ছবিতে আমেরিকার আমিশ ভিলেজের একটা হারিকেন। বাস্তব হলো হারিকেন আবিস্কার হলো আমেরিকায়,যা আমরাও এখন হারিকেন জ্বালায়ে খুজি।
কেরোসিনের আবিষ্কার (১৮৪৬-১৮৫৩): কানাডীয় ভূতত্ত্ববিদ আব্রাহাম গেসনার ১৮৪৬ সালে কয়লা থেকে কেরোসিন বের করেন। পরবর্তীতে ১৮৫৩ সালে পোলিশ ফার্মাসিস্ট ইগনেসি লুকাসিয়েভিচ অপরিশোধিত খনিজ তেল থেকে কেরোসিন পরিশোধনের পদ্ধতি আবিষ্কার করেন এবং বিশ্বের প্রথম কেরোসিন প্রদীপ তৈরি করেন।
হারিকেন ডিজাইনের পেটেন্ট (১৮৬২-১৮৬৮): প্রচলিত প্রদীপগুলো তীব্র বাতাসে নিভে যেত। ১৮৬২ সালে মার্কিন উদ্ভাবক রবার্ট এফ ডায়েটজ এবং পরবর্তীতে ১৮৬৮ সালে জন এইচ আরউইন ‘টিউবুলার লণ্ঠন’ (Tubular Lantern)-এর পেটেন্ট নেন।
বাতাস-প্রতিরোধী-হারিকেনের পাশে থাকা দুটি মেটাল টিউব বাইরের ঠাণ্ডা বাতাস নিচে নামিয়ে সলতের দিকে নিয়ে আসে। গরম বাতাস কাঁচের চিমনির ওপর দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় বাতাস ও তাপের একটি চক্র তৈরি করে। এই বায়ুপ্রবাহের কারণেই প্রবল ঝড়েও ভেতরের শিখা অবিচল থাকে।
১৯ এবং ২০ শতকে বিদ্যুৎ আসার আগে বিশ্বজুড়ে গৃহস্থালি, রেলওয়ে, সামুদ্রিক জাহাজ এবং খনি শ্রমিকদের প্রধান আলোর উৎস ছিল এই লণ্ঠন।
ভারতীয় উপমহাদেশে (বাংলাদেশ ও ভারত) কেরোসিন এবং হারিকেনের আগমন ঘটে মূলত ১৯ শতকের শেষভাগে ব্রিটিশ শাসনামলে। পিলসুজ, কুপির সরষের তেল কিংবা চর্বির প্রদীপের পর এটি ছিল আলো জ্বালানোর এই প্রযুক্তি যা তখনকার বিরাট বিপ্লব।
উপ মহাদেশে কেরোসিনের আগমন ১৮৮০-এর দশকে
১৮৫৫ সালে আসামের ডিগবয়ে প্রথম খনিজ তেল আবিষ্কৃত হলেও বাণিজ্যিক আমদানি শুরু হয় ১৮৮০-এর দশকে। বার্মা অয়েল কোম্পানি (BOC) এবং স্ট্যান্ডার্ড অয়েল কোম্পানি অফ নিউ ইয়র্ক (SOCONY) এর মাধ্যমে রেঙ্গুন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে জাহাজে করে কলকাতায় কেরোসিন প্রবেশ করে।
টিনের কৌটা ও ‘লাল টিন’ সংস্কৃতি: কেরোসিন সংরক্ষণের জন্য চার গ্যালনের বর্গাকার টিনের ক্যান ব্যবহার করা হতো। গ্রামের সাধারণ মানুষ এই ক্যানগুলোকে ‘লাল টিনের তেল’ বলতো। তেল বিক্রির এই টিনগুলো পরবর্তীতে গ্রামীণ তৈজসপত্র তৈরিতেও ব্যবহৃত হতে থাকে।
ব্রিটিশ শাসকরা শুরুতে হারিকেন ব্যবহার শুরু করে ইস্ট ইন্ডিয়ান রেলওয়ে, ডাক বিভাগ (নাইট রানার বা ডাক হরকরাদের জন্য), পুলিশ স্টেশন এবং প্রশাসনিক কাজকর্মে। বিশেষ করে রাতের বেলা ট্রেন সিগন্যাল দিতে এবং স্টেশন প্রাঙ্গণ আলোকিত রাখতে লাল-সবুজ কাঁচের হারিকেন অপরিহার্য হয়ে ওঠে।
২০ শতকের শুরুতে জার্মান ও ব্রিটিশ কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে সাধারণ বাজার ও মেলাগুলোতে সস্তায় হারিকেন বিক্রি শুরু হয়। কাঁচের চিমনির ভেতরের নিরাপদ আলো বাতাস বা বৃষ্টিতে নিভে যেত না বলে এটি দ্রুত কৃষক, জেলে, নৈশপ্রহরী এবং শিক্ষার্থীদের প্রধান আলোতে পরিণত হয়। খুব বেশি দিনের আগে নয় হারিকেনের বিদায়,তবুও বিদ্যুৎ আসার সাথে সাথে আমরা তাকে যাদুঘরে পাঠিয়েছি..
