ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফেরার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে দলীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। ইতোমধ্যে তিনি
ভারত সরকারের সঙ্গে তাঁর প্রয়োজনীয় আলোচনা শেষ করেছেন এবং বাংলাদেশে ফেরার বিষয়ে নিজের ইচ্ছা ও কার্যকর পদক্ষেপ সম্পর্কে দিল্লিকে অবহিত করেছেন। সবকিছু ঠিক
থাকলে আগামী ১৫ আগস্টের আগেই তিনি দিল্লির কাছে ‘ট্রাভেল পাস’ বা ভ্রমণ অনুমতির
জন্য আবেদন করতে পারেন।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একাধিক নেতা এবং শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো
বলছে, দীর্ঘ সময় পর দেশে ফিরে আসার বিষয়ে শেখ হাসিনা এখন অনেকটাই
দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি তাঁর মনোভাবের কথা ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে
জানিয়েছেন। দলীয় প্রধানের পক্ষ থেকে তৃণমূলের সব স্তরের নেতাকর্মীদের
প্রস্তুত থাকার জন্য বিশেষ বার্তা পাঠানো হয়েছে।
ইউরোপ ও ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শেখ
হাসিনা মনে করছেন দলের এই ক্রান্তিকালে নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানো তাঁর প্রধান
দায়িত্ব। তিনি নেতাকর্মীদের সব ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তৃণমূলের প্রতি দেওয়া বার্তায় বলা হয়েছে, ‘এবারের সংগ্রাম শেখ হাসিনাকে
ফিরিয়ে আনার সংগ্রাম।’ এই লক্ষ্য নিয়ে নেতাকর্মীদের ঝাঁপিয়ে পড়ার
প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।
দলের একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “নেত্রী দ্রুততম
সময়ের মধ্যে দেশে ফিরতে চান। তিনি যেভাবে ভারতে গিয়েছিলেন, সেভাবেই বীরদর্পে
জনগণের মধ্যে ফিরে আসবেন। তাঁর ফিরে আসা উপলক্ষে বিপুল জনসমাগম করার লক্ষ্য নিয়ে
আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
এদিকে, বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া শেখ হাসিনার কথোপকথন এবং দলীয়
নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি
হতেও আগ্রহী। ১৫ আগস্টকে সামনে রেখে বিশেষ কর্মসূচি বা সমাবেশের মাধ্যমে তিনি
দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আওয়ামী লীগ প্রধানের দেশে ফেরার এই ঘোষণা মূলত
বিপর্যস্ত তৃণমূল নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার একটি কৌশল হতে পারে।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর ফিরে আসা এবং আইনি পরিস্থিতি মোকাবিলা
করার বিষয়টি অত্যন্ত জটিল বলে তারা মনে করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে ভারতে
আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। এরপর থেকেই তিনি দিল্লিতে অবস্থান করছেন। সম্প্রতি তাঁর
বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে পরোয়ানা ও রায়ের খবর এলেও,
তিনি রাজনৈতিকভাবেই এর মোকাবিলা করতে চান বলে দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে।
