রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের জেলায় হঠাৎ করেই ১২ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করেছে অন্তর্বর্তী ইউনূস সরকার। দাবি করা হয়েছে, সাম্প্রতিক আগুন–সন্ত্রাস ও নাশকতার পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করছেন—গণতান্ত্রিক কর্মসূচির লাগাম টানতে এবং বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে দমন করতেই এই মোতায়েন।
আজ ১৪ই নভেম্বর, শুক্রবার সকালে বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানান, ঢাকাসহ আশপাশের জেলায় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১২ প্লাটুন বিজিবি মাঠে নামানো হয়েছে।
ইউনূস সরকারের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের নেতারা জানান, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কর্মসূচিতে কোটি কোটি নেতাকর্মী ও সমর্থকের অংশগ্রহণ ইউনূস সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।
তাদের ভাষ্য, অসাংবিধানিক ইউনূস সরকার রাজনৈতিক শক্তির গণতান্ত্রিক মিছিল-সমাবেশ ঠেকাতে এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুরের শাহ আলী বেড়িবাঁধ এলাকায় পার্কিং করা একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। স্থানীয়রা ধাওয়া করে দুই জনকে ধরে ফেলে; পালাতে গিয়ে একজন তুরাগ নদীতে ঝাঁপ দিলে পরে তাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে ঘোষণা করা হয়। পুলিশ একজনকে আটক করে নিয়ে যায়।
এর আগে কমলাপুর, যাত্রাবাড়ী, উত্তরা ও বসুন্ধরাসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক বাস ও গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
এ ছাড়া রাজধানীর উত্তরার জসীম উদ্দীন রোড, মৌচাক মার্কেট এবং ধানমন্ডিতে পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, যেখানে একজন সার্জেন্ট আহত হন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব ঘটনার জন্য ‘দুর্বৃত্ত শক্তি’কে দায়ী করলেও বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের অভিযোগ—এই ঘটনাগুলোকে অজুহাত তৈরি করে ক্ষমতাসীনরা রাজনৈতিক কর্মসূচি দমানোর মহড়া চালাচ্ছে।
বিজিবি মোতায়েনের পর রাজধানীতে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে, তবে রাজনৈতিক উত্তাপ কমার কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না।
