ডিজিটাল স্বচ্ছতা বিধি লঙ্ঘনের দায়ে ইলন মাস্কের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্স (X)–এর ওপর ১২ কোটি ইউরো (১৪০ মিলিয়ন ডলার) জরিমানা আরোপ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট (ডিএসএ) কার্যকর হওয়ার পর এটিই প্রথম বড় ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে ব্রাসেলস ও ওয়াশিংটনের মধ্যে প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যবহারকারীর সুরক্ষা নামে ইউরোপ আসলে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে টার্গেট করছে।
দুই বছর ধরে চলা তদন্তে ইইউ তিনটি লঙ্ঘনের প্রমাণ পেয়েছে। এক্সের পেইড ব্লু চেকমার্ক ব্যবস্থা ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করে— এমন অভিযোগে ৪৫ মিলিয়ন ইউরো জরিমানা করা হয়েছে। স্বচ্ছ বিজ্ঞাপন রেকর্ড বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ায়, যা প্রতারণা বা ভুয়া রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন শনাক্তে সহায়তা করত, আরোপ করা হয়েছে আরও ৩৫ মিলিয়ন ইউরোর শাস্তি। পাশাপাশি গবেষকদের জনসাধারণের তথ্যের অ্যাক্সেস বন্ধ করে দেওয়ায় কোম্পানিকে দিতে হচ্ছে আরও ৪০ মিলিয়ন ইউরো।
জরিমানার ঘোষণা আসার আগেই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অভিযোগ করেন, এক্সকে “সেন্সরশিপে অংশ না নেওয়ার জন্যই” শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, এটি “বিদেশি সরকারের দ্বারা আমেরিকান প্রযুক্তি ও জনগণের ওপর সরাসরি আক্রমণ।” মাস্ক তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে প্রতিক্রিয়া জানান। রুবিওর মন্তব্যে তিনি লিখেছেন “Absolutely”, আর ইইউর জরিমানা ঘোষণার পোস্টে লিখেছেন “Bulls***”.
ইউরোপীয় প্রযুক্তি বিষয়ক কমিশনার হেনা ভির্কুনেন অবশ্য এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, ব্লু চেকমার্ক দিয়ে প্রতারণা, বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত তথ্য গোপন করা এবং গবেষকদের দূরে রাখা— এসবই ইউরোপের ডিজিটাল নীতির পরিপন্থী। ব্রাসেলস কেবল “ব্যবহারকারীর অধিকার রক্ষায় দায়িত্বশীলতা দাবি করছে।”
জরিমানার সিদ্ধান্তে ইউরোপে স্বস্তি দেখা গেছে। ফরাসি ডিজিটালমন্ত্রী আন লে হেনানফ একে “দারুণ ঘোষণা” বলে অভিহিত করেছেন। জার্মানির ডিজিটালমন্ত্রী কারস্টেন উইল্ডবার্গার বলেন, এটি দেখিয়ে দিয়েছে যে ব্রাসেলস নিয়ম প্রয়োগে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তবে সমালোচকদের মতে জরিমানার অঙ্ক খুবই কম। ডিএসএ অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তির পরিমাণ কোনো প্রতিষ্ঠানের বৈশ্বিক আয়ের ৬ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে— এক্সের ক্ষেত্রে যার অঙ্ক দাঁড়ায় প্রায় ৫.৯ বিলিয়ন ইউরো।
পলিটিকোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফিউচার অব টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক কোরি ক্রাইডার বলেন, “মাস্ক বাইরে হৈচৈ করবেন, কিন্তু ভেতরে ভেতরে খুশিই হবেন।”
এক্সকে ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে সংশোধনমূলক পরিকল্পনা জমা দিতে হবে। তা না হলে অতিরিক্ত জরিমানা আরোপ করা হবে। রইটার্স জানিয়েছে, কোম্পানি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। এদিকে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামসহ ১০টি বড় প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধেও ইইউর তদন্ত চলছে। বিজ্ঞাপন স্বচ্ছতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে চীনা মালিকানাধীন টিকটক আপাতত জরিমানার হাত থেকে রেহাই পেয়েছে।
ব্রাসেলস একই সঙ্গে খতিয়ে দেখছে, অবৈধ কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ এবং তথ্য বিকৃতির বিরুদ্ধে এক্স ব্যর্থ হয়েছে কি না। এসব ক্ষেত্রে প্রমাণ মিললে জরিমানার অঙ্ক আরও অনেক বড় হতে পারে।
