অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে নেওয়া বিভাগীয় অ্যাকশান প্রশ্নবিদ্ধ ও অগ্রহণযোগ্য। কারণ দর্শানো ব্যতিত ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে বিভাগীয় কার্যক্রম থেকে প্রত্যাহার করা অন্যায়।
বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও উচ্চ আদালয়ের রায়ে কাউকে বোরকা, হিজাব ইত্যাদি পরতে বাধা দেওয়া বা জোর করে পরতে বলার বিরুদ্ধে স্পষ্ট নির্দেশনা আছে। তাসনিম সিরাজ ক্লাসে কোনও ছাত্রীকে তার পোশাকের কারণে “ফা/ন্ডামেন্টালিস্ট” বা “জ/ঙ্গি বলতে পারেন না।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে তিনি কি আদৌ এমন কিছু বলেছিলেন? ওনার বক্তব্যকে টুইস্ট বা চেরি পিক করা হয়নি এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়া হচ্ছে কীসের ভিত্তিতে?
যে ছাত্রী অভিযোগ করেছেন তার পুরনো ফেইসবুক পোস্ট ও লেখায় আফগানিস্তানের তা*বান সরকারের গুণকীর্তন করতে দেখা গেছে। তা*বান জ/ঙ্গি মোল্লা ওমরের ছবি ব্যবহার করে তার পুরনো পোস্টের স্ক্রিনশন ফেইসবুকে দেখা যাচ্ছে। অথচ, আয়রনিটা দেখেন, বাংলাদেশ যদি আফগানিস্তানের পরিণতি লাভ করে- প্রথমেই এই ছাত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঘাড় ধরে বিদায় করবে। কারণ সেখানে ক্লাস সিক্সের উপর মেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ। মেয়েদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় নিষিদ্ধ। মেয়েদেরকে সেখানে সন্তান উৎপাদনের মেশিন ও বাচ্চা লালনপালন করার বেশিকিছু ভাবা হয় না।
কিন্তু তারপরও বাংলাদেশকে আফগানিস্তান বানাতে চাওয়া একজন শিক্ষার্থীকে “ফা/ন্ডামেন্টালিস্ট” বলা যাবে না। আবারও প্রশ্ন ওইটাই তাসনিম সিরাজ কি এরকম কিছু বলেছিলেন, এই কথার আগে-পরে তিনি কিছু বলেছিলেন?
আমার ব্যক্তিগত অপিনিয়ন হচ্ছে, ক্লাসে সামনের বেঞ্চে বসা একজন মানুষ আপাদমস্তক শরীর ঢেকে বসে থাকলে, তার আইডেন্টিটি আমার কাছে প্রকাশিত না হলে আমি অবশ্যই অস্বস্তিবোধ করব। মানুষের মুখ তার প্রথম পরিচয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে নিজের এই পরিচয় লুকিয়ে রাখাকে পর্দার নাম দিয়ে র্যাশনাল করা যেতে পারে না। কারও যদি নিতান্তই এরকম পুরোপুরি মুখ ডেকে পর্দা করার ইচ্ছা হয়, তাতেও আমার আপত্তি নেই। সেক্ষেত্রে পাবলিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলকে তার রেহাই দেওয়া উচিৎ।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পোশাকবিধি প্রণয়ন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। ভবিষ্যতে এরকম কেইস আরও সামনে আসবে। লিবারেল ও সেক্যুলার শিক্ষকগণ এই বিষয়টি হালকাভাবে নিয়েন না।
