আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার পুত্র ও উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে আওয়ামী লীগকে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না দিলে দেশে ব্যাপক অস্থিরতা ও সহিংসতা দেখা দিতে পারে।
তিনি স্পষ্ট করে জানান, দলীয় নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে আওয়ামী লীগ সমর্থকেরা যেকোন মূল্যে নির্বাচন প্রতিহত করবে।
তার ভাষায়, “আমরা নির্বাচন হতে দেব না যদি আওয়ামী লীগকে বাদ দেওয়া হয়। আমাদের আন্দোলন আরও শক্তিশালী হবে… আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কিছু না করলে নির্বাচনের আগে বাংলাদেশে সহিংসতা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে, প্রতিরোধ অনিবার্য।”
সোমবার ঘোষিতব্য রায় সম্পর্কে জয় বলেন, তিনি আগেই রায়ের ফলাফল জানেন। আদালত টেলিভিশনে সম্প্রচার করবে এমন রায়ে শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করা হবে এবং সম্ভবত মৃত্যুদণ্ডও দেওয়া হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলেন, “আমরা জানি কী রায় হবে। তারা টেলিভিশনে প্রচার করবে, দোষী করবে—সম্ভবত মৃত্যুদণ্ডও দেবে।”
তিনি উল্লেখ করেন, এতে শেখ হাসিনার কোনো ক্ষতি হবে না, কারণ তিনি দিল্লিতে নিরাপদ অবস্থায় আছেন।
“আমার মাকে তারা কী করবে? তিনি ভারতে নিরাপদ। ভারত তাকে পূর্ণ নিরাপত্তা দিচ্ছে—রাষ্ট্রপ্রধানের মতো,” বলেন জয়।
তিনি আরও জানান, তিনি এবং শেখ হাসিনা বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের কারও সঙ্গে বা প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সঙ্গে যোগাযোগ নেই তাদের।
আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে জয় বলেন, দলকে রাজনীতি থেকে বাদ রেখে কোনো নির্বাচন হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। তিনি জানান, তারা রায়ের বিরুদ্ধে আপিলও বিবেচনা করবেন না, যদি না নির্বাচনের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় আসে এবং আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে যেসব বিক্ষোভ, সাটডাউন, এবং গণপ্রতিবাদ চলছে তা উল্লেখ করে জয় বলেন, এগুলো আরও বড় আকার নেবে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আন্দোলন এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে আছে এবং দলের নেতাকর্মীরা রাস্তায় নেমেছেন আরও শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে।
শেখ হাসিনার মানসিক অবস্থা সম্পর্কে জয় বলেন, তিনি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ, ব্যথিত ও ক্রুদ্ধ। এবং পরিবার হিসেবে তারা লড়াই চালিয়ে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
জয়ের কথায়, “তিনি ক্ষুব্ধ, ব্যথিত, ক্রুদ্ধ—আর আমরা সবাই দৃঢ় প্রতিজ্ঞ, প্রয়োজন হলে যেকোনোভাবে লড়াই চালিয়ে যাব।”
