নওগাঁর রাণীনগরে মন্দিরের সামনে এক হিন্দু নারীকে উত্ত্যক্ত করছিল রায়হান। স্থানীয়রা বাধা দিলে সে চলে গেল, কিছুক্ষণ পর পকেটে ছুরি নিয়ে ফিরে এল। বিকাশ চন্দ্র সাহার উরুতে আর অসীম চন্দ্র সাহার হাতের তালুতে বসিয়ে দিয়ে নির্বিঘ্নে পালিয়েও গেল। যে লোক প্রকাশ্যে বাধা পাওয়ার পরও অস্ত্র নিয়ে ফিরতে পারে, সে হিসাব কষেই ফেরে। হিসাবটা হলো, এই এলাকায় এই মানুষগুলোর গায়ে হাত তুললে খুব বেশি দাম দিতে হয় না।
এই হিসাব একদিনে তৈরি হয় না। ‘২৪ এর জুলাই দাঙ্গার পর থেকে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার পর যে মামলা, যে আশ্বাস আর যে সাময়িক শান্ত পরিস্থিতির নাটক চলেছে, তার ফলেই এই আত্মবিশ্বাস জন্মায়। এবারও একই চিত্রনাট্য। ইউএনও এলেন, ওসি এলেন, এসআরবি এল, দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস মিলল, পরিস্থিতি শান্ত হলো। মামলা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু মামলা মানেই গ্রেপ্তার নয়, আর গ্রেপ্তার মানেই বিচার নয়।
বিএনপি-জামাত এখন ক্ষমতায়। রাষ্ট্র যাঁদের হাতে, তাঁদের কাছ থেকে প্রশাসনিক আশ্বাসের বাইরে কী পাওয়া গেল? একজন ধর্মীয় সংখ্যালঘু নারী উত্ত্যক্ত হলেন, দুজন পুরুষ তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে রক্ত ঝরালেন। এটা কোনো দলীয় রাজনীতির বিষয় ছিল না, ছিল নাগরিকের নিরাপত্তার প্রশ্ন। সেই প্রশ্নের জবাবে ক্ষমতাসীনদের নীরবতা বলে দেয়, সংখ্যালঘুর রক্ত তাঁদের কাছে অগ্রাধিকারের তালিকায় নেই। এ ধরনের নীরবতা থেকেই ধারণা জন্মায় যে সংখ্যালঘুরা এ দেশে এখন যেন গনিমতের মাল, যার ওপর যা খুশি করা যায়।
