ইউরোপভিত্তিক গবেষণা ও নীতি-সংস্থা সাউথ এশিয়া ডেমক্রেটিক ফোরাম (এসএডিএফ) বাংলাদেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সংস্থাটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি কাইসা ওলংগ্রেন-এর কাছে পাঠানো এক বিস্তারিত চিঠিতে জানায়, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত দেশটির গণতান্ত্রিক কাঠামোকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১০ই মে অন্তর্বর্তী সরকার একটি অধ্যাদেশ জারি করে আওয়ামী লীগের সকল রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। পরবর্তীতে এই নিষেধাজ্ঞা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনের মাধ্যমে সংসদে আইন হিসেবে অনুমোদন পায়।
সংস্থাটির মতে, এই পদক্ষেপ কার্যত একটি প্রধান রাজনৈতিক শক্তিকে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে সরিয়ে দেওয়ার সমতুল্য, যা গণতান্ত্রিক বহুত্ববাদ ও অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির পরিপন্থী।
সংস্থাটি আরও উল্লেখ করে, এই নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশের সংবিধানে বর্ণিত মৌলিক অধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন। বিশেষ করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার, সংগঠন গঠনের স্বাধীনতা এবং আইনের দৃষ্টিতে সমান সুরক্ষার বিষয়গুলো এতে ক্ষুণ্ন হয়েছে। তাদের মতে, রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
চিঠিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, আওয়ামী লীগের বহু শীর্ষ নেতা ও তৃণমূল কর্মী বর্তমানে আটক রয়েছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ‘মনগড়া’ বা ভিত্তিহীন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই পরিস্থিতি বিচারবহির্ভূত দমন-পীড়নের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদি আটকাদেশের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করার একটি প্রবণতা নির্দেশ করে।
এছাড়াও, সংস্থাটি উল্লেখ করে যে, এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও বাধ্যবাধকতার পরিপন্থী। বিশেষ করে নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তির বিভিন্ন ধারায় মতপ্রকাশ, সমাবেশ ও সংগঠনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে, যা বর্তমান পদক্ষেপের মাধ্যমে লঙ্ঘিত হচ্ছে।
চিঠিতে জাতিসংঘের একাধিক বিশেষজ্ঞের মতামতের কথাও তুলে ধরা হয়, যেখানে বলা হয়েছে যে, সামগ্রিকভাবে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা বা রাজনৈতিক অংশগ্রহণ সীমিত করা জনশৃঙ্খলা বা নিরাপত্তার অজুহাতে ন্যায়সঙ্গত করা যায় না। বরং এ ধরনের পদক্ষেপ গণতন্ত্রের মৌলিক ভিত্তিকে দুর্বল করে।
সংস্থাটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যেন তারা এই বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করে এবং বাংলাদেশের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বহুত্ববাদ, আইনের শাসন ও মানবাধিকারের প্রতি সম্মান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করে।
চিঠির শেষে সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রয়োজনে তারা আরও বিস্তারিত আইনি বিশ্লেষণ ও প্রাসঙ্গিক তথ্য সরবরাহ করতে প্রস্তুত রয়েছে, যাতে আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পায় এবং যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারে।
