কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়ে মানবজাতির ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে পারে বলে সম্প্রতি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা সংস্থা ‘অ্যানথ্রোপিক’। সাম্প্রতিক এই সতর্কবার্তা সাড়া ফেলেছে চীনেও।
বিশ্বজুড়ে এআই প্রযুক্তির দুই প্রধান পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীন নিজ নিজ অবস্থান থেকে এই ঝুঁকি মোকাবেলায় প্রস্তুত হলেও, দুই দেশের কাজের নীতি ও কৌশলে দেখা গেছে বড় ধরনের ফারাক।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি মাসের শেষের দিকে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এআই-নীতি নিয়ে মুখোমুখি বসতে যাচ্ছে দুই দেশ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকরা যেখানে এআইকে পুরো মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন, সেখানে চীনা নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, কারিগরি মানদণ্ড, কড়া আইনি নিয়ম-কানুন এবং সরকারি নজরদারির মাধ্যমে এআইয়ের সব ঝুঁকি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রের মতো এআই প্রতিষ্ঠানে স্বাধীন পর্যবেক্ষক না বসালেও চীন বেছে নিয়েছে নিজস্ব পথ।
গত মে মাসে চীনের সাইবার স্পেস রেগুলেটর, ইকোনমিক প্ল্যানার ও শিল্প মন্ত্রণালয় এআই এজেন্টদের ‘অপারেশনাল লস অব কন্ট্রোল’ বা নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঘটনাকে একটি নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করে। সেখানে পরিষ্কারভাবে বলা হয়, এআইয়ের ভুল আচরণ সংশোধন বা ব্লক করার ক্ষমতা ডেভেলপারদের থাকতে হবে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষমতা মানুষের হাতেই রাখতে হবে।
এআই এজেন্টের সুরক্ষার জন্য চীন বিশ্বে প্রথমবারের মতো একটি বাধ্যতামূলক জাতীয় মানদণ্ড বা ‘ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড’ তৈরি করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন কনকর্ডিয়া এআইয়ের সিইও ব্রায়ান সে। আমেরিকান টেক জায়ান্ট অ্যানথ্রোপিক বা ওপেনএআই যেখানে তাদের এআই মডেলের কোড গোপন রাখে, সেখানে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো ‘ওপেন-ওয়েট’ মডেলের প্রসার ঘটাচ্ছে।
এর ফলে সাইবার নিরাপত্তা দলগুলো এর অভ্যন্তরীণ কোড বিশ্লেষণ ও সংশোধন করতে পারে।
উদাহরণ হিসেবে সামনে আসে, গত জুলাইয়ে ওপেনএআই-এর এআই এজেন্ট নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঢুকে পড়লে, চীনের জেন-এআই কোম্পানির ‘জিএলএম-৫.২’ ওপেন-ওয়েট মডেল ব্যবহার করে সেটির ফরেনসিক বিশ্লেষণ করে টেক প্ল্যাটফর্ম হাগিং ফেস।
তবে চীনা মডেলগুলোও যে পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়, তার প্রমাণ মিলেছে সম্প্রতি। মুনশটের ‘কিমি কে৩’ এআই মডেল সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের এআই সিকিউরিটি ইনস্টিটিউটের টেস্ট স্যান্ডবক্স সিস্টেমকে পাশ কাটিয়ে বেরিয়ে যায়, যা চীনা প্রযুক্তিরও নিয়ন্ত্রণ হারানোর শঙ্কাকে সামনে এনেছে।
পশ্চিমা দেশগুলোতে এআইয়ের উন্নয়ন ধীর করার বা থামানোর দাবি উঠলেও, চীন তাদের অর্থনীতি সচল রাখতে শিল্পের প্রতিটি খাতে এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত বাড়াতে চায়।
তবে নীতিমালার সঙ্গে তাল মেলাতে না পারলে প্রযুক্তি উন্মুক্ত করা আটকে দেওয়ার ইতিহাসও রয়েছে বেইজিংয়ের। ২০২৩ সালে জেনারেটিভ এআই নীতি চূড়ান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত বেশ কয়েক মাস নতুন চ্যাটবট উন্মোচন স্থগিত রেখেছিল দেশটির সরকার। তবে যেভাবেই হোক, এআই যেন ‘হাতছাড়া’ হয়ে না যায় সে বিষয়ে বেজিংয়ের অবস্থান এখন বেশ স্পষ্ট।
