বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব বলছে, তিন মাসে সরকারের বিদেশি ঋণ বেড়েছে সাড়ে ৫১ হাজার কোটি টাকা। ভাগ করলে দাঁড়ায় দিনে গড়ে প্রায় ৫৭০ কোটি। আপনি ঘুম থেকে উঠে দিনের প্রথম চায়ে চুমুক দেয়ার আগেই দেশের ঘাড়ে আরও কয়েকশ কোটির দায় চেপে বসেছে।
ঋণ মানে আয় নয়, ঋণ মানে ভবিষ্যতের দেনা। সেই দেনা শোধ হবে ডলারে, সুদসহ, আর ডলার আসে রপ্তানি আর প্রবাসীর পাঠানো রেমিট্যান্স থেকে। অর্থাৎ গার্মেন্টস শ্রমিকের ঘাম আর প্রবাসীর রক্তের টাকায় শোধ করতে হবে সেই ঋণ, যার সুফল তাঁরা চোখেই দেখেননি। ক্ষমতা দখল করেই বিএনপি এতো লুটপাট চালিয়েছে যে এখন বছর না ঘুরতেই ঋণের খাতা বিশাল মোটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ধার করা এই টাকা গেল কোথায়? কোন প্রকল্পে, কত দামে, কার হাত ঘুরে? বাজারে চালের দাম কমেনি, তেলের দাম কমেনি, জনগণের সঞ্চয় ফুরিয়ে আসছে। অথচ দেশের ঋণের অঙ্ক ফুলেফেঁপে উঠছে। ঋণ বাড়ছে, জীবনযাত্রা কঠিন হচ্ছে, জবাব মিলছে না। এ হিসাব মেলে না।
২০০১-০৬ সালে বিএনপির দুর্নীতি, দলীয়করণের যে সংস্কৃতি তখন দেশকে ভুগিয়েছিল, ২০২৬ সালে এসে তারই পুনঃসম্প্রচার দেখছেন দেশবাসী। অর্থনীতি যখন ভেতর থেকে ফাঁপা হয়, তখন বাইরে থেকে ঋণ এনে তা ঢাকা যায় কিছুদিন। কিন্তু ঋণের টাকায় চালানো অর্থনীতির শেষ ঠিকানা কোথায়, সেটা বুঝতে অর্থনীতির ডিগ্রি লাগে না। দেউলিয়া হওয়ার পথে দেশ, সেটা ঋণের এই গতিই প্রমাণ দিচ্ছে।
