অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদ তাঁর ” পাকসার জমিন সাদ বাদ” উপন্যাসে বলেছিলেন , ” পাকিস্তান ভাঙ্গার অপরাধে একদিন মুক্তিযোদ্ধাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হবে এবং রাজাকারদের পুরস্কৃত করা হবে।”
আজ থেকে ২২ বছর আগে , ২০০৪ সালে বাংলাদেশ নিয়ে এই ভবিষ্যৎ বাণী করেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদ। এজন্য তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল জামায়াত শিবিরের জঙ্গীরা।
🔴 পিরোজপুরের বর্তমান এমপি হচ্ছে সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী।তার বাবার নাম একাত্তরের কুখ্যাত রাজাকার দেইল্লা রাজাকার। ১৯৭২ সালে মাসুদ সাঈদীর বাবা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে ৩০২ হত্যা ও দালাল আইনের ১১ ( ক) ধারায় মামলা করা হয়েছিল আজ থেকে ৫৪ বছর আগে।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর মাসুদ সাঈদীর পিতা কুখ্যাত রাজাকার দেইল্লা রাজাকার বাংলাদেশ ছেড়ে পাকিস্তানে পালিয়ে গিয়েছিলেন। এরপর তিনি বাংলাদেশে ফিরে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার দহকুলা গ্রামে আত্মগোপনে ছিলেন।
১৯৭৯ সালে যখন আমেরিকার পক্ষ হয়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা আফগান ফেরত ইসলামি ছাত্রশিবিরের জঙ্গীরা বাংলাদেশে ফিরতে শুরু করে তখন ১৯৭৯ সালে দেলোয়ার হোসেন সাঈদী আবার জামায়াতে যোগদান করেন।
🔴১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় দেলোয়ার হোসেন সাঈদী ইসলামী ছাত্রশিবির ( তৎকালীন ইসলামী ছাত্রসংঘ ) নেতা হয়ে নিরীহ বাঙালিদের হত্যার জন্য পিরোজপুরে রাজাকার বাহিনী গঠন করেছিলেন।
▪️ দেলোয়ার হোসেন সাঈদী তৎকালীন সাবডিভিশনাল পুলিশের অফিসার ফায়জুর রহমানকে হত্যা করেন।
▪️১৯৯৪ সালে গণঅদালতের ” গণতদন্ত” প্রতিবেদনে রাজাকার গো আযম এর সাথে সাঈদীরও প্রতীকি ফাঁসি দিয়েছিল বাংলাদেশ।
▪️২০১৩ সালে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণের ভিত্তিতে দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের অভিযোগ বহাল রাখে। এই মামলাটির সাক্ষী হচ্ছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী। তাই দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ছেলে পিরোজপুরের অঘোষিত গডফাদার মাসুদ সাঈদী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মৃত্যু হওয়ার পর অবৈধ ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধার লাশ দাফনে বাঁধা দিয়েছেন। তাই রাতের অন্ধকারে বীর মুক্তিযোদ্ধা স্ত্রী ও কন্যারা টর্চলাইটের আলোয় সেই লাশ দাফনে বাধ্য হয়।
পিরোজপুর উপজেলার মেরুদন্ডহীন প্রশাসন ও বাংলাদেশের বিএনপি ও জামায়াত সরকারের এমন মেরুদণ্ডহীন নষ্ট রাজনীতিকে তীব্র ঘৃণা জানাই।
🔴 উগ্রবাদী ও জ-ঙ্গী রাজনীতির সাথে ১৯৭৯ সালে কুখ্যাত দেইল্লা রাজাকার সম্পৃক্ত হয়েছিলেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে তিনি প্রকাশ্যে বলেছিলেন , ” বাংলাদেশের আইন ও সংবিধান তিনি মানেন না।”
এসব একটি রাষ্ট্রদ্রোহ অপরাধ। যার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।
দেলোয়ার হোসেন সাঈদী বাংলাদেশের অভ্যন্তরে জঙ্গী সংগঠন জেএমবি ও আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের একজন অন্যতম পৃষ্ঠপোষক । তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন ,
” আদালত ফতোয়া নিয়ন্ত্রণ করবে না , বরং ফতোয়া আদালতকে নিয়ন্ত্রণ করবে।”
অর্থাৎ বাংলাদেশের সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় আইনের প্রতি নূন্যতম শ্রদ্ধা এই কুখ্যাত রাজাকারের ছিলো না।
🔴 বাংলাদেশকে একটি দীর্ঘমেয়াদি উগ্র ও জ-ঙ্গীবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য দেলোয়ার হোসেন সাঈদী ৮০ এর দশক থেকে ওয়াজের নামে হিন্দু ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসা ও উগ্র জিহাদী বক্তব্য দিয়ে ওয়াজের নামে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের বিভ্রান্ত করার রাজনীতি শুরু করেন। বাংলাদেশের তরুণদের উগ্র জিহাদী নষ্ট চেতনা সৃষ্টির কারিগর হচ্ছেন ১৯৭১ সালের মুদি দোকানদার দেলু ।সাঈদী পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন লস্কর ই তৈয়বা ও জঈশ ঈ মুহাম্মদের বাংলাদেশের অন্যতম বড় পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। আন্তর্জাতিকভাবে জঙ্গীদের জন্য অর্থ ও খয়রাতের অন্যতম ক্যাশিয়ার ছিলেন দেলু রাজাকার।
🙏 বাংলাদেশের ইউনূস সরকারের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আজ থেকে ৩৭ বছর আগে, ১৯৮৯ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি সাপ্তাহিক বিচিত্রায় কুখ্যাত রাজাকার দেইল্লা রাজাকার ওরফে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী নিয়ে ” সাঈদী সমাচার: একজন ধর্মব্যাবসায়ীর উত্থান প্রচ্ছদ প্রতিবেদন লিখেছেন। তিনি সেখানে সাঈদীর পেছনের চালিকাশক্তি হিসেবে ধর্মব্যাবসা ও পাকিস্তানের উগ্র মৌলবাদী মাওলানা মওদুদীকে দায়ি করেছেন।
দেলোয়ার হোসেন সাঈদী ছিলেন পাকিস্তানের অভ্যন্তরে শিয়া – সুন্নী – কাদিয়ানী মুসলমানদের মধ্যে গণহত্যা সৃষ্টিকারী মাওলানা মওদুদীর শিষ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে আমেরিকার গুপ্ত এজেন্ট। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আসিফ নজরুল এই ” দেইল্লা রাজাকার ” এর মুখোশ সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের কাছে গুলে দিয়েছিলেন এবং ১৯৯৪ সালে সাঈদীর প্রতিকী ফাঁসির আয়োজন করা অন্যতম একজন ব্যক্তি হলেন আজকের জামায়াত শিবিরের রাজনৈতিক পীর আল্লামা আসিফ নজরুল।
🔴আল্লামা সাঈদীর পুত্র মাসুদ সাঈদী ২০২৬ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত ভোট ডাকাতির নির্বাচনের বিনা ভোটের একজন এমপি। মাসুদ সাঈদী একজন রাজনৈতিক ধান্দাবাজ । হালাল ট্যুরিজম ও এমএলএম ব্যবসার নামে হাজার হাজার নিরীহ মুসলমানদের সাথে তিনি রাজনৈতিক প্রতারণা করেছেন।পিতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মতো ধর্মের মুখোশ পড়ে পুত্র মাসুদ সাঈদী বাংলাদেশের মানুষের সাথে ভয়াবহ প্রতারণা করেছেন।
২০২৬ সালের মে মাসে ” হালাল ট্যুরিজম ” এর নামে দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর পুত্র মাসুদ সাঈদীর শত শত কোটি টাকার দুর্নীতি বাংলাদেশের মানুষের নজরে আসে এবং বাংলাদেশের সকল জাতীয় দৈনিকে এই কুকীর্তি ফাঁস হওয়ার পরও মাসুদ সাঈদীর বিচার করতে পারেনি বাংলাদেশের সরকার।
মাসুদ সাঈদীর ” ইস্তাম্বুল হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট ” এর কুকীর্তি এশিয়া পোস্টে প্রকাশিত হয়। মাত্র ৬ বিঘা জমির অনুমোদন দেখিয়ে ৩০ বিঘা সম্পত্তি দখল নেন জমি খাদক মাসুদ সাঈদী। ১০ হাজার বিনিয়োগকারী থেকে ৩০০ কোটি টাকা নিয়ে তার মধ্যে ১৭৫ কোটি টাকা বিভিন্ন ব্যাংক একাউন্ট থেকে অবৈধভাবে তুলে নেন দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর পুত্র মাসুদ সাঈদী।
এই ভূমিদস্যু গতকাল বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাযা ও দাফনে বাঁধা দিয়েছে। ত্রিশ লক্ষ শহীদের দেশে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সাথে এমন আচরণের দুঃসাহস এই মাসুদ সাঈদীরা কোথায় পেলো ❓
বাংলাদেশে আইন কানুন বলতে আদৌ কিছু আছে?
🙏 বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় দণ্ডবিধির পেনাল কোড ,১৮৬০ এর ২৯৭ ধারা অনুযায়ী , ” কোন ব্যক্তির ধর্মীয় আচার ও জানাযায় বাঁধা দেওয়া একটি সুনির্দিষ্ট রাষ্ট্রীয় অপরাধ।এই অপরাধের জন্য এক বছরের জেল ও জরিমানার কথা বলা হলেও এখন পর্যন্ত মেরুদণ্ডহীন বিএনপি ও জামায়াত সরকার মাসুদ সাঈদীকে গ্রেফতার করেনি।এতেই প্রমাণ হয় এই দেশে আইনের শাসন বলতে কিছুই নেই।
🔴 গডফাদার মাসুদ সাঈদীর ভয়ে গত প্রায় তিন বছর ধরে সাঈদীর মামলার প্রধান আসামি মানিক পসারী জীবন বাঁচাতে আত্মগোপনে ছিলেন।২০২৪ সালে মাসুদ সাঈদীর নেতৃত্বে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করে ইসলামী ছাত্রশিবির।৮৭ বছরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর পরিবারকে নিজের এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হয়।পুলিশ লাইনের ভেতরে তার ” গার্ড অফ অনার ” এ বাধা প্রধান করে মাসুদ সাঈদী। বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় আইনে এটাও একটা ভয়াবহ অপরাধ। কিন্তু এই সমস্ত অপরাধীদের কোন বিচার নেই এই দেশে 🥲
🔴২০১৩ সালে সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডের আদেশের পর তাকে একাত্তর সালে শিশু সাজিয়ে জামায়াত শিবির ফটো এডিটিং প্রযুক্তির মাধ্যমে দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে চাঁদে পাঠিয়ে মসজিদের মাইকে গুজব ছড়িয়ে একদিনে বাংলাদেশের মধ্যে শতাধিক নিরীহ মানুষকে হত্যা করে। এমন ভণ্ডামি কেবল ইসলামি ছাত্রশিবির ও জামায়াতের পক্ষেই করা সম্ভব।
সাঈদী ১৯৭১ সালে কোন শিশু ছিলো না। দেলু রাজাকার ছিল পিরোজপুরের কসাই । ১৯৪০ সালে জন্ম নেওয়া দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ১৯৭১ সালে বয়স ছিল ৩১ বছর। ৩১ বছরের যুবক শিশু হয় কেমনে?
মানিক পশারীর ছোট বোন রিনা আক্তার বলেন , আমার ভাই মারা গেছে। দাফনের জন্য দীর্ঘ সময় লাশ দাফনে বাঁধা দিয়েছে জামায়াত শিবির।”
মানিক পশারী বাংলাদেশের একজন গেজেট প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। মরলে বরফ ছাড়াই প্রায় পাঁচ ঘন্টা অ্যাম্বুলেন্সে আটকে রেখেছিল জামায়াত শিবির। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও লাশ দাফনের ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। রাত দেড়টার সময় পুলিশ পাহারায় চোরের মত লাশ কবর দেয়া হয়েছে। নিজের পরিবারের সদস্যদের কবর খোঁড়ার এই দৃশ্য মনে রেখো বাংলাদেশ 🙏😭
আমি লুসিড ড্রিম শপথ করছি –
” এই বাংলাদেশে অদূর ভবিষ্যতে কোন রাজাকারের নাম ও নিশানা থাকবে না। এই দেশটা ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া বাংলাদেশ। এই দেশ পাকিস্তানের মত ব্রিটিশদের খয়রাতের দান নয়। দুই লক্ষাধিক বীরাঙ্গনা মা ও বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে বাংলাদেশ পেয়েছি। বাংলাদেশের মাটিতে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার অপমান মানে সমগ্র বাংলাদেশের অপমান।এই অপমান রক্তে পাওয়া লাল সবুজের পতাকার অপমান।এই অপমান কোনদিনও মুলা হবে না , ভুলতে দিবো না। এই দেশে কোন রাজাকারের আস্তানা হতে পারে না।
” জামায়াত শিবিরের আস্তানা , এই বাংলায় হবে না।”
“আমার মাটি আমার মা , পাকিস্তান হবে না।”
সত্য সবসময় সুন্দর।লুসিড ড্রিম ২৫ অক্টোবর , ২০২৬
