মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক অগ্রগতি প্রতিবেদনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ঐতিহাসিক মাহাত্ম্য ও মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবকে মুছে ফেলার এক আত্মঘাতী ও অপপ্রয়াস সামনে এসেছে।
দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের সাক্ষী এই ঐতিহাসিক ভূমিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ এবং ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মতো অবিস্মরণীয় মুহূর্তগুলোকে অমর করে রাখার জন্য নির্ধারিত ভাস্কর্য নির্মাণের উদ্যোগ বাতিল করা হয়েছে।
এর পরিবর্তে সেখানে পানির ফোয়ারা নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অবৈধ বিএনপি সরকার। এটি কেবল একটি প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, এটি আমাদের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের শেকড় কেটে ফেলার একটি সুদূরপ্রসারী ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের নগ্ন বহিঃপ্রকাশ।
▪️ষড়যন্ত্রের মূল দিকসমূহ:
▫️ইতিহাসের প্রতীক মুছে ফেলা:
সোহরাওয়ার্দী উদ্যান হলো বাঙালির স্বাধীনতা অর্জনের আঁতুড়ঘর। এই পবিত্র ভূমিতে বিজয়ের চূড়ান্ত মুহূর্ত ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের স্মৃতিচিহ্নগুলোর পরিবর্তে অবৈধ বিএনপি সরকারের সাধারণ পানির ফোয়ারা বসানোর অর্থ হলো জাতীয় স্মৃতিকে ধামাচাপা দেওয়া এবং নতুন প্রজন্মকে শেকড়বিচ্ছিন্ন করা।
▫️প্রযুক্তির নামে বিকৃতি: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের ‘হলোগ্রাফিক থ্রিডি’ উপস্থাপনায় পরিবর্তনের উদ্যোগের আড়ালে মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ও দলিলকে খর্ব করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
▫️ধ্বংসের ধারাবাহিকতা:
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ভাস্কর্য ভাঙচুরের যে বর্বরতা শুরু হয়েছিল, অবৈধ বিএনপি সরকারের এই নীতিগত সিদ্ধান্ত তারই প্রাতিষ্ঠানিক ও দীর্ঘমেয়াদী রূপ।
প্রায় ৩৯৭ কোটি টাকার এই বিশাল প্রকল্পের শেষ মুহূর্তে এসে এমন আকস্মিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পরিবর্তন (রিস্কোপিং ও রিপারপসিং) জাতীয় অর্থের অপচয় এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ম্লান করার চক্রান্ত ছাড়া আর কিছুই নয়।
মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক চিহ্নগুলোকে ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার এই অপচেষ্টা বাঙালি জাতি কখনো বরদাশত করবে না।
দেশের মানুষ প্রতিবাদমুখর হয়ে অবৈধ বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে এবং ইতিহাসের রক্তস্নাত অধ্যায়কে মুছে ফেলার যেকোনো চক্রান্ত ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করবে।
