বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে পাকিস্তানপন্থী সেনা কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত শীর্ষ এক জেনারেলকে সশস্ত্র বাহিনী থেকে সরিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে। ২২ ফেব্রুয়ারি রবিবার দুপুরে সেনাসদর থেকে এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করা এ আদেশ সম্পর্কে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের বর্তমান প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান সেনাবাহিনীতে পাকিস্তানপন্থী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত।
মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের প্রিয়ভাজন হয়ে সেনাবাহিনীর অনুমতি না নিয়েই পাকিস্তানে গিয়ে একাধিক গোপন চুক্তি করে এসেছিলেন তিনি।
গত বছরের জানুয়ারীতে পাকিস্তান সফরে গিয়ে জেনারেল কামরুল বাংলাদেশ-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সামরিক সহযোগিতা নিয়ে একাধিক ‘গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা’ করে বলে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বরাতে দাবি করেছিল সেদেশের সাংবাদমাধ্য।
সেসময় চিনা সহযোগিতায় পাকিস্তানে নির্মিত যুদ্ধবিমান জেএফ-১৭ থান্ডার কেনার বিষয়েও পাক সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটি (সিজেসিসি)-র চেয়ারম্যান জেনারেল সাহির শামশাদ মির্জার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সামরিক প্রতিনিধিস্তরের বৈঠকে আলোচনা হয়।
এবার ইউনূস সরকারের বিদায়ের পরে লে. জেনারেল এস এম কামরুলকে সরিয়ে তার পরিবর্তে নতুন প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিস হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মেজর জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান। এর আগে তিনি ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ছিলেন।
অন্যদিকে ইউনূস সরকারের প্রিয়ভাজন না হওয়ায় সিনিয়র হওয়া স্বত্বেও পদবঞ্চিত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইনুর রহমান হয়েছেন সেনাবাহিনীর সেকেন্ড ইন কমাণ্ড।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ লে. জেনারেল মিজানুর রহমান শামীমের অবসরের পরে শূণ্য থাকা পদে নতুন নিয়োগ পেয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইনুর রহমান। এর আগে তিনি আর্টডকের জিওসি ছিলেন।
এ ছাড়া মেজর জেনারেল জে এম ইমদাদুল ইসলামকে ৫৫ পদাতিক ডিভিশন থেকে ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টারে বদলি করা হয়েছে। আবার ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল ফেরদৌস হাসানকে ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি করা হয়েছে।
দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে কর্মরত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. হাফিজুর রহমানকে মেজর জেনারেলে পদোন্নতি দিয়ে ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি করা হয়েছে।
