ঢাকা, ৫ জুন, ২০২৫ : বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ‘ফ্রি ট্রেড জোন’ স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন নাগরিক, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, যিনি রজার রহমান নামেও পরিচিত। কক্সবাজার বা টেকনাফ অঞ্চলে এই অঞ্চল গড়ে তোলার প্রস্তাব নিয়ে সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, সচিব, উপসচিবসহ বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল মার্কিন সরকারের পারস্পরিক ৩৪ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের প্রেক্ষিতে কীভাবে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়ানো যায়।
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আনতে ৫০ দিনের বেশি সময় লাগে। ফলে তাৎক্ষণিক বাজার চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সরবরাহ ঘাঁটি প্রয়োজন, যেখানে আগাম পণ্য সংরক্ষণ করে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা সম্ভব হবে। ১৬০৮ খ্রিষ্টাব্দে বৃটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাণিজ্য সম্প্রসারনের জন্য সুরাটে প্রথম ঘাঁটি করছিল, যাকে বলা হতো “বাণিজ্য কুঠি”, বৃটিশ উপনিবেশ এর শুরুটা চিল ঐ “বাণিজ্য কুঠি”র মাধ্যমে।
সূত্র মতে, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার প্রস্তাবিত এই ‘ফ্রি ট্রেড জোন’ স্থাপনের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে কক্সবাজার ও টেকনাফ অঞ্চল, যা মিয়ানমার সীমান্তের সবচেয়ে কাছাকাছি। তবে এই জায়গার নির্বাচনের পেছনে মার্কিন সরকারের প্রস্তাব রয়েছে কি না, নাকি এটি খলিলুর রহমান ও প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুসের নিজস্ব পরিকল্পনা—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এর আগে “মানবিক করিডোর” ইস্যুতে রাখাইনে আরকান আর্মির রসদ-এর জন্য টেকনাফের “শীলখালি”তে সরবরাহ ঘাঁটি করার পরিকল্পনা করেছিল সরকার। সেই একই জায়গায় “ফ্রী ট্রেড জোন” হিসাবে নির্বাচিত হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায় নাই।
বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের পরিকল্পনায় বাংলাদেশ সরকার ১০০টিরও বেশি ইকোনমিক জোন গঠনের কর্মযজ্ঞ চলমান আছে। এই প্রকল্পগুলোর প্রচারে বিডা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছেন। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য পণ্য সরবরাহ বা উৎপাদন এর জন্যই এই সকল ইকনোমিক জোন গুলো গড়ে তোলা হয়েছে। মীরেরসরাই বা আনোয়ারা’র মতো ইকোনমিক জোন বাদ দিয়ে কক্সবাজার বা টেকনাফের মতো সীমান্তবর্তী ঝুকিপূর্ন এলাকায় কেন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য “ফ্রী ট্রেড জোন” করতে হবে, এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
উল্লেখ্য, এর আগে রাখাইনে আরাকান আর্মিকে সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব হিসেবে জাতিসংঘের “মানবিক করিডোর” ধারণা ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। সেই সময় বাংলাদেশের জনগন, সেনাবাহিনী এবং অধিকাংশ রাজনৈতিক দল এর বিরোধিতা করে। পরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সেটিকে “ত্রাণ সহায়তা চ্যানেল” হিসেবে ব্যাখ্যা দিলেও জনসমর্থন আদায় করতে ব্যর্থ হন।
বিশ্লেষকদের প্রশ্ন, তাহলে কি এবার ‘মানবিক করিডোর’ প্রস্তাবের বিকল্প হিসেবে ‘ফ্রি ট্রেড জোন’ ব্যবহার করে একই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে?
