যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার বর্তমান নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এখন থেকে দেশটিতে আইনিভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাওয়ার জন্য পাঁচ বছরের পরিবর্তে কমপক্ষে দশ থেকে পনেরো বছর অপেক্ষা করতে হবে। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই সংক্রান্ত নতুন ও কঠোর নিয়ম ঘোষণা করতে চলেছেন। বিশেষ করে স্নাতক স্তরের নিচের বিভিন্ন পেশার মানুষ এবং কেয়ার কর্মীদের ক্ষেত্রে এই অপেক্ষার মেয়াদ পনেরো বছর পর্যন্ত হতে পারে বলে পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে স্থানীয় সমাজে অবদান রাখা কিংবা উচ্চ আয়ের বিষয়টি প্রমাণ করতে পারলে এই মেয়াদ কমানোর সুযোগ রাখা হতে পারে।
নতুন এই প্রস্তাব সামনে আসার পর থেকেই দেশটির রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ক্যাবিনেটের কয়েকজন মন্ত্রী এবং সংসদ সদস্যরা শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছেন। তাদের মতে এই ধরনের কঠোর নীতি অভিবাসীদের জীবনে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করবে এবং অতীতে ঘটে যাওয়া ঐতিহাসিক উইনরাশ কেলেঙ্কারির ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, স্বাস্থ্য পেশাজীবী এবং নাগরিক অধিকার রক্ষা আন্দোলনের নেতারা সরকারের কাছে এই পরিকল্পনা থেকে সরে আসার বা কঠোর সুরক্ষা বলয় তৈরির জোরালো দাবি জানিয়েছে।
সমালোচকরা আরও জানিয়েছে যে বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা খাত ইতিমধ্যেই তীব্র জনবল সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই খাতের বড় একটি অংশ আন্তর্জাতিকভাবে প্রশিক্ষিত কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল। অভিবাসনের নিয়ম এতটা কঠোর করা হলে জরুরি চিকিৎসা সেবা এবং স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘ অপেক্ষমাণ তালিকা কমানোর লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে। বিশেষ করে বয়স্ক ও সামাজিক যত্ন সেবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং প্রয়োজনীয় কর্মীরা দেশ ছাড়তে বাধ্য হতে পারে।
অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে যুক্তরাজ্য একটি বহুজাতি ও বহু সংস্কৃতির দেশ হলেও স্থায়ীভাবে বসবাস করার বিষয়টি কোনো জন্মগত অধিকার নয়, বরং এটি কঠোর পরিশ্রম, স্থানীয় সমাজের সঙ্গে একীভূত হওয়া এবং অবদানের মাধ্যমে অর্জন করতে হবে। প্রস্তাবিত এই পরিবর্তনগুলোর মাধ্যমে অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও বেশি দায়িত্বশীল ও সুশৃঙ্খল করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা প্রকাশ করেছে।
