এক-দুই বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের বিষয়ে যা জানালেন শিক্ষামন্ত্রী
শূন্যপাস প্রতিষ্ঠান একীভূত করা হতে পারে: শিক্ষামন্ত্রী
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে আজ বেলা ১১টায়। শনিবার (৩১ অক্টোবর) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ৯ শিক্ষা বোর্ডের পাসের হার ৫১ দশমিক ৬২ শতাংশ। পাশাপাশি এসব বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৯৪৮ পরীক্ষার্থী।
সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ফলাফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে ফলাফল নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এবং অনলাইনে একযোগে প্রকাশ হচ্ছে।
পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, প্রথমে ২৯ অক্টোবর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের কথা ছিল। পরে তারিখ পরিবর্তন করে আজ নির্ধারণ করা হয়।

আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়, বোর্ড প্রকাশিত ফলাফল সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনলাইনের মাধ্যমে ফলাফল ডাউনলোড করে প্রকাশ করার জন্য ওই ওয়েবসাইটের রেজাল্ট কর্নারে ক্লিক করে বোর্ড ও প্রতিষ্ঠানের ইআইআইএনের (প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি নম্বর) মাধ্যমে ফলাফল ডাউনলোড করতে হবে।
পরীক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডগুলোর কমন ওয়েবসাইট ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবেন। পরীক্ষার্থীরা ফলাফল নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও সংগ্রহ করতে পারবেন।
পাশাপাশি পরীক্ষার্থীরা যেকোনো মুঠোফোন নম্বর থেকে ১৬১৪০ নম্বরে খুদে বার্তা পাঠিয়ে ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবেন। উদাহরণ: HSC Dha 123456 2026 লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ড বা পত্রিকা অফিসে কোনো ফলাফল পাওয়া যাবে না।
উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণসহ পুনর্মূল্যায়নের জন্য অনলাইনের মাধ্যমে আগামী ১ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে। আবেদনের প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
এর আগে, গত ২ জুলাই এ বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। এবার নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থী ১২ লাখের বেশি। অবশ্য পরীক্ষায় কিছুসংখ্যক পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন।
এক-দুই বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের বিষয়ে যা জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা এক মাসের মধ্যে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষার্থীদের যেন আরও একটি বছর নষ্ট না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবার এক বিষয়ে ফেল করেছে ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪০ জন এবং দুই বিষয়ে ফেল করেছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ জন। এক ও দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থী মিলিয়ে মোট ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জনের পরীক্ষা নিতে হবে। এবার মোট অকৃতকার্য হয়েছে ৫ লাখ ৯৪ হাজার ৪১৩ জন।
শূন্যপাস প্রতিষ্ঠান একীভূত করা হতে পারে: শিক্ষামন্ত্রী

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী পাস করেননি— এমন ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
শূন্যপাস প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ ও ফলাফল কীভাবে উন্নত করা যায়, তা নিয়ে কাজ করবে সরকার। প্রয়োজনে শূন্যপাস প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাছাকাছি অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত করার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের চাকরি হারানোর আশঙ্কা নেই বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।
এবারের ফলাফল প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পাসের হার কমার পেছনে কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যাগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
খাতা পুনর্নিরীক্ষণের বিষয়ে তিনি জানান, এবারও পুনর্নিরীক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হবে, যাতে কোনো শিক্ষার্থী মূল্যায়নে বঞ্চিত না হন। গত এসএসসি পরীক্ষায় পুনর্নিরীক্ষণের পর নতুন করে ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়েও ভাবছে সরকার। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কত দিনের মধ্যে তাদের পরীক্ষা নেওয়া হলে ভালো হয়, তা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এক মাসের মধ্যে পরীক্ষা আয়োজন করা যায় কি না, সেটিও বিবেচনায় রয়েছে।
এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন।
ফলাফলে দেখা গেছে, এবার ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। গত বছর এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ২০২টি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে শূন্যপাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ৯১টি। অন্যদিকে শতভাগ পাসের সাফল্য পেয়েছে ১৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
গত বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। সে তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে। গত বছর ৬৯ হাজার ৯৭ জন জিপিএ-৫ পেলেও এবার পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন।
উল্লেখ্য, এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় গত ২ জুলাই। লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৮ আগস্ট। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হলে ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।
