বাংলাদেশ যেন রাশিয়ার প্রযুক্তিতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করতে না পারে, শুরু থেকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বাধা দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। এটি নিয়ে শেখ হাসিনা সরকারের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের যথেষ্ট বিবাদ বাধে। এমনকি রসাটমের জাহাজ পারমাণবিক সরঞ্জাম নিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছালে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হস্তক্ষেপ করে, যেন সরঞ্জাম খালাস করতে না পারে। এমনকি সরঞ্জাম পুড়িয়ে ফেলার মত ঘটনা ঘটেছিল। এই নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একাধিকবার বৈরী সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল, পাশাপাশি কূটনৈতিক চাপ তো ছিলই। তারপরও শেখ হাসিনা সকল মার্কিন বৈরী পরিবেশ উপেক্ষা করে রাশিয়ার প্রযুক্তিতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালুর ফাইনাল পর্যায়ে নিয়ে যান।
যুক্তরাষ্ট্রের বাধা দেওয়ার প্রধান কারণ, বাংলাদেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইন্দো প্যাসিফিক অঞ্চলে রাশিয়ার বড় বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক প্রসার হোক তা চায়নি। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি স্ট্র্যাটেজিক এরিয়া হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিল। তার বড় বাধা ছিল শেখ হাসিনা, পরবর্তীতে সকল ষড়যন্ত্র ও কূটচালের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে সরিয়ে দিতে সফল হয়েছে।
শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করে যুক্তরাষ্ট্র ড. ইউনূসকে ইন্টেরিম সরকার বানিয়ে বেশ কয়েকটি চুক্তি করে নেয়, তার মধ্যে অন্যতম রেসিপ্রোক্যাল ট্রেড এগ্রিমেন্ট। এই এগ্রিমেন্টের অন্যতম শর্ত হল, যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে এমন দেশের সাথে কোনো বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখতে পারবে না বাংলাদেশ।
যার ফলে বাংলাদেশের সাথে রাশিয়ার বাণিজ্যিক সম্পর্ক ইতি ঘটেছে। অর্থাৎ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারিগরি সহায়তা দিতে বাধা এই চুক্তি। এর পেছনের হাত সরাসরি আমেরিকার ও ড. ইউনূসের।
বর্তমান সরকার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র আনুষ্ঠানিকভাবে চালু নিয়ে বেশ গড়িমসি করছে, সেপ্টেম্বরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হওয়ার কথা ছিল। গতকাল সরকার পক্ষ জানিয়েছে কারিগরি ত্রুটির জন্য চালু করতে পারছে না, এটি ঠিক হতে অন্ততঃ ১/২ বছর লাগবে।
মূলত এসব সবই মার্কিনপন্থী বিএনপি সরকারের নাটক। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হতে যত বিলম্ব হবে ধরে নিবেন এর পেছনে রয়েছে আমেরিকা ও বিএনপির হাত।
আমেরিকার কোলে বসে ও আইএমএফের ঋণ নিয়ে স্বাধীনভাবে কিছুই করা যায় না। লোন দিবে কিন্তু লোনের টাকা দিয়ে স্বাধীনভাবে কিছুই করতে দিবে না আপনাকে তারেক সাহেব। আপনি এখন চাচ্ছেন বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু হোক, কিন্তু ক্ষমতায় আসার লোভে নিজের স্বাধীনতা বর্গা দেওয়ার কারণে আজ স্বাধীনভাবে দেশের কোনো কিছুতেই প্রভাব রাখতে পারছেন না।
