মানিকগঞ্জ, ২৩ নভেম্বর ২০২৫: বাউল শিল্পী আবুল সরকারের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে জড়ো হওয়া তার সমর্থকদের উপর কথিত ‘তৌহিদি জনতা’ হামলা চালিয়েছে, যার ফলে কমপক্ষে তিনজন আহত হয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে আজ সকালে মানিকগঞ্জের কোর্ট প্রাঙ্গণে, যা পরিণত হয়েছে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া-ধাওয়িতে এবং স্থানীয় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, হামলাকারীরা লাঠি, রড এবং খালি হাতে মারধর করেছে, এবং কয়েকজন সমর্থককে লাথি মেরে কাছাকাছি পানির স্থানে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
আবুল সরকার, যিনি মহারাজ আবুল সরকার নামেও পরিচিত, গত ৪ নভেম্বর ঘিওর উপজেলায় একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ইসলাম ও সৃষ্টির সম্পর্ক নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগে দু’দিন আগে গ্রেপ্তার হন। এই অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার মামলা দায়ের করা হয়েছে, এবং একটি আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছে।
তার ভক্ত এবং সমর্থকরা আজ কোর্টে জড়ো হয়ে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানাতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তৌহিদি জনতার সদস্যরা তাদের প্রবেশে বাধা দিয়ে হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুসারে, হামলায় আহতদের মধ্যে কমপক্ষে ১০-১২ জনের মাথা ফেটে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
তারা হাসপাতালে চিকিত্সা নিতে চাইলে সেখানেও তৌহিদি জনতার লোকজন পাহারা বসিয়ে ঢুকতে দেয়নি। একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, হামলাকারীরা “একটা একটা বাউল ধর ধইরা ধইরা জ/বা/ই কর” বলে স্লোগান দিচ্ছে।
এছাড়া, আবুল সরকারের স্ত্রী এই ঘটনার পর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনা দেখে দাঁড়িয়ে ছিল, যদিও পরে তারা হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই হামলার ফলে মানিকগঞ্জে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে, এবং স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন যে এটি আরও বড় সংঘর্ষের দিকে যেতে পারে। রাজনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক কর্মীরা আবুল সরকারের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়ে প্রতিবাদ করেছেন।
এই ঘটনা বাংলাদেশে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা এবং সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও প্রকট করে তুলেছে। তৌহিদি জনতার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি, এবং পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্তের কথা বলা হয়েছে। আরও বিস্তারিত তথ্যের জন্য তদন্ত চলমান।
