মধ্যরাত পেরিয়ে গেছে। চারপাশ নীরব। হঠাৎ পাড়ার একটি সিকিউরিটি ক্যামেরায় ধরা পড়ল অদ্ভুত এক দৃশ্য।
গলির শেষ মাথায় থাকা একটি পুরোনো বাড়ির সামনে এসে দাঁড়াল একটি বেওয়ারিশ কুকুর। কিছুক্ষণ পর এল আরও একটি। তারপর আরেকটি… এভাবে দেখতে দেখতে এক ঘণ্টার মধ্যেই বাড়িটির সামনে জড়ো হতে শুরু করল ডজন ডজন কুকুর।
ভোর হওয়ার আগেই সেখানে শত শত কুকুরের জমায়েত!
প্রতিবেশীরা প্রথমে ভাবলেন, হয়তো কেউ তাদের খাবার দিচ্ছে। কিন্তু কয়েক দিন ধরে সেই বাড়িতে কাউকে ঢুকতে বা বের হতে দেখা যায়নি।
অবশেষে অ্যানিমাল কন্ট্রোলের লোকজন সেখানে পৌঁছালেন। তারা ভেবেছিলেন, হয়তো বড় কোনো বিশৃঙ্খলা হয়েছে। কিন্তু সেখানে গিয়ে যে দৃশ্য দেখলেন, তা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।
সব কুকুর আশ্চর্যজনকভাবে শান্ত।
তারা কেউ কারও সঙ্গে লড়াই করছে না, ছুটাছুটি করছে না। সবাই শুধু বাড়িটির প্রধান দরজার দিকে তাকিয়ে বসে আছে।
কর্মকর্তারা এরপর বাড়ির ভেতরে ঢুকে একা বসবাসকারী বৃদ্ধ লোকটির খোঁজ নিলেন।
ভেতরে গিয়ে জানা গেল, কয়েক দিন আগে হঠাৎ শারীরিক জটিলতায় পড়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। সাহায্যের জন্য কাউকে ডাকতেও পারেননি। তবে সৌভাগ্যক্রমে তখনও তিনি জীবিত ছিলেন।
কিন্তু এরপর যে বিষয়টি জানা গেল, সেটিই সবাইকে সবচেয়ে বেশি অবাক করল।
বছরের পর বছর ধরে ওই বৃদ্ধ মানুষটি শহরের বিভিন্ন জায়গায় থাকা বেওয়ারিশ কুকুরদের প্রতিদিন সন্ধ্যায় খাবার দিতেন। তাদের জন্য নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী খাবার জোগাড় করতেন, যত্ন নিতেন।
অনেক কুকুরই হয়তো তাকে কয়েক মাস দেখেনি। তবুও মানুষটির প্রতি তাদের ভালোবাসা যেন একটুও কমেনি।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বৃদ্ধের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই প্রথম কুকুরটি এসে বাড়ির সামনে বসে। এরপর একে একে অন্য কুকুরগুলোও সেখানে আসতে থাকে।
শেষ পর্যন্ত সাহায্য পৌঁছানোর আগেই বাড়িটির সামনে জড়ো হয়ে যায় শত শত কুকুর।
হয়তো তারা কথা বলতে পারে না।
হয়তো তারা বলতে পারে না—“আপনি কোথায়?”
কিন্তু তারা তাদের ভালোবাসার মানুষটির দরজায় এসে অপেক্ষা করতে জানে।
