১৬ ডিসেম্বর ২০২৫: মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা এক বাণীতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন।
বাণীতে শেখ হাসিনা বলেন, “আজ ১৬ই ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। দীর্ঘ নয় মাস আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধে সর্বোচ্চ ত্যাগের পথ ধরে জাতি বিজয় অর্জন করে।”
তিনি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন জাতির পিতা, জাতীয় চার নেতা, মুজিবনগর সরকারের সদস্যবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ৩০ লাখ শহীদ ও নির্যাতিত মা-বোনদের।
বিজয়ের গৌরবের পাশাপাশি তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ১৯৭১-এর পরাজিত শক্তি আবার উদ্যত হয়েছে। ছাত্রদের ব্যাবহার করে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নামে প্রতারণা করে তারা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছে। গত ৫ আগস্ট থেকে বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়িতে আগুন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন ভাঙচুর, স্বাধীনতা জাদুঘর লুণ্ঠন এবং বধ্যভূমি-স্মৃতিস্তম্ভ ধ্বংসের মতো ঘটনা ঘটেছে।
গত প্রায় ১৭ মাস ধরে দেশে নৈরাজ্য চলছে, যার লক্ষ্য মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চিহ্নকে নিশ্চিহ্ন করা। মুক্তিযোদ্ধাদের উপর আক্রমণ, জাতির পিতার বিরুদ্ধে কুৎসা এবং যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তি দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মকে ‘নিকৃষ্টতম প্রজন্ম’ হিসাবে পরবর্তী প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে।
শেখ হাসিনা দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন
“১৬ই ডিসেম্বরের বিজয়ের চেয়ে বড় কোন গৌরব নেই। যত দুঃসময়ই হোক, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আঁকড়ে ধরুন। পরাজিত শক্তিকে আমরা আবার পরাজিত করবো। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আবার বিজয় আসবে।”
তিনি কবিতার লাইন উল্লেখ করে বলেন,
“হারানো বাংলাকে আবার তো ফিরে পাবো, অন্ধকারে পূবাকাশে উঠবে আবার দিনমণি।”
তিনি বাংলাদেশের আপমর জনমানুষকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। আঁধার কেটে ভোর হোক, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”
এই বাণী বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে দেশের রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, প্রতিহিংসা, বিরুদ্ধমতকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলার মতো উন্মত্ত পরিস্থিতিতে আশার সঞ্চারের সৃষ্টি করবে, অনুপ্রাণিত করবে এই জনপদের মানুষকে মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাঁথা ও স্মৃতিচিহ্নকে আঁকড়ে ধরে ঘুরে দাঁড়ানোর।
