সাবস্ক্রাইব
সর্বশেষ খবরের সাথে আপডেট থাকুন।
Author: JoyBangla Editor
সুজিত কুমার দত্ত বিশ্বভারতীর প্রাচীন ভারতীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের তদানীন্তন অধিকর্তা অধ্যাপক ডঃ সুধাকর চট্টোপাধ্যায়কে একদিন ডেকে সৈয়দ মুজতবা আলী কিছুটা উপদেশের সুরে বললেন– ভাই, দ্যাখ, প্রাচীন ভারতের ইতিহাস নিয়ে কাজ করিস মহাভারতটা খুব ভালো করে পড়বি। আর নীলকণ্ঠের টীকাটাও পড়িস। পৃথিবীর বহু দেশে থেকেছেন তবে কলকাতার প্রতি হৃদয়ের টান অনুভব করতেন। খুব বই পড়তে ভালোবাসতেন, তাই দ্বিধা না রেখেই মুজতবা আলী বলতেন যে শহরে কলকাতার মতো পাবলিক লাইব্রেরী নেই, সেই শহরে উনি কোনও অবস্থাতেই থাকতে পারবেন না। সৈয়দ মুজতবা আলী সাহিত্য অ্যাকাডেমি পাননি, রবীন্দ্র পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য মনে হয়নি সংকীর্ণমনা বিচারকদের। কিন্তু তিনি বাঙালি পাঠকের অবিশ্বাস্য ভালোবাসা পেয়েছেন।…
“যে ছাত্রছাত্রীরা জেনে যায় তারা শিক্ষককে কলার ধরে পদত্যাগ করাতে পারে তারা ভবিষ্যতে আর যাই করতে পারুক পড়ালেখা করতে পারবে না। ওটা তাদের হবে না।” আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারকে আমরা সবাই চিনি। তিনি বিশ্বসাহিত্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ভ্রাম্যমান লাইব্রেরির উদ্যোক্তা। ১৯৯০ এর দিকে বাংলামটরে অবস্থিত বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের তরফে পাঠচক্রের আয়োজন হত। বই পড়া প্রতিযোগিতা হত। আমি নিজে তাতে অংশগ্রহন করেছি। মাত্র ২২ বছর বয়সে প্রথমে মাস তিনেক বেসরকারি মুন্সিগঞ্জ হরগঙ্গা কলেজ এবং পরে রাজশাহী সরকারি কলেজে শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন ১৯৬২ সালে। ৩০ বছর পর স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন। তাঁর শিক্ষকতা জীবনের নানা স্মৃতি নিয়ে ১৯৯৯ সালে…
প্রতুল মুখোপাধ্যায় আর নেই। প্রিয় শিল্পীর প্রয়াণে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা। তাঁর অন্তিম যাত্রা শান্তিময় হোক। ১৯৪২ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ জুন অবিভক্ত বাংলার বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন প্রতুল মুখোপাধ্যায়। ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে দেশভাগের সময় সপরিবারে পাড়ি জমান ভারতে। ছোটবেলা থেকেই নিজের লেখা গানে সুর দিতেন। তার অসংখ্য গানের মধ্যে ‘আমি বাংলায় গান গাই’ গানটি তাকে বিশেষভাবে পরিচিত করে তোলে শ্রোতামহলে। কবি মঙ্গলচরণ চট্টোপাধ্যায়ের ‘আমি ধান কাটার গান গাই’ কবিতা দিয়ে শুরু। নিজেও গান লিখতেন। অথচ প্রথাগত কোনও সঙ্গীতশিক্ষা তিনি নেননি। নিজের হৃদয় নিঃসৃত আবেগকেই সুর ও কথার মেলবন্ধনে বেঁধে ফেলতে শিখেছিলেন। তাঁর কণ্ঠে ‘আমি বাংলায় গান গাই’ আজও মুখে মুখে ফেরে। পাশাপাশি, ‘ডিঙা…
শনিবার ১৫ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টায় চাঁদপুরস্থ গ্র্যান্ড সিটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার প্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করেন চর্যাপদ একাডেমির মহাপরিচালক অ্যাডভোকেট রফিকুজ্জামান রণি। এসময় তিনি বলেন, দুই বছরের পুরস্কার এক সঙ্গে প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা। ২০২৩-এ কবিতায় আশরাফ আহমদ, কথাসাহিত্যে নাহিদা আশরাফী, গবেষণা সাহিত্যে হাসান আলী, সংগীতে শহীদুল্লাহ ফরায়জী, চারুকলায় মোহাম্মদ আজাদ হোসেন। ২০২৪-এ কবিতায় হোসেন দেলওয়ার, সংগীতে মিল্টন খন্দকার, শিশুসাহিত্যে হাসনাত আমজাদ, সংগঠনে গৌরাঙ্গ সাহা, বিপ্লব ও গণমিছিলের কণ্ঠস্বর বিভাগে রকিব লিখন পেয়েছেন চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার। একাডেমির সভাপতি আয়েশা আক্তার রুপার সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব শিউলী মজুমদার, সহকারী পরিচালক ফেরারী প্রিন্স, নির্বাহী পরিচালক আইরিন সুলতানা লিমা,…
পাভেল রহমান সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়ার পরও ‘একদল ব্যক্তির হুমকির মুখে’ স্থগিত হলো ‘ঢাকা মহানগর নাট্য উৎসব’। নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে উৎসব স্থগিতে বাধ্য হওয়ার কথা জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর নাট্য পর্ষদের আহ্বায়ক ঠান্ডু রায়হান। তিনি গণমাধ্যকে বলেন, “অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে, সকলের নিরাপত্তার কথা ভেবে আমাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও ভালোবাসায় আয়োজন করা প্রাণের নাট্যোৎসব আপাতত স্থগিত ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছি।” শনিবার বিকাল ৫টায় ঢাকার নাটক সরণির মহিলা সমিতি মিলনায়তনে এই উৎসব উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল। সন্ধ্যায় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ মঞ্চস্থ হওয়ার কথা ছিল। উৎসবের তিনটি পর্যায়ে একটি করে নাটক মঞ্চস্থ করার কথা ছিল ৮৫টি নাট্যদলের। আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলে জানা…
২০১৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহের ত্রিশালে একটি সুপরিকল্পিত হামলায় সশস্ত্র একটি দল কারাগারের ভ্যান আক্রমণ করে এবং তিনজন দণ্ডিত জেএমবি জঙ্গিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। মুখোশধারী ১০-১৫ জনের এই দলটি গুলি চালিয়ে ও ককটেল নিক্ষেপ করে, যার ফলে এক পুলিশ কনস্টেবল নিহত হন। এ ঘটনার পর ছয়জন জেএমবি সদস্য—গোলাম সারোয়ার রাহাত, আজমির, আল-আমিন, জাকারিয়া, রাসেল এবং সৈয়দ জিয়াউল ইসলাম—এই সন্ত্রাসী অপহরণ পরিকল্পনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন। অত্যন্ত উদ্বেগজনকভাবে, এই জঙ্গিদের একজন, জেএমবি সদস্য গোলাম সারোয়ার রাহাত, আজ তথাকথিত ‘আয়নাঘর’ সফরের সময় ইউনুসের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। Another clear indication of Yunus’s ties with jihadists: On February 23, 2014, a well-coordinated…
মনজুর চৌধুরী ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। ফোনে ঘুম ভাঙলো। ইন্টারন্যাশনাল কল। বুক ধক করে উঠে। অসময়ে ইন্টারন্যাশনাল কল মানেই দুঃসংবাদ!ফোন রিসিভ করলাম। ওপাশ থেকে সুইডিশ উচ্চারনে ইংলিশ শোনা গেল। মেয়েলি কন্ঠ।“হ্যালো, মঞ্জুর চৌধুরী বলছেন?”“জ্বি।”“আমি সুজানা স্মিথ, নোবেল কমিটি থেকে বলছি।”“কি বেল থেকে বলছেন?”“নোবেল। ইউ নো, ইন্টারন্যাশনাল পুরস্কার, যা পেলে মানুষ ধন্য হয়ে যায়।”“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অমর্ত্য সেন আর ড ইউনুস যেটা পেয়েছেন, সেটা?”“জ্বি।”“শেখ হাসিনা যেটা পাননি, সেই নোবেল?”“এইতো ধরতে পেরেছো।”“ফোন রাখ গাঞ্জাখোর!” ধমক দিয়ে ফোন রেখে দিলাম। নোবেল কমিটি আমার কাছে ফোন করবে কোন সুখে? নিশ্চই স্ক্যাম। বলবে, “তোমাকে আমরা নোবেল দিব, কিন্তু সেজন্য ফি হিসেবে পাঁচ হাজার ডলার এডভান্স দিতে হবে।” আজকাল…
ইতিহাস: প্রেম, পুরাণ, পৌত্তলিক রীতি ও সংস্কারের মিশেল এস এ সবুজ কালের অতল গহ্বরে, যখন রোম ছিল দেবতা ও রাজাদের নগরী, তখনই জন্ম নিয়েছিল এক অদ্ভুত উৎসব— লুপারকালিয়া। প্রতি বছর ১৩ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি, রোমান তরুণেরা ছুটে বেরোত নগরের পথে, হাতে থাকত বলিদান দেওয়া ছাগলের চামড়া। সেই চামড়া দিয়ে তারা ছুঁয়ে দিত নারীদের, বিশ্বাস করত— এ ছোঁয়া নারীর গর্ভকে করবে উর্বর, মাতৃত্ব দেবে আশীর্বাদের ছোঁয়া। লাল রঙে রাঙানো ছিল এই উৎসবের প্রতীক। লাল মানে রক্ত— প্রাণের প্রতিশ্রুতি, উর্বরতার অগ্নিশিখা, বন্য উন্মাদনার রং। দেবতা লুপারকাস বা ফাউনাস, যিনি ছিলেন প্রকৃতির রক্ষক, তিনিই ছিলেন এই উৎসবের কেন্দ্রে। বলিদানের ছাগল ও কুকুরের রক্ত…
আলী আকবর তাবাই বাঙালিকে সংস্কৃতি জ্ঞান দিতে যেয়ে আপনি ‘ভ্যালেন্টান ডে’-কে ‘তামাশার ডে’ আখ্যায়িত করেছেন এবং দিবসটি বর্জন করতে বলেছেন! ভালবাসা মানুষ নানাভাবে প্রকাশ করতে পারে- কবিতা, গানে, উপন্যাসে। তাতে অন্যের ক্ষতি না হলে সমস্যা কোথায়? ‘ভালবাসা দিবস’ হঠাৎ আপনার মত নারীবাদীকে বিব্রত করলো কেন? মৌলবাদীদের খুশি করাই কী আপনার লক্ষ্য? ২০১৭ সালে আপনার বহুরূপী স্বামীর অপহরণ নাটকের কথা কী মনে পড়ে? সেই নাটকে পাত্র পাত্রীর ভেতর আপনিও একজন ছিলেন! নাটকের মূল চরিত্র ভুক্তভোগী অর্চনা রাণীর পরিণতির কথা আপনি ভুলে গেলেও বাঙালি কিন্তু ভুলেনি। আসুন ২০১৭ সাল থেকে একটু ঘুরে আসি। সে বছর ৩ জুলাই ভোরে শ্যামলীর বাসা থেকে ফরহাদ…
কৌশিক মজুমদার বাঙালী ঠিক কবে থেকে ভালবাসতে শিখল? আর তা খুঁজতে গিয়েই যা দেখলুম, তাতে একগাল মাছি। বাঙালী এই হালে ভালবাসতে শিখেছে। প্রাচীন যুগ তো বাদই দিন মশাই, এমনকি মধ্য যুগেও বাঙালী ভালবাসত না। খেয়াল করবেন এতজন বৈষ্ণব কবি এত এত লাইন প্রেমের কবিতা লিখে মন আর চোখ ভরালেন, তাঁদের একজনও একটি লাইনেও ” ভালবাসা” শব্দটা লিখলেন না!!!তবে তাঁরা কি লিখতেন? লিখতেন মূলতঃ প্রেম, প্রীতি আর তাঁর চেয়েও বেশী ” পিরীতি”। চণ্ডীদাস লিখেছেন,”কালিয়া প্রেমের মধু” কিংবা” আমি তো দুঃখিনী, কুলকলঙ্কিনী/ হইনু করিয়া প্রীত” অথবা” আপন সুখেতে করে যে পিরীতি/ তাহারে বাসিব পর”।শেষ বাক্যটা মনে রাখবেন পিরীতির সঙ্গে “বাসিব” শব্দটাও আছে।…