একাত্তরের খুনিদের উত্তরসূরিরা আবারও বাংলার মাটিতে তাদের চিরচেনা হিংস্র রূপ নিয়ে চড়াও হয়েছে! তথাকথিত ‘ধর্ম অবমাননা’র বানোয়াট ও পুরোনো এক ভিডিওর জাল জুজুর ভয় দেখিয়ে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার চককরিম গ্রামের হিন্দু পাড়ায় সুপরিকল্পিত ও নারকীয় হামলা চালিয়েছে জামায়াত-শিবিরের পেটোয়া ক্যাডাররা।
সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দিয়ে অন্ধকারে লাঠিসোঁটা হাতে অতর্কিত হামলা, ঘরবাড়ি ভাঙচুর, আলমারি-টিভি তছনছ এবং সর্বস্ব লুটে নেওয়ার এই বর্বরতা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়; এটি দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ধ্বংস করার এক সুগভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র! নিরীহ মানুষগুলো যখন হাতজোড় করে বাঁচার আকুতি জানিয়েছে, তখনো এই উগ্র ধর্মান্ধদের হাতকড়া পরা পিশাচগুলোর মন গলেনি।
৫ই আগস্টের পর থেকে দেশজুড়ে জামায়াত-বিএনপির যৌথ মদদে সংখ্যালঘুদের ওপর যে নির্যাতন শুরু হয়েছে, প্রশাসন হাত গুটিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে তার পথ পরিষ্কার করে দিচ্ছে।
বাংলাদেশের মাটি কোনো ধর্মান্ধ সন্ত্রাসী বা ভূমিদস্যুদের অভয়ারণ্য নয়! ১৯৭১ সালে যারা এ দেশের মা-বোনদের ওপর অত্যাচার চালিয়েছিল, আজ তারা স্বাধীন দেশের মাটিতে সেই একই কায়দায় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে।
রংপুরের পীরগঞ্জের চককরিম গ্রামে হিন্দু বাড়িতে হামলা ও লুটপাটে জড়িত জামায়াত-শিবিরের ক্যাডারদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং লুট হওয়া সমস্ত মালামাল উদ্ধার করতে হবে।
