সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও ভেরিফিকেশনের কারণে নিয়োগপত্র না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও দেশের বিভিন্ন জেলার অনেক প্রার্থী নিয়োগের তালিকায় নিজেদের নাম না পেয়ে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশের অন্তত ১৫ জেলায় ৩৫১ জন সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি। তবে বিভিন্ন জেলা থেকে নতুন করে অভিযোগ আসায় এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীদের অভিযোগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে ভেরিফিকেশনে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা যাচাইয়ের বিষয়টি। তাদের অনেকে বলছেন, নিজের বা পরিবারের কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা না থাকা সত্ত্বেও তাদের নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
কেউ কেউ আবার শুধু কোনো সাবেক রাজনৈতিক নেতার এলাকার বাসিন্দা হওয়ার কারণে ভেরিফিকেশনে নেতিবাচক প্রতিবেদন দেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন।
বিকাশ দাশ নামে এক নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, তার পরিবারের কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই। পরিবারের সদস্যদের কারও বিরুদ্ধে এমন কোনো পরিচয়ও নেই যে তাদের কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত বলা যায়। এরপরও তিনি নিয়োগ থেকে বাদ পড়েছেন বলে দাবি করেন।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, তার গ্রামের সাবেক একজন সংসদ সদস্যের গ্রামের বাসিন্দা হওয়া যদি ভেরিফিকেশনে নেতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে, তাহলে এর দায় তার কেন হবে।
আরেক নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থী বহৃি মল্লিক দাবি করেছেন, উপজেলা ভিত্তিক মেধাক্রমে তিনি দ্বিতীয় হয়েছিলেন। ফার্মেসিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পাশাপাশি তার একাডেমিক কাগজপত্রে কোনো সমস্যা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারের কারও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা বা ফৌজদারি মামলা নেই এবং স্থায়ী ঠিকানা ও জমিজমা নিয়েও কোনো সমস্যা নেই। এরপরও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় তিনি বাদ দেওয়ার কারণ জানতে চেয়েছেন।
এদিকে নিয়োগবঞ্চিতদের একটি অংশের দাবি, বাদ পড়া প্রার্থীদের মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের নিয়োগপ্রার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বিভিন্ন এলাকায় এমন অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে।
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় ৭১ জন হিন্দু নিয়োগপ্রার্থী ভেরিফিকেশনে বাদ পড়েছেন বলেও জানা গেছে।
তবে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো সরকারি কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি আপাতত অভিযোগ হিসেবেই রয়েছে।
তবে একই প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া প্রার্থীদের ধর্মীয় পরিচয় ও জেলা-উপজেলাভিত্তিক তথ্য প্রকাশ করা হলে এ অভিযোগের বাস্তব ভিত্তি আছে কি না, তা পরিসংখ্যানের মাধ্যমে যাচাই করা সম্ভব হবে।
চলতি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের তালিকা গত ৮ই ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। পরে ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া শেষে নিয়োগপত্র ও পদায়ন আদেশ জারির নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর আগে এই নিয়োগে পুলিশ ভেরিফিকেশনের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা—এনএসআইয়ের ভেরিফিকেশন যুক্ত হওয়া নিয়েও প্রার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীদের মূল প্রশ্ন—চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর কোনো কারণে তাদের নিয়োগ বাতিল বা স্থগিত করা হলে সেই কারণ তাদের জানানো হবে কি না।
তাদের দাবি, কোনো প্রার্থীকে বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হলে তিনি নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ পাবেন।
