আয় বাড়েনি এক টাকাও, খরচ বেড়েছে বহুগুনে, বাজারে ঢোকা যাচ্ছে না, ঋণ করা ছাড়া মাস চলছে না জনগণের কারোরই।
তেলের দাম বাড়ার তিন দিন পেরোয়নি। এর মধ্যে কাঁচামরিচ ৮০ থেকে ১২০-১৬০, শসা ৪০ থেকে ৫০-৮০, ময়দা ৬৫ থেকে ৭০, দুধ ১০০ থেকে ১১০, রসুন ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা। ডিম, আটা, চালও উঠেছে, সব মিলিয়ে অন্তত ১২টি পণ্য। বগুড়া থেকে ঢাকায় ট্রাকভাড়া আরও ২-৩ হাজার টাকা বেশি, তার আগের দফায় বেড়েছিল ৪-৫ হাজার। মুদি ব্যবসায়ী মশিউর রহমান নিজেই বলছেন, আগে কেনা মালের দাম এখনো বাড়েনি। নতুন মাল ঢুকলে বাড়বে। মানে এই দামই শেষ কথা নয়, এটা সবে শুরু।
কাওরান বাজারে ভ্যানচালক কামরুল হাসান আধঘণ্টা ঘুরে কিছু না কিনেই ফিরেছেন। আগের দিন আয় ৬৬৫ টাকা, তাও সপ্তাহে দুই-তিন দিনের কাজ। সেখান থেকে ভ্যান মালিকের জমা দিয়ে পাঁচজনের পেট চালাতে হয়। কেরানীগঞ্জের জাহিদুল ইসলাম বেসরকারি চাকরিতে পান ৩৩ হাজার, খরচ ৩৪ হাজার ৬০০। প্রতি মাসে ১ হাজার ৬০০ টাকা ঘাটতি, পূরণ হয় ধার করে। ভ্যানচালক থেকে মধ্যবিত্ত, কেউই বাদ নেই। প্রতিবেদন বলছে, দেশের ৮০-৯০ ভাগ মানুষ আয়ের সঙ্গে ব্যয় মেলাতে পারছে না।
বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক ড. এম কে মুজেরী বলছেন, আয় নেই, বেকারত্ব বাড়ছে, এর ওপর তেলের দাম মানে ক্রয়ক্ষমতা আরও কমা। ক্যাব বলছে, দাম বাড়ানোর ঘোষণাতেই মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
বিএনপি সরকার ক্ষমতা দখল করেই প্রথমে গ্যাস, তারপর বিদ্যুৎ, এখন তেলের দাম বাড়িয়েছে। প্রতিটির ধাক্কা সরাসরি গেছে বাজারে। কথিত সংকটের কথা সবাই শুনেছে, কিন্তু সংকটের বিল কেন সবসময় কামরুল আর জাহিদুলদেরই মেটাতে হয়?
