বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল এক তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্যে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে—বিশেষ করে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ পুনর্গঠনে সেসব ‘ভোল পাল্টানো’ বা সুবিধাবাদী রাজনীতিকদের আর কোনো জায়গা হবে না যারা ২০২৪-এর রাজনৈতিক সংকটের সময় নিজেদের আদর্শ পরিবর্তন করেছেন।
সুবিধাবাদী রাজনীতির সমালোচনা:
ড. জাফর ইকবাল তাঁর বক্তব্যে মূলত সেইসব নেতাদের দিকে ইঙ্গিত করেছেন, যারা দীর্ঘ সময় আওয়ামী লীগের ক্ষমতার সুফল ভোগ করলেও দলের চরম বিপদের দিনে নিজেদের অবস্থান বদলে ফেলেছেন। তাঁর মতে, ২০২৪ সালের আগস্টের পরবর্তী ঘটনাক্রমে যারা দলের আদর্শ বিসর্জন দিয়ে নিজেদের রক্ষা করতে ব্যস্ত ছিলেন বা ভোল পাল্টেছেন, তাদের আর রাজনীতিতে আসার নৈতিক অধিকার নেই।
আদর্শিক রাজনীতির ডাক:
তিনি মনে করেন, একটি রাজনৈতিক দলের শক্তি তার নীতি ও আদর্শের ওপর নির্ভর করে। সুবিধাবাদীরা দলের জন্য সম্পদ নয়, বরং বোঝা। জাফর ইকবাল বলেন, “যারা ২৪-এর প্রেক্ষাপটে গিরগিটির মতো রং বদলেছেন, তাদের দিয়ে কোনো গঠনমূলক কাজ সম্ভব নয়। রাজনীতিতে শুদ্ধি অভিযান চালিয়ে কেবল ত্যাগী ও নীতিবানদেরই সুযোগ দেওয়া উচিত।”তৃণমূল ও তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা: অধ্যাপক জাফর ইকবালের এই অবস্থানকে সমর্থন জানাচ্ছেন অনেক রাজনৈতিক কর্মী। তারা মনে করছেন, সুবিধাবাদীদের কারণেই দলের ভাবমূর্তি আজ সংকটে। ড. ইকবালের মতো একজন বুদ্ধিজীবীর মুখ থেকে এমন কঠোর বার্তা রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য একটি সর্তকবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উপসংহার:
রাজনীতিতে শৃঙ্খলার প্রশ্নে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের এই অকুতোভয় বক্তব্যটি সুধী মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এটি স্পষ্ট করে যে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে কেবল ‘পাওয়ার পলিটিক্স’ নয়, বরং চারিত্রিক দৃঢ়তা এবং আদর্শের লড়াই এখন সময়ের দাবি।
