।। আলি শরিয়তি উবাচ।।
সোনার বাংলায় আজ শ্মশানের আতঙ্ক। ঘর থেকে বেরিয়ে অক্ষত ফিরে আসার আশা নাই। তথাকথিত জুলাই কর্মীদের চক্ষুশূল হলে তো কথাই নেই। জান নিয়ে চলা ভীষণ বিপদের। পদে পদে যেন মৃত্যু ওঁৎ পেতে আছে জনপদে জনপদে। মহানগর থেকে গ্রাম, সর্বত্র এক হিমধরা ভয় গ্রাস করেছে বাংলাদেশকে। এক বছর আগেও যে দেশকে বিশ্ববাসী প্রবৃদ্ধির বিস্ময় হিসেবে সমীহের চোখে দেখত, মাত্র নয় মাসের ধ্বংসযজ্ঞে দখলদার ড. ইউনূস সেই দেশকে আফগানিস্তান, ইরাকের গন্তব্যে নিয়ে যাচ্ছেন।
যেই ম্যাজিকের মরীচিকার পেছনে দেশের তরুণ, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের তিনি চালিত করেছেন তাদের চোখে আর স্বপ্ন নেই। ধূসর অন্ধকার গ্রাস করছে তাদের ভবিষ্যতকে।
থেমে গেছে নারীর অদম্য অগ্রযাত্রা। নারীরা ভয়কে সঙ্গী করে পথ চলে। ইউনূসের সহযোগী দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য হিসেব দিয়েছেন, গত নয় মাসে ১৮ লাখ নারী চাকরী হারিয়েছে। নারী নির্যাতনের সংখ্যা বেড়েই চলছে। বাংলাদেশের গরীব নারীদের কথা বলে প্রচারণা ও বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ইউনূস বৈশ্বিক পরিচিতি জোগাড় করলেও অবৈধভাবে ক্ষমতায় আরোহন করেই তার মুখোশ খুলে ফেলেন। তার পৃষ্ঠপোষকতায় এবং ধর্মাশ্রয়ী রাজনৈতিক অপশক্তির ইন্ধনে প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের টার্গেটে পরিণত হয়েছে দেশের নারী সমাজ। ধর্মকে ব্যবহার করে নারীদের পাশাপাশি টার্গেট বানানো হল দেশের হিন্দুসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে।
ড. ইউনূসের উচ্চারিত ‘মেটিকুলাস প্ল্যানের’ জুলাই-আগস্টের রক্তক্ষয়ের পর সবুজ বাংলাদেশের জমিনে লাল রক্তের হোলিখেলায় মেতে উঠল প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি ও স্বাধীনতাবিরোধী চক্র। মবসন্ত্রাসের আড়ালে দেশে নৈরাজ্য ও রাজত্বের জাল বিস্তার করে স্বাধীনতাবিরোধীসহ তথাকথিত জুলাই কর্মীরা। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী-সমর্থক ছাড়াও প্রগতিশীল সাধারণ মানুষ হয়ে ওঠে তাদের মবসন্ত্রাসের শিকার। ভূলুন্ঠিত হয় মৌলিক অধিকার। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মানবাধিকারের কথা সুদূর পরাহত। এ কোন বাংলাদেশ দেখছে আজ মানুষ!
গরীবের পেটে ভাত নেই, তারুণ্যের চোখে স্বপ্ন নেই, নারীর চোখে অশ্রু, কৃষকের ফলন মাঠে মরছে, শ্রমিকের চাকরি নেই, চাকরি আছে তো-মজুরি নেই, পেশাজীবীরা বিভ্রান্ত, সরকারী কর্মচারীরা মবসন্ত্রাসের শিকার। পণ্যের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে কৃষক আত্মহত্যা করছে। মিল-কারখানা বন্ধ হওয়া থামছে না এবং বেকার শ্রমিকের সংখ্যাও বেড়ে চলছে। মানুষ বলছে- তারা মগের মুল্লুকের কথা শুনেছে, কিন্তু এখন দেখছে মবের মুল্লুক। পণ্ডিতেরা বলছেন, এর নাম মবোক্রেসি। মানুষ যাবে কোথায়? নিরাপত্তা নেই, পুলিশ বাহিনীকে হত্যা-মামলা-চাকুরিচ্যুতির মতো ভয়াবহ খড়গের নিচে আক্ষরিক অর্থেই অক্ষম বাহিনীতে পরিণত করা হয়েছে।
খুন, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ধর্ষণ বেড়েই চলেছে। বেআইনিভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে জঙ্গি ও শীর্ষ সন্ত্রাসীদের। তারা প্রকাশ্যে মহড়া দিচ্ছে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে। বিচারাঙ্গণে ঘটে গেছে নজিরবিহীন ঘটনা। মবসন্ত্রাসীরা জোর করে পদত্যাগে বাধ্য করেছে গোটা আপিল বিভাগকে। ইচ্ছেমতো আইনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে যেভাবে সন্ত্রাসী-জঙ্গিদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে, সেভাবে বন্দি করা হয়েছে আওয়ামী লীগের দেড় লক্ষাধিক নেতাকর্মীকে।
আদালত প্রাঙ্গণে মবসন্ত্রাস নিত্যকার ঘটনা। যুদ্ধাপরাধের বিচারের বদলা নিতে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাসহ নেতাকর্মীদের ফাঁসি দিতে গণহারে মিথ্যা মামলা রুজু করা হচ্ছে। বাংলাদেশ তো বটেই আধুনিক বিশ্বের ইতিহাসে এমন ঘটনা খুঁজে পাওয়া কঠিন। আওয়ামী লীগ সরকার যে জংগী সন্ত্রাসীদের বিচারের আওতায় এনেছিল তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। ছেড়ে দেয়া হচ্ছে বিচারাধীন একাত্তরের ঘাতকদের।
স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জন এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ নির্মাণের কারিগর রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করেছে। হাজার হাজার কর্মী আজ কারাগারে। আদালতে আক্রমনের শিকার হচ্ছে মানুষ। সাংবাদিকদের হত্যা মামলার আসামী করেছে, শিক্ষকদের আক্রমন ও অপমান করা হয়েছে। পুলিশদের নির্মমভাবে হত্যা করেছে এরা। এখন বেসামরিক প্রশাসনেরও মর্যাদা ক্ষুন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছে।
জনগনের মতামত ছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরের মতো গুরুত্বপুর্ণ রাষ্ট্রীয় সম্পদ তুলে দিচ্ছে বিদেশী শক্তির সাথে। মানবিক করিডোরের নামে বাংলাদেশকে জড়িয়ে ফেলছে বৈশ্বিক যুদ্ধের সাথে। এভাবে অবৈধ দখলদার ইউনুস গং আমাদের মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে হুমকীর মুখে ঠেলে। এ নিয়ে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর সাথেও সংঘাত সৃষ্টি করছে।
এরকম অসহনীয় অমানবিক পরিস্থিতিতে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বলিষ্ঠ হয়ে জনগণের ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের বিকল্প নেই। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী শাসকচক্রের নিষেধাজ্ঞাও আওয়ামী লীগকে দমাতে পারেনি। জনগনের রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ অন্যান্য প্রগতিশীল দলগুলোকে নিয়ে এদেশের মানুষের সাথে ছিল এবং থাকবে বলে বিশ্বাস করি।
অভ্যন্তরীণ আইন-শৃংখলার এমন নাজুক পরিস্থিতিতে বৈদেশিক সম্পর্কে রীতিমতো বিপর্যয় ডেকে এনেছে ইউনূস রেজিম। আওয়ামী লীগের নামের বিভিন্ন দেশের সাথে অসম চুক্তির অভিযোগ তুলেছিল, কিন্তু নয় মাসে একটি প্রমাণও হাজির করেনি বা পারেনি এবং কোন চুক্তিও বাতিল করেনি। অর্থাৎ বাংলাদেশকে মিথ্যাচারের এক স্বর্গভূমিতে পরিণত করেছে ইউনূস গং।
বাঙালি সংস্কৃতির সকল সুস্থ চর্চায় বাধা দিয়ে বন্ধ করে দিচ্ছে, মাজারগুলো ধ্বংস করে দিয়েছে। সারাবিশ্ব বলছে বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনে সরকার চ্যাম্পিয়ন হতে চলেছে। এদিকে দেশি-বিদেশি সকল বিনিয়োগ বন্ধ হওয়ায় অর্থনীতির বেহাল দশা। দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম থেমে গেছে। গত ৯ মাসে দেশের মানুষের উন্নতি না হলেও ইউনূসের নিজের শনৈ শনৈ উন্নতি হয়েছে।
দেশের মানুষের জীবন দেয়ালে ঠেকে গেছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের উপায় শান্তির নোবেল জয়ী কিন্তু বাংলাদেশে অশান্তির কারিগর মুহাম্মদ ইউনূসের শান্তিপূর্ণ প্রস্থান। বাংলাদেশের মানুষের কাছে এখন একটাই অপশন। ইউনূস হ্যাজ টু গো।
বাংলাদেশ মুক্ত হবেই, ইনশাল্লাহ।
