বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. জাকির হোসেন নবাবকে আজ নওগাঁ জেলা কারাগারে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। আমি এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
২০২৫ সালের ২০ জুন রাতে জাকির হোসেন নবাব রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকায় মব সন্ত্রাসের শিকার হন এবং নির্যাতনে অসুস্থ নবাবকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের একটি মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে পুনরায় অকথ্য নির্যাতন চালায়। অসুস্থ হলেও চিকিৎসা না দিয়ে পরদিন কারাগারে পাঠানো হয়। ঢাকা থেকে বগুড়া এবং বগুড়া থেকে নওগাঁ জেলা কারাগারে পাঠিয়ে বারবার শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। অসহনীয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রায় ১৭ মাস বিচারহীনভাবে কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়। অবশেষে আজ “জেল হত্যা দিবসে” একজন দেশপ্রেমিক ও প্রতিশ্রুতিশীল নেতাকে কারাগারেই মেরে ফেলা হলো। এভাবেই ৫ আগস্টের পর থেকে অসংখ্য নেতাকর্মীকে পরিকল্পিতভাবে কারাগারে অথবা প্রকাশ্যে বাড়িতে-রাস্তাঘাটে পিটিয়ে-কুপিয়ে-পুড়িয়ে ইত্যাদি প্রক্রিয়ায় হত্যা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কারাগারে অন্তত ৭০জন আওয়ামী লীগের নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। এরমধ্যে শুধু বগুড়া জেলা কারাগারেই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক নেতা হত্যার শিকার হয়েছে। এবার কৌশল করে বগুড়া কারাগার এই দায় এড়াতে কিছুদিন আগেই নওগাঁ কারাগারে পাঠিয়ে দিয়েছিল। আওয়ামী লীগ ছাড়াও অগণিত অজ্ঞাত নাগরিকও কারাগারে নিহত হচ্ছে প্রতিদিন। সরকারের ভয়ে গণমাধ্যমগুলো হত্যার শিকার অনেকের রাজনৈতিক পরিচয় ও ছবি পর্যন্ত প্রকাশ করতে পারছে না। সঠিক ও সকল তথ্য প্রকাশ পেলে এই সংখ্যা আরও অনেকে বাড়বে।
পরিকল্পিত হত্যার শিকার জাকির হোসেন নবাব বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছে। দেশের এই ক্রান্তিকালে তাঁর মতো দক্ষ সংগঠকের খুব বেশি প্রয়োজন ছিল। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে অঙ্গীকারাবদ্ধ পরোপকারী ও কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে স্বীকৃত জাকির হোসেন নবাব জীবদ্দশায় সন্ত্রাস-সাম্প্রদায়িকতা, সামরিক শাসন বিরোধী এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অত্যন্ত সাহসী ভূমিকা পালন করেছে। দেশ, মানুষ ও দলের জন্য তাঁর অবদানকে আমি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি। কর্মগুণে তিনি বগুড়াবাসীর নিকট স্মরণীয় হয়ে থাকবেন বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।
জাকির হোসেন নবাবের বয়স হয়েছিল ৫৮ বছর। স্ত্রী, এক কন্যা ও এক পুত্র সহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন এবং সহকর্মী-সহযোদ্ধা রেখে গেছেন। এহেন হত্যাকাণ্ডে শোক জানানোর ভাষা জানা নেই, তবুও আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমার গভীর সহানুভূতি জানাচ্ছি এবং শহীদ জাকির হোসেন নবাবের পরিবারের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।
আমি বিশ্বাস করি, জাকির হোসেন নবাবদের আত্মত্যাগ ও রক্ত বৃথা যেতে পারে না। একদিন সকল নিরপরাধ মানুষের হত্যার ন্যায়বিচার অবশ্যই বাংলাদেশের মাটিতে হবে। ইনশাল্লাহ।
আমি শহীদ অ্যাড. জাকির হোসেন নবাবের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
আঁধার কেটে ভোর হোক
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
www.albd.org
৩ নভেম্বর, ২০২৬
