হত্যা, ধর্ষণ, নারী-শিশু নির্যাতন, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, মব ও রাজনৈতিক সহিংসতা এবং কারাগারে মৃত্যুর ধারাবাহিকতায় দেশের মানবাধিকার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রথম সাত মাসের সরকারি ও মানবাধিকার সংস্থার তথ্য নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের সক্ষমতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলছে।
হত্যা-খুন: নিরাপত্তাহীনতার বড় সংকেত
জানুয়ারি–জুলাইয়ে ২,০৭৬টি হত্যা মামলা।
২০২৫ সালের একই সময়ে ছিল ১,৯৪৭টি—বৃদ্ধি ১২৯টি।
আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন বাড়ছে।
নারী নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র
HRSS-এর জানুয়ারি–জুন হিসাবে
১,৬২১ নারী ও কিশোরী নির্যাতনের শিকার।
৪০৪ জন ধর্ষণের শিকার, এর মধ্যে ২৩৮ শিশু-কিশোরী।
৮৮ জন সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার এবং ১৭ জন ধর্ষণের পর নিহত।
ASK-এর জানুয়ারি–জুলাই হিসাবে ৪০০ নারী ধর্ষণের শিকার, ৩৭ জন ধর্ষণের পর নিহত।
পারিবারিক সহিংসতায় ৩২০ নারী নিহত, ২১১ আহত; যৌতুক সহিংসতায় ১৯ নারী নিহত।
শিশুরাও নিরাপদ নয়
প্রথম ছয় মাসে ১,০৭৭ শিশু নির্যাতনের শিকার।
৩০৫ শিশু নিহত।
শিশু নির্যাতনের এই চিত্র পরিবারগুলোর নিরাপত্তাবোধেও বড় আঘাত করছে।
সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্ক
প্রথম ছয় মাসে ২৫৭টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা।
২৬১ জন ক্ষতিগ্রস্ত এবং ৪৪ জন নিহত।
৬২ উপাসনালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট।
৪৭ বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ।
১৫ উপাসনালয়ের জমি দখলের অভিযোগ।
এসব ঘটনায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক বাড়ছে।
মব সহিংসতা: আইনের শাসনের সংকট
জানুয়ারি–জুলাইয়ে মব সহিংসতায় ১৩৪ জন নিহত।
HRSS-এর হিসাবে প্রথম ছয় মাসে ২৬১টি মব সহিংসতার ঘটনা, নিহত ১৩৩, আহত ২৫৬।
বিচারিক প্রক্রিয়ার বদলে জনতার হাতে শাস্তির প্রবণতা আইনের শাসনের জন্য বড় সতর্কসংকেত।
বিরোধী মত ও রাজনৈতিক অধিকার
জানুয়ারি–জুলাইয়ে ৪০০ রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা।
নিহত ৭৭, আহত ২,৯৭৪ জন।
বিরোধী মত ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ঘিরে মামলা, গ্রেপ্তার ও হয়রানির অভিযোগ রয়েছে।
আওয়ামী লীগের লক্ষাধিক নেতা-কর্মীকে মিথ্যা মামলায় আটক করা হয়েছে।
সাংবাদিক হয়রানি ও সাইবার আইনে মামলা-গ্রেপ্তার নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
কারাগার ও নিরাপত্তা হেফাজতে মৃত্যু
ASK-এর হিসাবে জানুয়ারি–জুলাইয়ে ৭১ জন কারাগারে মারা গেছেন।
রাষ্ট্রীয় হেফাজতে থাকা ব্যক্তির নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।
এসব মৃত্যুর কারণ ও কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি রয়েছে।
সাধারণ মানুষের মনে বাড়ছে আতঙ্ক
হত্যা-মব সহিংসতার পাশাপাশি ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনা বাড়ছে।
শিশু এবং সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
রাজনৈতিক সংঘাত ও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধ দুর্বল করছে।
নারী ও শিশু ঘরে কতটা নিরাপদ? সাধারণ মানুষ রাস্তায় কতটা নিরাপদ? সংখ্যালঘু পরিবার বাড়ি ও উপাসনালয়ে কতটা নিরাপদ?—এসব প্রশ্নই এখন জনমনে বড় হয়ে উঠছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের সক্ষমতা নিয়ে বড় প্রশ্ন
প্রথম সাত মাসের চিত্র—
২,০৭৬ হত্যা মামলা; ৪০০ ধর্ষণ; ধর্ষণের পর ৩৭ মৃত্যু; মব সহিংসতায় ১৩৪ নিহত; রাজনৈতিক সহিংসতায় ৭৭ নিহত ও ২,৯৭৪ আহত; কারাগারে ৭১ মৃত্যু।
এর সঙ্গে প্রথম ছয় মাসে ১,৬২১ নারী-কিশোরী নির্যাতন, ১,০৭৭ শিশু নির্যাতন ও ৩০৫ শিশু নিহত, এবং ২৫৭ সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনায় ৪৪ মৃত্যু—সব মিলিয়ে নাগরিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে।
জীবন, নিরাপত্তা, নারী-শিশুর সুরক্ষা, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক অধিকার—এসব মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার কতটা সফল, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।( আওয়ামীলীগ পেইজ)
