বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে প্রায় ১১৫ বিলিয়ন বা ১১ হাজার ৫০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। মাত্র তিন মাসে ঋণের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার—শতকরা হিসাবে ৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
বর্তমান বিনিময় হার—প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ২০ পয়সা—ধরলে এই ঋণের টাকার অঙ্ক দাঁড়ায় ১৪ লাখ ১৬ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা।
রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত হালনাগাদ পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষে বাংলাদেশের মোট বিদেশি ঋণ ছিল ১১৪ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ ১১ হাজার ৪৯৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার।
এর আগের মার্চের শেষে ঋণের পরিমাণ ছিল ১১০ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন বা ১১ হাজার ৯৩ কোটি ডলার। ছয় মাস আগে, গত বছরের ডিসেম্বর শেষে তা ছিল ১১৩ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার। আর এক বছর আগে জুনের শেষে মোট বিদেশি ঋণ ছিল ১১৩ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ছয় মাসে বিদেশি ঋণ বেড়েছে ১ দশমিক ২৯ শতাংশ। এক বছরের হিসাবে বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ২৩ শতাংশ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব বলছে, গত জুনের শেষে সরকারি খাতের বিদেশি ঋণ দাঁড়ায় ৯৫ দশমিক ১০ বিলিয়ন বা ৯ হাজার ৫১০ কোটি ডলারে। মার্চ শেষে এই ঋণের পরিমাণ ছিল ৯০ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার। ফলে তিন মাসে সরকারি খাতের ঋণ বেড়েছে প্রায় ৪২০ কোটি ডলার।
একই সময়ে বেসরকারি খাতের বিদেশি ঋণ অবশ্য ১৪ কোটি ডলার কমেছে। জুনের শেষে এ খাতের ঋণ নেমে আসে ১৯ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৯৮৮ কোটি ডলারে।
ঋণের মেয়াদ বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুনের শেষে মোট বিদেশি ঋণের ৮৭ দশমিক ৫২ শতাংশ ছিল দীর্ঘমেয়াদি। এই ঋণের পরিমাণ ১০০ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে স্বল্পমেয়াদি ঋণ ছিল ১৪ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার।
ঋণদাতার ধরন অনুসারে, জুনের শেষে বিশ্বব্যাংক, এডিবি এবং অন্যান্য বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সংস্থার কাছ থেকে নেওয়া ঋণ ছিল ৪৮ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার। দ্বিপক্ষীয় ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩২ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলারে। এ ছাড়া বাণিজ্যিক ঋণ ছিল ১০ দশমিক ৬০ বিলিয়ন এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ ছিল ৫ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার।
মার্চের শেষে বেসরকারি খাতের বিদেশি ঋণ ছিল ২০ দশমিক শূন্য দুই বিলিয়ন ডলার। জুনের শেষে তা কমে ১৯ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। এ খাতের স্বল্পমেয়াদি ঋণ, ক্রেতাঋণ বা বায়ার্স ক্রেডিট এবং বাণিজ্যঋণ কমে যাওয়াই মোট বিদেশি ঋণ হ্রাসের কারণ।
