নারীর পরিচয় শুধু “তুমি নারী, তুমি মমতার ভাণ্ডারী, তুমি জননী” এই চার দেয়ালের মধ্যে আটকে নেই।
শাশ্বত এই রূপ আমরা দেখেছি ঠিকই, কিন্তু আমরা ভুলে গেছি নারীর আরেক সত্য।
নারীও পারে রুদ্ররূপে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে, সত্যকে রক্ষা করতে, মাথা তুলে দাঁড়াতে।
নিজের দক্ষতা, যোগ্যতা ও কর্মস্পৃহা দিয়ে আজকের নারী সমাজে তৈরি করছে সম্মানজনক অবস্থান, ভাঙছে প্রতিটি বাঁধা, চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছে সেই সব ব্যবস্থাকে, যেখানে নারীকে শুধু সহনশীলতার প্রতীক বাজে সীমায় বেঁধে রাখা হতো।
১৯৭১-এর আগুনঝরা দিনে নারীরা শুধু ইতিহাস লেখেননি, তাঁরা ইতিহাসের বুক চিরে আগুন ছুড়ে দিয়েছেন দুঃশাসনের দিকে।
যে হাত রুটি বানাত, সেই হাতই রাইফেল ধরেছে।
যে কণ্ঠ ঘুমপাড়ানির গান গাইত, সেই কণ্ঠেই গর্জে উঠেছে জয় বাংলা।
তাঁরা পথ দেখিয়েছেন। স্বাধীনতা কখনোই পুরুষের একক লড়াই নয়, বরং সমগ্র জাতির সম্মিলিত অগ্নিঝরা পদচারণা।
শহীদ জননী, গেরিলা যোদ্ধা, তথ্য বাহক, সেবিকা-যে ভূমিকাই হোক না কেন, প্রতিটি নারীই ছিল স্বপ্নে বোনা একেকটি পতাকা।
আজকের নারী তৈরি করছে নতুন পরিচয়;
সে মমতাময়ী, সে যোদ্ধা, সে নেতা, সে পথপ্রদর্শক।
এক কথায় সে নিজেই তার শক্তির নির্মাতা।
ধিক্কার জানাই সকল নারী-বৈষম্যকারীদের।
ধিক্কার জানাই সেই মানসিকতাকে, যারা নারীকে অবমূল্যায়ন করে, অবদমিত করে রাখতে চায়।
সময়ের স্রোত বদলেছে। নারীর শক্তি, যোগ্যতা ও মর্যাদাকে যারা আজও অস্বীকার করে, ইতিহাস তাদের কোনোদিন ক্ষমা করবে না।
সালাম সেই সকল নারীদের, যাঁরা অগ্নিস্রোতের ভেতর দিয়ে সৃষ্টি করেছেন একটি স্বাধীন দেশ। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।
