যারা বলছেন, ‘ওসমান হাদীর যে রকম রাজনীতিতে বিশ্বাস করুক না কেন এ জন্য তাকে কেউ হত্যা করার বৈধতা পেয়ে যায় না’ তারা কি কেউ এই দেড় বছরে ওসমান হাদী ও তার সঙ্গী-সাথীদের ভয়ে এই কথাটা অন্যদের বেলায় বলতে পেরেছিলেন?
একটা দেশের ইতিহাসের সাক্ষী স্থাপনা যারা ধ্বংস করে তারা রাজনৈতিক বিশ্বাসে ফ্যাসিবাদের অনুসারী। হাদীকে গুলি করেছে কে, কারা করতে পারে, কারা কারা এখন খুশি হয়েছে, কারা ট্রল করছে সে হিসেব পরে হবে। হাদীর বাক স্বাধীনতা, তার নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত হওয়াটাই আজকের বাংলাদেশে সুশীলতার একটি নিকৃষ্ট উদাহরণ। কেননা আপনি তাহলে গত দেড় বছরের এই হাদীদের হাতে পুরো রাজনীতির যে স্টাকচার সেটি যে ভেঙে পড়েছিল, আইন আদালত যে উঠে গিয়েছিল, যে কোন বাড়ি প্রতিষ্ঠা চাইলেই তারা আগুন দিতে পারে- যে কাউকে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ করেছে বলেই মেরে ফেলতে পারে, ছাত্রত্ব বাতিল হতে পারে, সম্পত্তি দখল হয়ে যেতে পারে- এই পরিস্থিতি চলমান থাকার পর আপনি হাদীর সুস্থভাবে নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের পরিবেশ আশা করতে পারেন? আপনারা আসলে রাজনীতি সমাজনীতি কিছুই বুঝেন না!
বাংলাদেশ শেষ হয়ে গেছে ৫ আগস্ট। শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে বলেই এটা বলছি মনে করে মার্ক করলে আমার লেখা পড়ার দরকার নেই। একটা সরকার পড়ে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। অভ্যুত্থান বাংলাদেশে নতুন হয়নি। চোখের সামনে নেপালে হয়েছে। কোথাও রাষ্ট্র ভেঙে পড়েনি। তথাকথিত তারুণ্যে নামে একদল অসভ্য ইতর আনকালচার সোসাইটির কিশোর গ্যাংদের হাতে রাজনীতি তুলে দিলে যা হবার তাই হবে। পাকিস্তানের মত গাড়িবোমা হবে, আততায়ী হামলা হবে, থানা লুটের অস্ত্রগুলো কোথায়? সেগুলো কি নিজে থেকে বুলেট ছুড়ছে নাকি মেশিনম্যান এসাইনমেন্ট পেয়েছে?
বৈষম্য বিরোধী নামের যে সংগঠন আছে, এনসিপি, জামাত শিবির, ইনকিলাব মঞ্চসহ আরো গজিয়ে উঠা মব সংগঠন এদের সকলকে নিয়ন্ত্রণ ও বিচারের আওতায় না আমলে এই সহিসং রাজনীতি বন্ধ হবে না।
।।সুষুপ্ত পাঠক।।
