এর পরিণতি কী দাঁড়াতে পারে? যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার এই প্রচেষ্টায় মনে হচ্ছে তারা সবরকম সবকিছুই করবে। কিন্তু যদি এটা ব্যর্থ হয়, তাহলে কী হবে?
এখানে অনেক হিসাবই গড়মিল হতে পারে। একভাবে না একভাবে এটা ব্যর্থ হবেই, কারণ বিশ্বের মাত্র ৪ শতাংশ মানুষ পুরো বিশ্ব শাসন করতে পারে না।
আমি সম্প্রতি ১৮৯৭ সালে ব্রিটিশ উপনিবেশ দপ্তরের প্রধান জোসেফ চেম্বারলেইনের একটা ভাষণ পড়লাম। তিনি বলেছিলেন, ব্রিটেন যতদূর চোখ যায় ততদূর পর্যন্ত বিশ্ব শাসন করবে। অথচ মাত্র ৫০ বছর পর ব্রিটিশ সাম্রাজ্য আর ছিল না।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও একই পরিণতি ঘটবে। প্রকৃত অর্থে এটা বৈশ্বিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা না, বরং এক ধরনের শেষের খেলা।
এই ধরনের যুদ্ধ—আর এই যুদ্ধ খুব সহজেই বিশ্বযুদ্ধে রূপ নিতে পারে, বিশ্বব্যাপী ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। যদি এটা পারমাণবিক পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তাহলে তো সবকিছুরই সমাপ্তি।
কেউ কেউ বলছেন, কার্যত বিশ্বযুদ্ধ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। কারণ পৃথিবীর নানা অঞ্চলে যে যুদ্ধগুলি চলছে, সেগুলি পরস্পর সংযুক্ত। এবং যুক্তরাষ্ট্র সেগুলির বহু জায়গায় জড়িয়ে আছে।
এখন বাস্তবতা হল, যুক্তরাষ্ট্রের সেই অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত বা সামরিক প্রাধান্য আর নাই, যা দিয়ে পুরো বিশ্ব শাসন করা যায়।
এবং বিশ্বের অধিকাংশ দেশই যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে থাকতে চায় না।
ইরানে স্থায়ী ও স্থিতিশীল কোনো যুক্তরাষ্ট্রপন্থী সরকার চাপিয়ে দেওয়া সম্ভব না। আমরা ১৯৫৩ সালে নাই, যখন এমআই-৬ আর সিআইএ হস্তক্ষেপ করে ইরানে একটি পুলিশি শাসন কায়েম করেছিল।
এখন পরিস্থিতি আলাদা। ইরান একটা প্রায় ১০ কোটি মানুষের দেশ, যাদের ৫,০০০ বছরের ইতিহাস আছে।
তারা বর্তমান সরকারকে সমর্থন করুক বা না করুক, বাইরের একটা শক্তি কয়েক হাজার মাইল দূর থেকে—মাটিতে সেনা না নামিয়ে নিছক প্রক্সির মাধ্যমে এই দেশ চালাবে, এটা বাস্তবসম্মত না।
যুক্তরাষ্ট্র এমন এক পরিস্থিতিতে পা দিয়েছে যার শেষ কোথায় বলা কঠিন। হয়তো আগামী কয়েক দিনে কিছু বড় ধরনের হামলা চালিয়ে সেটাকে ‘সাফল্য’ হিসেবে ঘোষণা করবে।
ট্রাম্প নিজেও খুবই অজনপ্রিয় এবং গভীরভাবে বিভাজন সৃষ্টি করা একজন নেতা। আগামী মাসগুলিতে তার সমর্থন কমবেই।
যদিও অনেক সময় যুদ্ধ বা হামলার পর সাময়িকভাবে জনপ্রিয়তা বাড়ে, আমার মনে হয় এখানে তেমনটা হবে না। কারণ আমেরিকান জনগণ শুরু থেকেই এই পদক্ষেপের বিপক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে।(অনুলিখন: সাদ রহমান, স্যোসাল মিডিয়া)
