দীর্ঘদিন পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজপথে দেখা মিললো সেই চিরচেনা ঐতিহ্যের সংগঠন ছাত্রলীগের সাহসী পদচারণা। মঙ্গলবার সকালে দেশের সকল রাজবন্দিদের মক্তির দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল মিছিলে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো শহর। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লিমন আল স্বাধীন-এর নেতৃত্বে এই মিছিলটি কেবল একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং কর্মীদের আত্মবিশ্বাস ও শৃঙ্খলার এক অনন্য প্রদর্শনীতে পরিণত হয়।
মঙ্গলবার সকালে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করার সময় এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারী কয়েক শত নেতাকর্মীর মাথায় ছিল শুভ্র সাদা টুপি, যা তাদের ঐক্য এবং শৃঙ্খলার প্রতীক হিসেবে নজর কেড়েছে সবার। মিছিলের অগ্রভাগে বাঁশের লাঠিতে বাঁধা বিশাল জাতীয় পতাকা হাতে লড়াকু ভঙ্গিতে নেতৃত্ব দিতে দেখা যায় তরুণ ছাত্রনেতা লিমন আল স্বাধীনকে।
উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মিছিলের প্রতিটি কর্মীর চোখে-মুখে ছিল এক অবিচল দৃঢ়তা। কোনো প্রকার জড়তা বা ভয়-ডর ছাড়াই তারা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজপথে এগিয়ে গেছেন। মিছিলটি যখন শহরের প্রধান সড়কগুলো অতিক্রম করছিল, তখন এর সুশৃঙ্খল বিন্যাস দেখে সাধারণ মানুষও থমকে দাঁড়ায়। দীর্ঘ সময় পর রাজপথে ছাত্রলীগের এমন ‘বীরোচিত’ অবস্থান কর্মীদের মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।
মিছিলটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। শহরের দুই ধারের দোকানদার এবং পথচারীদের অনেককেই হাত নেড়ে মিছিলটিকে স্বাগত জানাতে দেখা গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, বহুদিন পর এত সুন্দর ও সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক মিছিল প্রত্যক্ষ করল শহরবাসী। ছাত্রলীগের এই সুসংগঠিত অবস্থানকে তারা সাধুবাদ জানিয়েছেন।
নেতাকর্মীরা জানান, লিমন আল স্বাধীনের নেতৃত্বে এই মিছিলটি প্রমাণ করেছে যে, কোনো প্রতিকূলতাই ছাত্রলীগকে তাদের আদর্শ থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না। হাতে হাত রেখে এবং দেশপ্রেমের শপথ নিয়ে তারা আগামী দিনেও রাজপথে সক্রিয় থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
শহরের সাধারণ মানুষের কাছে এই মিছিলটি কেবল একটি মিছিল ছিল না, বরং এটি ছিল একতা এবং শৃঙ্খলার এক শৈল্পিক বহিঃপ্রকাশ। ছাত্রলীগের এমন ইতিবাচক ও শক্তিশালী পদক্ষেপে জেলাজুড়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়েছে।
