রাজধানীতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অকাল প্রয়াত মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনের জানাজার নামাজে বাধা দেয়ার নির্লজ্জ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জানাযার মতো ধর্মীয় অনুশাসন প্রতিপালনে বাধা দিয়ে বিএনপি সরকার ফ্যাসিবাদের সকল সীমা ছাড়িয়ে গেছে। ন্যক্কারজনক এই ঘটনার মধ্য দিয়ে মানুষের ধর্মীয় অধিকার ক্ষুণ্ণের পাশাপাশি সাংবিধানিক ও মানবিক অধিকারও হরণ করা হয়েছে। যা নাৎসি ইউনুসের পদাঙ্ক অনুসরণ করে পাতানো নির্বাচনে ক্ষমতাসীন সরকারের ফ্যাসিবাদী মনোভাবের স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ।
বিবৃতিতে বলা হয়, আজ বাদ আসর ধানমন্ডি তাকওয়া মসজিদে মরহুম রোটনের জানাজা হবার কথা ছিল। কিন্তু আমরা উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করেছি, ধানমন্ডি ৬নং সড়কের মাথায় মিরপুর রোডে মরহুম রোটনের লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স পুলিশ আটকে দেয়। যা একজন মৃত ব্যক্তির প্রতি চরম অবিচার ও মৃতের ধর্মীয় অধিকার হরণ।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইসলামী বিধানমতে মৃত মুসলমান ব্যক্তির জানাযা ও দাফন সম্পন্ন করা যেখানে জীবিত মুসলমানদের জন্য ফরজে কেফারা বা সমষ্টিগত আবশ্যিক দায়িত্ব, সেখানে জানাযার নামাজে বাধা দেয়ার অর্থ হলো একটি অবশ্য পালনীয় বিধানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা এবং এটি ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত গর্হিত একটি কাজ। শুধু তাই নয়, মসজিদ সংলগ্ন এলাকাতেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিএনপি-জামাতের সন্ত্রাসীরা যৌথভাবে মুসল্লিদের নানাভাবে হয়রানী, লাঠিপেটা ও সন্দেহজনভাবে মানুষকে গ্রেফতার করে। সন্ত্রাসীরা মব সৃষ্টি করে অনেককে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। ধর্মীয় অনুশাসন প্রতিপালনের ক্ষেত্রে এরকম নির্লজ্জ বাধা প্রদান কেবল একটি অসভ্য, বর্বর ও জনবিচ্ছিন্ন সরকারের পক্ষেই সম্ভব।
বিবৃতিতে বলা হয়, পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণের ৮ মাসের মাথায় জনবিচ্ছিন্ন হয়ে বিএনপি সরকার ভীত হয়ে উন্মত্ত আচরণ শুরু করেছে এবং দেশের ন্যক্কারজনক ইতিহাসের নিজেদের রেকর্ড নিজেরাই ভেঙ্গে বারবার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে। এটি নিছক কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ঘটনা নয়, এটি বাংলাদেশ থেকে আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার নীলনকশারই অংশ। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বিবৃতিতে সরকারের এহেন পাকিস্তানি মনোভাবের তীব্র ঘৃণা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে।
বিএনপির সন্ত্রাসীরা প্রতিনিয়ত খুন-ছিনতাই-রাহাজানি-চাঁদাবাজি ইত্যাদি ঘটনা ঘটিয়ে প্রমাণ করেছে এদেশের মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নেই। কারাগারে একের পর এক পরিকল্পিত হত্যার মাধ্যমে প্রমাণ করেছে কারাবন্দিরাও নিরাপদ নয়। বিএনপির হাতে দেশের সংবিধান, অর্থনীতি, গণতন্ত্র, সংস্কৃতি, নারী-শিশু, বাকস্বাধীনতা, গণমাধ্যম- কোনোকিছুই নিরাপদ নয়। আজকে জানাযার নামাজে বাধা দেয়ার মাধ্যমে সরকার প্রমাণ করেছে, তাদের হাতে ইসলাম ধর্মও আর নিরাপদ নয়।
বিবৃতিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দেশ ও মানুষকে বাঁচাতে পাপেট সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানিয়েছে।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রয়াত মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত ও দেশবাসীর দোয়া কামনা করছে।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
আঁধার কেটে ভোর হোক
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
তারিখঃ ১১ অক্টোবর, ২০২৬
