একদল বলছে, শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছেন! আরেকদল বলছে, জীবন বাঁচাতে শেখ হাসিনা নিরাপদ আশ্রয়ে আছেন। এর পেছনের কাহিনী অথবা ভবিষ্যৎ জানতে গতকাল সারারাত ক্যাকটাসের সাথে কথা বলছিলাম। এইমাত্র ক্যাকটাস ভাত খেয়ে তার চেয়ারে বসে ভাবছে।
বলা হয়, ( Battle of the trench) তথা খন্দকের যুদ্ধে দূর্গ তৈরি করেও কুরাইশদের আক্রমণে মুসলমানদের দূর্গ ছেড়ে পালাতে হয়েছিল। যাদের জন্য আসমান থেকে আবাবিল পাখির সহায়তা আসে, তাদের যুদ্ধের ময়দান থেকে পালাতে হয় কেন? হামরাউল আসাদ ( Hamra – Ul – asad) যুদ্ধেও মুসলমানরা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে গিয়ে আবার বীরদর্পে ফিরে এসেছিলো। শেখ হাসিনা যে আবার বীরদর্পে বাংলাদেশে ফিরে আসবেন না তার গ্যারান্টি কি কেউ দিতে পারে?
লুসিড যখন একা হয় তখন সে ক্যাকটাসের সাথে গল্প করে। মানুষের চোখ প্রায় দশ মিলিয়ন রং আলাদা করতে পারে। ক্যাকটাসের কাছে এটাই তার ঐশ্বরিক শক্তি মনে হয়। অপরদিকে কোন ঐশ্বরিক শক্তির উপর বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের মতো লুসিড বিশ্বাস করে না। লুসিড স্পষ্ট কথা ও স্পষ্ট সত্য বলতে ভালোবাসে। শেখ হাসিনা পালানোর জন্য ৪৫ মিনিট সময় পেলেও লুসিড পেয়েছিল মাত্র দুই মিনিট। এই ৪৫ মিনিটে শেখ হাসিনার পদত্যাগ পত্র আজ পর্যন্ত কেউ দেখাতে পেরেছে? শেখ হাসিনা শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত শত্রুদের কাছে মাথানত করেননি। তিনি যদি মাথা নত করতেন তবে তার পদত্যাগপত্র ওয়াকার, ইউনূস অথবা রাষ্ট্রপতির কাছে থাকতো।অথচ দেশবাসী দেখলো, ইউনূস বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪৪ (ক) ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাবলে অস্থায়ী সরকারের উপদেষ্টা হয়েছেন! ইউনূস যে স্থায়ী সরকার নয় , কিংবা তার যে কোন বৈধতা নেই তা আজ শেখ হাসিনার মতো বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ জানে।সেই ইউনূসের অনুসারীরা যখন বলে, শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছেন! তখন আমার ভীষণ রকম হাসি পায়।
এক রাতের আঁধারে আলীকে বিছানায় রেখে মুহাম্মদ আবু বকরকে নিয়ে মক্কা থেকে পালিয়ে গেছেন। কিন্তু এটাকে পৃথিবীর অধিকাংশ মুসলিম পালিয়ে যাওয়া হিসেবে মানতে নারাজ। মুসলমানদের ভাষায় এটার নাম ” হিজরত” । সেদিন নিজের জীবন বাঁচাতে মুহাম্মদ যদি পাশ্ববর্তী মদিনায় পালিয়ে না যেতেন এবং পরবর্তীতে শক্তি সঞ্চয় করে মক্কা দখল না করতেন, তবে কি ২.১০ বিলিয়ন মুসলমানদের গল্প আপনারা জাতিকে শোনাতে পারতেন? শেখ হাসিনাও নবীর মতো নিজের জীবন বাঁচাতে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। শক্তি সঞ্চয় করে বীরের মতো তিনিও বাংলাদেশে ফিরে আসবেন।এটাকে আপনি যুদ্ধের একটা কৌশল বলতে পারেন। এজন্য আপনাকে লেনিনের ” এক পা আগে দুই পা পিছে” বইটি খুব ভালোভাবে অনুশীলন করতে হবে।
১৯৯৯ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ সেনাবাহিনীর সাথে দ্বন্ধে জড়িয়ে সৌদিআরবে পালিয়ে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি আবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। এসব গল্প আমাদের নিজের চোখের দেখা। হাইতির জিন – ব্রার্টান্ড – অ্যারিস্টাইদ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পালিয়ে গিয়ে ফিরে এসে আবার রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতার মালিক হয়েছেন। শেখ হাসিনা আর উগান্ডার ইদি আমিন এক বিষয় নয়। শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর কন্যা ।ভারতে ছয় বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে তিনি দেশে ফিরে এসে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন।২০০৭ সালেও তিনি দেশে ফিরে এসে কারাবরণ করে পরবর্তীতে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ভোট ও আসনে বঙ্গবন্ধুর যোগ্য উত্তরসূরী হয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। ইতিহাস জানা না থাকলে শিখে নাও পঙ্গপালের দল।
ভারতীয় লেখক দীপ হালদার , জয়দীপ মজুমদার ও বাংলাদেশের শহীদুল হাসান খোকন মিলে লিখেছেন, ” ইনশাল্লাহ বাংলাদেশ: দ্য স্টোরি অফ আনফিনিশড রেভ্যুলেশন” । এই বইয়ে স্পষ্ট উল্লেখ আছে, ” গণভবনে আক্রমণের ২০ মিনিট পূর্বে দুপুর ১ টা ৩০ মিনিটে শেখ হাসিনার কাছে ভারতীয় এক শীর্ষ কর্মকর্তার একটি ফোন কল আসে।যাতে বলা হয়,
” You must live to fight another day.” অর্থাৎ আপনাকে লড়াইয়ের জন্য আরো একদিন বাঁচতে হবে।”
এটা ছিল ভারতীয় শীর্ষ কর্মকর্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ মেসেজ।
দিল্লীর হিন্দন বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী না হলে কি শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাতেন ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোবাল ? শুধু তাই নয় ভারতের গুরুত্বপূর্ণ লোধি গার্ডেন বাংলোতে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা দিয়ে শেখ হাসিনার দেখবাল করছে ভারত সরকার। এরপরও একদল আহম্মকের বানর লাফ দেখে ইউনূসের চেহারায় স্বর্গে থাকা ইয়াহিয়া ও আইয়ুব খানের ছবি ভেসে উঠে। এরপরও একদল উন্মাদ বুঝে না, ” এই দিন দিন নয়, আরো দিন আছে।
মাত্র দুটো স্যুটকেস হাতে থাকা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে বহন করেছিলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার। সেখানে থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর C -170J বিমানে করে শেখ হাসিনা ভারতের হিন্দন বিমানবন্দরে অবতরণ করেছেন। এরপরও যেসব আহম্মক পালিয়ে যাওয়া বলে এরা আসলে আন্তর্জাতিক মানের গর্দভ ছাড়া আর কিছুই নয়।
শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমানের জিওলোকেটার সিস্টেম ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে দিয়েছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পাইলট।লকহিড সি ১৩০ হারকিউলিস উড়োজাহাজের ককপিট ও ঢাকার এডিসির মধ্যে যে রেকর্ডিং পাওয়া গেছে তাতে স্পষ্ট কতোটা নিরাপত্তা দিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিমানে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেছেন।এছাড়া এটিসি থেকে ফ্লাইট এজেএক্স ১৪৩১ এর যে প্রোগ্রেস স্ট্রিপের অনুলিপি আছে তাতে এটা সম্পূর্ণ স্পষ্ট যে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্পূর্ণ নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশ থেকে ভারতে অবতরণ করে দিয়ে আবার বাংলাদেশে ফিরে এসেছেন। শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমান ভারতের ছিলো না, এটা ছিলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিমান। এতটুকু বুঝার মতো মগজ যেসব গর্দভদের মাথায় থাকে না, তাদের আপনি কীভাবে বুঝবেন ?
ভারতে জরুরি অবস্থার পর ক্ষমতা হারালেও পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। নেপালের শের বাহাদুর দেউবা ক্ষমতাচ্যুত হয়েও আবার নেপালের রাষ্ট্রপ্রধান হয়েছেন। শ্রীলঙ্কা থেকে পালিয়ে যাওয়া রাজা পাকসে পুনরায় শ্রীলঙ্কায় ফিরে এসেছেন। নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ওলি আবার নেপালের ফিরে এসেছেন। শেখ হাসিনাও তার পিতার স্বাধীন করা বাংলাদেশে ফিরে আসবেন।এসব বুঝার জন্য নষ্ট্রাদামুসদের প্রয়োজন একবারে নেই। শেখ হাসিনা যখন ইচ্ছা হয় তখন তার মাতৃভুমিতে ফিরে আসবেন।এই ফিরে আসা ঠেকানোর ক্ষমতা কারোই নেই।থাকসিন সিনওয়াত্রা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তার মেয়ে পেতাংতার্ন সিনাওয়াত্রা যেভাবে ২০২৪ সালে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন সেভাবে শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় অথবা পুতুল কিংবা টিউলিপ , ববি অথবা শেখ রেহানা যে কেউ আগামীর বাংলাদেশে নেতৃত্ব দিবেন। আজ নয়তো কাল শেখ হাসিনাও পিতার অসমাপ্ত মুক্তিযুদ্ধ সমাপ্ত করে বাংলাদেশে ফিরবেন।এসব বুঝার জন্য কোন রকেট সায়েন্সের দরকার নাই। শেখ হাসিনা যেভাবে সসম্মানে ভারতে গিয়েছেন, সেভাবেই সসম্মানে বাংলাদেশে ফিরবেন। It’s reality. History must repeat itself.
ক্যাকটাস – একটি বিদ্যালয়। সত্য সবসময় সুন্দর
লুসিড ড্রিম ০৫-১২-২০২৫
