অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বলছেন অর্থনীতি এবার নদীতে পড়তে পারে। কিন্তু বিএনপি সরকারের প্রথম কয়েক মাসের হিসাব দেখলে নদী নয়, সমুদ্রের কথাই মনে আসে।
ডিসেম্বরের ৫ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা থেকে মার্চে খেলাপি ঋণ বেড়ে হয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি, যা মোট ঋণের ৩২ শতাংশের বেশি। অথচ মাত্র ২ শতাংশ জমা দিলেই খেলাপি ঋণ নিয়মিত হচ্ছে, তার ওপর শুরুতে দুই বছর কিস্তিও দিতে হবে না। যে ঋণ শোধ করে চলে, সে গবেট। যে খেলাপি হয়, তার জন্য লাল গালিচা। অর্থনীতিবিদরা একে ব্যাসেল বিধির ব্যত্যয় বলেছেন, কারণ এতে প্রকৃত খেলাপি ঋণ আর প্রভিশন ও মূলধনের হিসাব দুটোই ঝাপসা হয়ে যায়।
আরেক দিকে সরকার নিজেই ব্যাংকের টাকায় হাত বাড়িয়েছে। ক্ষমতায় আসার প্রথম ছয় সপ্তাহেই প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা ধার নিয়েছে, আর ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘাটতির বেশির ভাগও মেটাবে ব্যাংক থেকে নিয়ে। ব্যাংকগুলো সরকারকেই ঋণ দেবে, বেসরকারি খাত পড়ে থাকবে ঋণের অপেক্ষায়। মাহবুব উল্লাহ ঠিক এই জায়গাতেই প্রশ্ন তুলেছেন, সরকার সুদ আর কিস্তি শোধ করবে কীভাবে?
প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা, আর ৮৫ শতাংশের বেশি খেলাপি ঋণ জমে আছে মাত্র ১৫টি ব্যাংকে। তবু ছাড়ের নীতি অটুট। আস্থার সংকটে ডুবে থাকা ব্যাংক খাতে সরকারের চিকিৎসা মানে ব্যথানাশক মালিশ, অস্ত্রোপচার নয়।
ক্ষমতায় আসার আগে বিএনপি অর্থনীতি উদ্ধারের অনেক গালগল্প দিয়েছিল। ক্ষমতায় আসার পর ব্যাংক খাতে তাদের সবচেয়ে বড় কীর্তি হলো খেলাপিদের জন্য ছাড়ের তালিকা লম্বা করা, আর আমানতকারীর টাকায় ঘাটতি বাজেট চালানো। যে ব্যাংকের মূলধন মাইনাস, সেই ব্যাংকের কাছ থেকেই ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি মেটাতে ধার নেওয়ার পরিকল্পনা কোনো সংস্কার নয়, এটা রুগ্ণ রোগীর রক্ত নিয়ে আরেক রোগীকে দাঁড় করানোর চেষ্টা। বিএনপির দলীয় লুটেরারা ২ শতাংশ দিয়ে খাতায় নিয়মিত হয়ে যাবে, আর সৎ ঋণগ্রহীতা ও সাধারণ আমানতকারী পড়ে থাকবে অনিশ্চয়তায়। ইতিহাস মনে রাখবে, ব্যাংক খাত যখন বাঁচা-মরার সীমানায়, তখন এই সরকার সংস্কারের নামে দায়মুক্তির বন্দোবস্ত করেছে। অর্থনীতি যদি নদী পেরিয়ে সমুদ্রে ডোবে, তখন এই হিসাব মেলাতে আর কাউকে খুঁজতে হবে না।
