২০২২ সালে এমআরটি লাইন-৬ উত্তরা-মতিঝিল মেট্রোরেল প্রকল্প যখন আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় তখন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যুগ্ম মহাসচিব রহুল কবির রিজভী ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন মন্তব্য করেছিলেন,“আওয়ামী লীগ সরকার মেট্রোরেলের কিলোমিটার প্রতি যে খরচ দেখাচ্ছে, তা বিশ্বের যেকোনো দেশের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি।এই বিপুল পরিমাণ টাকা দিয়ে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় অন্তত তিনটি মেট্রোরেল করা সম্ভব।”
বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স মন্তব্য করেছিলেন, মেট্রোরেলের প্রাথমিক বাজেট ২২ হাজার কোটি টাকা থেকে দুই দফায় বৃদ্ধি করে ৩৩ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে কেবল লুটপাটের জন্য। এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছিলেন মনোরেল করবেন।
মেট্রোরেল নির্মাণের আগে ও পরে অনেকে অনেক মন্তব্য করলেও ঢাকার জনজীবনে মেট্রোরেল যে ভিন্নমাত্রা ও সাবলীল যোগাযোগ স্থাপন করেছে, এখন আর কারো পক্ষে নেতিবাচক মন্তব্য করার সুযোগ নেই। গতকাল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একনেকের সভায় আওয়ামীলীগ সরকারের প্রস্তাবিত তিনটি মেট্রোরেল প্রজেক্ট এমআরটি-১, এমআরটি-৫ (নর্দান রুট), এমআরটি-৫ (সাউদার্ন রুট) এর অনুমতি দিয়েছে। তিনটি প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছ ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা। আর এই ব্যায়ের সংখ্যাটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
আসুন একটু হিসাব নিকাশ ও পরিসংখ্যান দেখি-
শেখ হাসিনা সরকার ২০২২ সালে এমআরটি লাইন-৬ উত্তরা-মতিঝিল অংশের ২১.২৬ কি.মি করতে টোটাল খরচ হয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা।
বিএনপি শীর্ষ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বলেছিল এই অর্থ দিয়ে অনুরূপ তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্প করা সম্ভব। চলুন এবার দেখি বিএনপির নেওয়া প্রকল্পের খরচের হিসেব-
এমআরটি লাইন-১ বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর, মোট দূরত্ব ৩১.২৪ কি.মি। খরচ ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা। শেখ হাসিনা সরকার এর খরচ ধরেছিল ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। বিএনপি সরকার ১১৭% খরচ বৃদ্ধি করেছে।
এমআরটি লাইন-৫ (নর্দান রুট) হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা, মোট দূরত্ব ২০ কি.মি। খরচ ধরা হয়েছে ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা। শেখ হাসিনা সরকার খরচ ধরেছিল ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি টাকা। বিএনপি সরকার খরচ বৃদ্ধি করেছে ১১৭%।
এমআরটি লাইন-৫ ( সাউদার্ন রুট) গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি, মোট দূরত্ব ১৭.৪০ কি.মি। খরচ ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা। বিএনপি সরকার ১১০% খরচ বৃদ্ধি করেছে।
অর্থাৎ বিএনপির শীর্ষ নেতারা যে বলছিল এমআরটি লাইন-৬ এর খরচ দিয়ে আরও তিনটি মেট্রোরেল প্রজেক্ট নির্মাণ সম্ভব, এটির বাস্তব চিত্র তুলে ধরলাম। তিনটি করবে দূরে থাক! একটিও করতে পারবে না! প্রতিটি প্রজেক্টে আকাশচুম্বী খরচ ধরা হয়েছে।।
এখন অনেকেই বলবেন ২০২২ সালের ডলার রেট আর বর্তমান ডলার রেট এক নয়, ডলারের বিপরীতে টাকার অনেক অবমূল্যায়ন হয়েছে।
আসুন,
এক্সচেঞ্জ রেট অনুযায়ী ২০২২ সালে ডলার রেট ছিল ৯৩.৩ টাকা। বর্তমানে আছে প্রতি ডলার ১২২.৮৭ টাকা। মানে ৩১.৮৪ শতাংশ টাকার অবমূল্যায়ন ঘটেছে।
উত্তরা টু মতিঝিল মেট্রোরেল প্রকল্পটি যদি বর্তমানে ডলার রেটে করা হতো তাহলে খরচ হতো ৪৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। ওয়েল!
শেখ হাসিনা সরকার এমআরটি-১ মেট্রোরেল প্রকল্পটির খরচ ধরেছিল ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। ২০২৬ সালের ডলার রেটে এর খরচ হতো ৬৯ হাজার ৩২৩ কোটি টাকা। কিন্তু বিএনপি সরকার ধরেছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা।
আবার নাকি তারা এক মেট্রোরেলের খরচ দিয়ে তিনটি মেট্রোরেল করবে! হাস্যকর!!!!!!!!
