গত ৩ এপ্রিল থেকে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ। দেশের সবচেয়ে বড় সার কারখানাগুলোর একটি এখন চুপচাপ পড়ে আছে, কারণ গ্যাস নেই। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত রেশনিং চলবে। মানে আরও দুই মাস। বোরো মৌসুমের একদম মাঝামাঝি সময়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যখন মাঠের কৃষকের হাতে সার পৌঁছানোর কথা, তখন কারখানার চিমনি ঠান্ডা।
এই সরকার ক্ষমতায় এসেছে ফেব্রুয়ারির একটি নির্বাচনের মাধ্যমে, যেখানে দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলো ছিল না, ভোটার ছিল না, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল না। ছিল শুধু ফলাফল, আগে থেকেই ঠিক করা। সেই নির্বাচনে জিতে বিএনপি যে মন্ত্রিসভা বানিয়েছে, তারা এখন দেশ চালাচ্ছে। আর চালানোর নমুনা হলো এই — বোরো মৌসুমে সার কারখানা বন্ধ রেখে কৃষকের হাতে একটা কার্ড ধরিয়ে দাও।
কৃষি কার্ডের কথা মনে আছে? বিএনপি সরকারের বড় ঘোষণাগুলোর একটি। কৃষককে ডিজিটাল সুবিধা দেওয়া হবে, কার্ডের মাধ্যমে ভর্তুকি পাবে, সার পাবে, বীজ পাবে। কিন্তু কার্ড দিয়ে তো আর জমিতে ইউরিয়া ছড়ানো যায় না। কার্ড দিলে ধান হয় না। কার্ড স্মার্টফোনের স্ক্রিনে চকচক করে, কিন্তু মাঠে গেলে সেই কার্ড দিয়ে কী করবে কৃষক, যখন সারের গুদামে তালা ঝুলছে?
জ্বালানি সংকটের কথা সরকার বলছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ পরিস্থিতির কথা বলছে। এটা সত্যি যে বৈশ্বিক সংকট আছে। কিন্তু এই সংকট তো হঠাৎ আসেনি। মাসের পর মাস ধরে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সেই সময়ে কী প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল? বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা কোথায়? গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে আগাম পরিকল্পনা কী ছিল? ২৮ মার্চের জরুরি সভা থেকে বোঝা যাচ্ছে, সিদ্ধান্ত নিতে নিতে তারা ততক্ষণ পর্যন্ত অপেক্ষা করেছে যতক্ষণে আর কিছু করার নেই।
ঘোড়াশাল পলাশে গ্যাস সরবরাহ চালু রাখার কথা বলা হচ্ছে, কাফকোতে রেশনিং হবে, শাহজালাল বন্ধ থাকবে। মানে একটাকে বাঁচাতে আরেকটাকে বন্ধ রাখো। এই হলো পরিকল্পনা। রেশনিং মানে সংকট ব্যবস্থাপনা না, রেশনিং মানে হলো যথেষ্ট পরিমাণ নেই, তাই ভাগ করে দাও।
বিএনপির ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে, এই দলটি যখনই ক্ষমতায় এসেছে, কৃষক তখন সারের জন্য রাস্তায় নেমেছে। ২০০৭ সালের আগের বিএনপি আমলে সার সংকটে কৃষকের মৃত্যুর কথা এই দেশের মানুষ ভোলেনি। সেনানিবাসের ছায়ায় বেড়ে ওঠা এই দলটির কাছে কৃষকের মাঠ কখনো রাজনৈতিক অগ্রাধিকার ছিল না, এখনো নেই। তাদের অগ্রাধিকার ছিল ক্ষমতা, আর ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য যে ভোটটা দরকার সেটা একটা লোকদেখানো নির্বাচন দিয়ে সেরে ফেলা হয়েছে।
মে মাসে গ্যাস স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা যাচ্ছে, কর্তৃপক্ষ বলছে। আশা করা যাচ্ছে। মানে নিশ্চিত না। এই “আশা”র উপর ভর করে দেশের কৃষক এখন বোরো মৌসুম পার করবে। মাঠ আছে, পানি আছে, রোদ আছে। শুধু সার নেই। আর সার না পেলে ফলন কমবে, উৎপাদন কমবে, খাদ্য নিরাপত্তা নড়বে।
কিন্তু সরকারের হাতে কার্ড আছে। ডিজিটাল কার্ড। সেটা দিয়ে প্রেস কনফারেন্স হয়, ছবি তোলা যায়, স্লোগান দেওয়া যায়। ফসল ফলানো যায় না।( আওয়ামীলীগ পেইজ)
