সমগ্র বিশ্বে মুসলমানরা আইডেনটিটি ক্রাইসিস বা আত্মপরিচয়ের সংকটে ভুগছে। এদের মধ্যে সমগ্র পৃথিবীতে ডুয়েল কালচার ক্ল্যাশ চলেছে। পারিবারিক মূল্যবোধ বনাম সমাজিক স্বাধীনতার এই লড়াইয়ে মুসলমানরা সম্পূর্ণ দিশেহারা।
আমার ছোট ভাই ইতালির মিলান শহরে তার স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছে। দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে সে সুনামের সাথে বসবাস করছে।
গতকাল সেখানে একদল বিচ্ছিন্নতাবাদী দোকানে লুটপাট চালিয়েছে। পুরো শহরে চলছে ভীতিকর অবস্থা। নিজের ও নিজের পরিবার নিয়ে সে ভয়াবহ আতঙ্কিত। এমন দূর্বিষহ পরিস্থিতির মুখোমুখি সে এর আগে কখনোই হয়নি। গতকাল চোখের জল ফেলে বললো,
” আমাদের সবকিছু একদল উগ্রবাদী মুসলমানরা ধ্বংস করে দিলো! “
📍পশ্চিমা বিশ্বে মুসলিম ছেলে ও মেয়েরা বন্ধুদের সাথে নাইট ক্লাবে যাওয়া , ডেটিং করা এসব স্বাধীনতা উপভোগ করে।এতে করে তাদের পরিবারের সাথে তাদের একধরণের মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। দুই প্রজন্মের এই দুরত্বকে কিছু সুযোগসন্ধানী জঙ্গীরা রাজনৈতিক সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছে ইউরোপের মধ্য ইসলামী সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে। ইউরোপের মত দেশে হিজাব ও বোরকার নামে উগ্র সাংস্কৃতিক কালচার ও ভয়াবহ ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করছে। নিজেদের ধর্মীয় স্বাধীনতার নামে সমগ্র ইউরোপকে বিপর্যস্ত করে তুলছে মুসলমানরা।সংস্কৃতিকে দাঁড় করিয়ে দেয়া হচ্ছে সংস্কৃতির বিরুদ্ধে। ধর্মকে বানানো হয়েছে রাজনৈতিক অস্ত্র। এভাবেই ইউরোপে মুসলমানদের বিরুদ্ধে দিন দিন ক্ষোভ তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে।
একদল উগ্রবাদী মুসলিম ২০১০ সালের পর থেকে ইতালিকে আর কায়েদা ও আইএস নামক জঙ্গি সংগঠনের নিরাপদ ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করছে। সাথে আছে বাংলাদেশের জামায়াত শিবির ও পাকিস্তানের লস্কর -ই তৈয়রা ও ফিলিস্তিনের হামাসের মতো জঙ্গি সংগঠন। গত কয়েক বছরে ইতালিতে ২০ টিরও বেশি উগ্রপন্থী হামলা নসাৎ করে দিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।
📍ইতালি ও ফ্রান্সের মত দেশগুলো পৃথিবীতে উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম উদাহরণ। জীবনের নিরাপত্তা ও উন্নত আধুনিক যুগের নিশ্চয়তা পেতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে মানুষ এসব দেশে পাড়ি জমাচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে।
পৃথিবীর অন্য কোন ধর্মের সাথে ইউরোপের কোন সমস্যা না থাকলেও বর্তমান ইউরোপের ৪৬ শতাংশ নাগরিক সম্পূর্ণ ইসলাম বিদ্বেষী হয়ে গড়ে উঠছে। অথচ অতীতে মুসলমানদের সাথে তাদের তেমন কোন সমস্যাই ছিলো না।
বর্তমান ইতালিতে ২৭ লাখ মুসলিম বসবাস করে , যা ইতালির মোট জনসংখ্যার মাত্র ৪.৯ শতাংশ। কিন্তু ইসলামী জঙ্গীবাদী নিষিদ্ধ সংগঠন আছে প্রায় ৫০ টিরও উপরে।এটি ইতালির জনগণের জন্য ভয়াবহ আতঙ্ক ও চিন্তার বিষয়।
ইতালিতে প্রায় ২ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশী বসবাস করেন। জামায়াত ও হেফাজতের মতো উগ্রবাদী জঙ্গি রাজনৈতিক সংগঠনগুলো ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তাদের জঙ্গি শাখা খুলে ওইসব দেশের বাঙালি মুসলমানদের তাদের প্যারাসাইট ইকোনমির আওতায় নিয়ে এসেছে।
📍 ইতালিতে গত ২০২৫-২৬ সালে প্রায় ২ লাখ মানুষ আশ্রয় ( Assylam ) – এর জন্য আবেদন করেছে। এদের অধিকাংশই হচ্ছে বাংলাদেশী।গত ২০২৩ সালেও শুধু সমুদ্রপথ দিয়ে ইতালিতে ৫৭ হাজার মানুষ অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করেছে, যাদের অধিকাংশই হচ্ছে বাংলাদেশী।সিরিয়া , তিউনিশিয়া , ফিলিস্তিন , পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে দিন দিন মুসলিমরা অবৈধপথে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ঢুকে যাচ্ছে। সমগ্র ইউরোপের জন্য এটা ভয়াবহ এক আতঙ্কের বিষয়।গত এক বছরে বাংলাদেশের প্রায় ২০০০ শিশু বা কিশোর ইতালিতে আশ্রয়ের আবেদন করেছে। অতিরিক্ত মানবতা দেখাতে গিয়ে আজ ইউরোপের প্রত্যেকটি দেশ এক ভয়াবহ ও রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে পড়ে গেছে। নিজ দেশেই তারা আবাসন সহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে।
📍২০২২ সাল থেকে ইউরোপ ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। রাশিয়ার সস্তা গ্যাসের উপর নির্ভরশীল জার্মানির মতো দেশ পর্যন্ত বড় জ্বালানি সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। হঠাৎ পৃথিবীর বিভিন্ন মুসলিম দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ মুসলিম অভিবাসী ও শরণার্থীদের আগমন আজ পুরো ইউরোপকে অস্থিতিশীল করে দিয়েছে। ইউরোপ এখন যেন দিন দিন গরু বাজারে পরিণত হচ্ছে। মুসলমানরা ইউরোপের মতো দেশে বাচ্চা উৎপাদনকে তাদের অস্ত্র হিসেবে নিয়েছে। ফলে ইউরোপের মধ্য মুসলিম জনসংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।এসব শরণার্থীর জনকল্যাণমূলক ভাতা ও চিকিৎসা ভাতা এসব বহন করতে ইউরোপের সরকারগুলো হিমশিম খাচ্ছে। অতিরিক্ত মুসলিম জনসংখ্যার ভার আজ সমগ্র ইউরোপের জন্য এক বিষফোঁড়া হয়ে দেখা দিয়েছে। ইউরোপের মত দেশগুলোতে এখন আবাসন সংকট থেকে শুরু করে বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক বিপর্যয় দেখা দিতে শুরু করেছে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অপরাধ ও জঙ্গি তৎপরতা।
📍 আজকের সময়ে ইউরোপের দেশগুলো মুসলিম জঙ্গীদের সবচেয়ে নিরাপদ ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদন মতে , উগ্রপন্থী মুসলিম জঙ্গীরা আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবহার করে ইউরোপ থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জঙ্গি অর্থায়নের জন্য ব্যবহার করছে। এক্ষেত্রে জামায়াত শিবির সহ বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন চ্যারিটেবল ট্রাস্ট তথা দাতব্য সংস্থার ব্যবহার করে ইউরোপ থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পাচার করছে । কুরিয়ার সার্ভিস ও ট্রাভেলিং নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে উগ্রবাদী জঙ্গীরা তুরস্ক , লেবানন , পাকিস্তান ও বাংলাদেশে জঙ্গীদের অর্থায়ন করছে। এছাড়াও ক্রিপ্টোকারেন্সি ও সাইবার ফাইন্যান্সিং এর মাধ্যমে ইউরোপের অর্থপাচার হয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন দেশে। এছাড়াও জঙ্গিরা ইউরোপের ৪ কোটি ৬০ লাখ মুসলমানের ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও দাতব্য সংস্থা ও মসজিদ মাদ্রাসার নামে মুসলমানদের ভোদাই বানিয়ে হুন্ডির মাধ্যমে সেই অর্থ পাঠিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশ , পাকিস্তান , ফিলিস্তিন , সিরিয়া ও ইয়ামেনের জঙ্গীদের কাছে।
” ইউরোপের সরকার এদের বসিয়ে বসিয়ে রাষ্ট্রীয় ভাতা দিচ্ছে । সেই অর্থ দিয়ে আজ তারা ইউরোপসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অশান্তি লাগিয়ে রেখেছে।”
📍 শুধুমাত্র ২০১৫-২০১৯ সালের মধ্যে ফ্রান্স , বেলজিয়াম ও জার্মানি থেকে কয়েক হাজার তরুণ নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আইএস এর প্রশিক্ষণ নিতে সিরিয়া যায়।সুইডেনের মুসলমানদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে সেই অর্থ পাঠানো হয় সোমালিয়ার নিষিদ্ধ মুসলিম জঙ্গী সংগঠন আল – শাবাবের জন্য। সমগ্র ইউরোপের মধ্য জঙ্গীদের ছদ্মবেশ ধরে ইসলামের মুখোশে সবচেয়ে বড় ধান্দাবাজির নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে ফিলিস্তিনকে সহযোগিতার নাম করে।জার্মানি , ইতালি ও নেদারল্যান্ডস সরকার ইতিমধ্যে এমন বেশ কয়েকটি সন্দেহজনক একাউন্ট ফ্রিজ করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে।আজ ৪ কোটি ৬০ লাখ মুসলমান ইউরোপের জন্য সবচেয়ে বড় আতঙ্ক ও মানবিক বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে দেখা দিতে শুরু করেছে।
📍 ইউরোপের দেশগুলোতে গত কয়েক বছর ধরে মুসলিম বিদ্বেষ থেকে উগ্র ডানপন্থী খ্রিস্টান জাতীয়তাবাদী রাজনীতির উত্থান ঘটছে। যা সমগ্র বিশ্বের জন্য এক ভয়ানক বার্তা। মুসলিমদের উগ্রতাকে পুঁজি করে তাদের পক্ষ নিয়ে রাজনীতি করছে ইউরোপের ফার লেফ্টিস্টরা তথা উগ্র বামপন্থীরা।এতে করে রাশিয়া সাময়িকভাবে লাভবান হলেও দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির মুখোমুখি হবে ইউরোপ। ইউরোপের মধ্য উগ্র ডানপন্থী রাজনীতির বিকাশ ঘটলে তারা আমেরিকার চেয়ে জাতীয় স্বার্থে রাশিয়াকে বেশি গুরুত্ব দিবে। ইউরোপের অর্থনৈতিক মন্দা ও রাজনৈতিক বিপর্যয় রাশিয়া ও চীনের জন্য আশীর্বাদ হলেও তা ভয়াবহ বিপদ সংকেত হয়ে আসতে পারে আমেরিকার জন্য। এটা সারাবিশ্বের ওয়ার্ল্ড অর্ডার পরিবর্তনের একটা ভয়াবহ ইঙ্গিত বলতে পারেন।এর থেকে ভবিষ্যতের ক্রুসেডের যুদ্ধ অস্বাভাবিক কিছুই নয়।
📍ইতালি ও ফ্রান্সের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও শহর জ্বলছে। ইউরোপের বেশকিছু দেশে ইতিমধ্যে তীব্র বিক্ষোভ দাবানলের মতো ছড়াতে শুরু করেছে। এতে উগ্রবাদী মুসলিম জঙ্গি সংগঠনগুলোকে ব্যবহার করছে ফার লেফ্টিস্ট তথা উগ্র বামপন্থীরা। আন্দোলন নিয়ে ইতিমধ্যেই ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জে মেলোনি বলেছেন,
” কোন কিছু ধ্বংস করা এবং চুরি করা কোন প্রতিবাদ বা আন্দোলন নয় , এটি স্পষ্ট অপরাধ।”
এছাড়াও তিনি আন্দোলনকারীদের প্রকাশ্য ” গুন্ডা ” বলে সম্বোধন করেছেন। তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, ” ১৭ বছরের যেসব
কিশোরদের আন্দোলনে ব্যবহার করা হচ্ছে তাদের মা – বাবাকে এর জন্য জবাবদিহি করতে হবে। তাছাড়াও আন্দোলনে কেউ সম্পৃক্ত ও সহিংস ঘটনায় জড়িত থাকলে তাকে ২০ হাজার ইউরো জরিমানার বিধান করা হয়েছে।
ইতালি সরকার ইতিমধ্যে বাংলাদেশের প্রবাসীদের বিষয়েও জরুরি নিরাপত্তা আইন ও ডিক্রি জারি করেছে।কোন দাঙ্গায় কোন প্রবাসীদের জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে কোন আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই সরাসরি দেশে পাঠিয়ে দেয়া হবে।
সমগ্র ইউরোপের মধ্য মুসলমানদের এক ভয়াবহ ইমেজ সংকট তৈরি হয়েছে গত দশ বছরে। ইউরোপের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইউরোপের নাগরিকরা মুসলমানদের ইউরোপ থেকে বহিস্কার করে তাদের নিজ দেশে পাঠিয়ে দিয়ে ইউরোপকে নিরাপদ করার আহ্বান জানাচ্ছেন। ইতালি সরকার বাংলাদেশী ইস্যুতেও জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে যাচ্ছে। ইতালি সরকারের মতো ফ্রান্সের ম্যাক্রো সরকার এতটা কঠোর হতে পারলে ফ্রান্সের অন্তত নব্বই ভাগ ক্ষতি কমানো যেতো। ইউরোপের প্রতিটি দাঙ্গা ও সংহিসতায় মুসলিম জঙ্গীদের উপস্থিতি ইউরোপের জন্য আতঙ্কের। তাই ম্যাক্রোর মতো ভুল না করে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জে মেলোনি আগেভাগেই সেনা মোতায়েন ও শাস্তির সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছেন।
” ইউরোপ অশান্ত হওয়া মানে পুরো পৃথিবীতে ভয়াবহ অর্থনৈতিক ও মানবিক বিপর্যয় নেমে আসা।”
সত্য সবসময় সুন্দর।
ক্যাকটাস ফিঞ্চ ডায়েরি
২১-১০-২০২৬
