধ্যমে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে তথাকথিত অন্তর্বর্তীকালীন ইউনুস সরকার দেশে যে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার ও দমন-পীড়নের নীতি অবলম্বন করেছিল, আশা করা গিয়েছিল বিএনপি সরকারের আমলে হয়তো তার নিরসন ঘটবে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে বর্তমান বিএনপি সরকার ইউনুসের পদাঙ্ক অনুসরণ করে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিনা কারণে গ্রেপ্তার, জেলখানায় পরিকল্পতভাবে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হত্যা করছে। এখানেই শেষ নয়, তারেক রহমান তার অতীতের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার পথেই হাঁটছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯৯৪ সালের ১১ এপ্রিল বাঙালির স্বাধীনতার আতুরঘর ধানমন্ডি ৩২ নাম্বারের বাড়িটিকে ঘিরেই প্রতিষ্ঠিত হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট। ট্রাস্টের অধীনস্ত বঙ্গবন্ধু ভবনটিতে ১৯৯৪ সালের ১৪ আগস্ট গড়ে তোলা হয় ‘বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর’। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ১৫০ কোটি মূল্যমানের এই বাড়িটি ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে ভোগ-দখল না করে জাদুঘর প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের হাতে তুলে দিয়েছিলেন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা এবং বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ এই ঐতিহাসিক জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন এবং অভিজ্ঞতা নিয়েছেন ইতিহাসের এক অমূল্য অধ্যায়ের। এই ট্রাস্টের মাধ্যমে বিভিন্ন রকমের জনহিতকর ও সেবামূলক কার্য্ক্রমও পরিচালনা করা হয়। এখানে উল্লেখ্য যে এই ট্রাস্ট-এর টাকা ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট করে রাখা আছে যেখান থেকে স্বাস্থ্য সেবা, শিক্ষা সহায়তা সহ বিভিন্ন খাতে এই ট্রাস্ট থেকে অর্থ ব্যয় করা হয়। ট্রাস্টের পক্ষ থেকে মেধাবী ও গরিব ছাত্র-ছাত্রীদের বৃত্তি প্রদান, ২১আগস্ট গ্ৰেনেড হামলায় নিহতদের পরিবার ও আহতদের মাসিক অর্থ প্রদান, দুঃস্থ অসহায় মানুষ ও প্রতিবন্ধীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট থেকে অর্থ প্রদান করে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে একটি ফান্ড গঠন করা হয়। মহামারি কোভিড-১৯ এর সময় এই ফান্ড থেকে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মাধ্যমে অসহায় মানুষদের সাহায্য দেয়ার জন্য অর্থ বরাদ্দ দেয়া হতো। বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট থেকে টাকা দিয়ে ভূমিহীন মানুষের বাড়ি নির্মাণের জন্য আরো একটি ফান্ড গঠন করা হয় যেখান থেকে তাদেরকে জমি ক্রয়ের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেয়া হতো।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ইউনুসের জঙ্গিবাদী সরকার ও বিএনপি-জামায়াত মিলে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় মব সন্ত্রাস তৈরি করে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর ও ট্রাস্ট লুটপাট করে ও পুড়িয়ে ফেলে এবং বাড়িটি ভেঙ্গে ফেলে। এটি ছিল বাঙালি জাতির মন থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলার এক হীন চক্রান্ত যা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
সেই চক্রান্তের ধারবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, যারা নিঃস্বার্থভাবে নিজেদের সম্পত্তি দান করে দিয়েছে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাদের বিরুদ্ধে মেমোরিয়াল ট্রাস্টের তহবিলের অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে যে নিবন্ধিত ঠিকানায় দাপ্তরিক কার্যক্রমের অস্তিত্ব নাকি পাওয়া যায় নাই, এমনকি টাকা খরচের স্বপক্ষে বৈধ ভাউচার বা প্রমাণ তারা পায় নি।
এর চেয়ে হাস্যকর অভিযোগ আর কী হতে পারে?
যে ভবনটি পুড়িয়ে ফেলা হলো, গুড়িয়ে ফেলা সেখানে দপ্তরের অস্তিত্ব বা প্রয়োজনীয় দলিল-দস্তাবেজ বা ডকুমেন্ট কীভাবে পাওয়া সম্ভব?
যেখানে ট্রাস্টের ব্যাংক একাউন্টটি সরকার নিজেই ফ্রিজ করে রেখেছে, সেখানে ট্রাস্টের নামে জমাকৃত টাকা কীভাবে আত্মসাৎ হয়?
যে কোন সুস্থ, বিবেকবান মানুষই বুঝবে যে অভিযোগটি উত্থাপিত হয়েছে, সেটি আসলে আরেকটি মিথ্যা মামলা দায়েরের অজুহাত ছাড়া কিছু নয়। এবং এটিও কারো বুঝতে অসুবিধা নেই যে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের এতিমের টাকা মেরে দেয়ায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে সাজা হয়েছিল, তার প্রতিশোধ নিতেই তারেক রহমানের নির্দেশে এই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অথচ ট্রাস্টের সহায়তায় যেসব ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনা করতো আজকে তাদের শিক্ষাজীবন ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন ঘটনায় আহত ও নিহতদের পরিবার যারা এই ট্রাস্টের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা নিয়ে জীবনধারণ করতো তারা আজকে দুর্বিসহ জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, জনগণের সহায়তায় ৩২ নাম্বারে আবারো বঙ্গবন্ধু জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হবে, মেমোরিয়াল ট্রাস্টের মাধ্যমে সেবামূলক কার্যক্রম আবারো পরিচালিত হবে এবং এই সরকারকে প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে এইসব ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলার জবাব জনগণই একদিন দিবে।
